Sunday, January 06, 2019

কুরআন ভাষী জনৈক মহিলার কুরআনের ভাষায় অবাক করা জবাব

কুরআন ভাষী জনৈক মহিলার কুরআনের ভাষায় অবাক করা জবাবঃ ---
পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে  


مَا يَلْفِظُ مِن قَوْلٍ إِلَّا لَدَيْهِ رَقِيبٌ عَتِيدٌ
অর্থঃ মানুষ যে কথাই উচ্চারণ করে তা লিপিবদ্ধের জন্য তৎপর প্রহরী তার নিকটেই রয়েছে। - (ছূরা ক্বাফ, আয়াত-১৮)
অর্থাৎ মানুষ যদি নেক এবং ভাল কথা বলে তবেতাও ফেরেশতাগণের মাধ্যমে লিখে রাখা হয় আর যদি মন্দ ও অন্যায় কথা বলে তবে তাও লিখে রাখা হয়। তার ভাল ও নেক কথাগুলো পরকালে তার জন্য নাজাতের উছীলা হবে এবং তার মন্দ ও অন্যায় কথাগুলো তার মুক্তির জন্য বাধা হয়ে দাঁড়াবে।
বলাবাহুল্য যবানের মাধ্যমে জিকির, তিলাওয়াত ইত্যাদি দ্বারা যেমন অপরিসীম নেকী অর্জন করা যায়, অনুরূপ এই যবানের অপব্যবহার তথা গীবত, পরনিন্দা, মিথ্যাচারিতা, শিকায়াত ইত্যাদি করার কারণে জমা হতে থাকে অসংখ্য ও অগণিত পাপরাশি।
অথচ কবিরা গুনাহ এত মারাত্মক পাপ যে, তার একটিই একজন মানুষকে জাহান্নামে নিয়ে যাওয়ার জন্য যথেষ্ট।
এ কারণেই এই যবানের হিফাজতের জন্য পবিত্র কুরআনে ও হাদীছে বারবার সতর্ক করা হয়েছে। এক হাদীছে মহানবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াছাল্লাম ইরশাদ করেন- “নিশ্চয়ই মিথ্যাচারিতা জঘন্য পাপ আর জঘন্য পাপ (মানুষকে) জাহান্নামের পথ দেখায়।” (মুছলিম)
অপর হাদিসে রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াছাল্লাম বলেন- “নিশ্চয়ই কোন কোন কথা বোঝা ও বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।” (আবুদাউদ)
নবিজী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াছাল্লাম আরো বলেন- “ঐ ব্যক্তি পরিপূর্ণ মুমিন নয়, যে অন্যকে ভর্ৎসনা করে। অনুরূপভাবে যারা অন্যকে অভিসম্পাত করে, অশ্লীল কাজ করে এবং অনর্থক কথা বলে, তারাও পরিপূর্ণ মুমিন নয়।” (তিরমিযী)
শুধু পরকালেই নয় বরং অসঙ্গত কথা বলার কারণে পার্থিব জীবনেও অনেকে ফেঁসে যায়, যার নজীর বহু রয়েছে। আবার যবানকে সঠিক ব্যবহারের ফলে অনেকে প্রভূত প্রশংসাও কুড়ায়। এ কারণেই আল্লাহ তা’য়ালার ওলী-বুজুর্গগণ সদা যবানের নিয়ন্ত্রণ করতেন। কোন অন্যায় কথা মুখ দিয়ে বেরিয়ে না যায়, সে ব্যাপারে খুবই সতর্ক থাকতেন। এমনকি ইতিহাসে এমন ঘটনাও পাওয়া যায়, যেখানে একজন নারী আল্লাহ তা’য়ালার ভয়ে কুরআন শরীফের আয়াত ছাড়াঅন্য কোন বাক্য দ্বারা কথাই বলতেন না। নিম্নের ওয়াকিয়াটি সেরকমই একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা।

হাদিস জগতের উজ্জল নক্ষত্র, খ্যাতিমা মুহাদ্দীস হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক (রহঃ)বলেন, একবার আমি হজব্রত পালন করতে যাচ্ছিলাম। সফরে পথিমধ্যে এক জায়গায় পশমের জামা ও হিজাব পরিহিতা জনৈক বৃদ্ধা মহিলাকে 
উপবিষ্ট দেখতে পেয়ে অবস্থা জানার জন্য ছালাম দিলাম। প্রত্যুত্তরে তিনি কুরআনের আয়াত পড়লেন-
ﺳَﻠَﺎﻡٌ ﻗَﻮْﻟًﺎﻣِّﻦْ ﺭَّﺏٍّ ﺭَّﺣِﻴْﻢٍ ۞
অর্থঃ ছালাম, পরম দয়ালু প্রতিপালকের পক্ষথেকে সম্ভাষণ। (ছূরা ইয়াসীন, আয়াত- ৫৮)
আমি জিজ্ঞাসা করলাম, “এখানে আপনি কি করছেন?”, বৃদ্ধা আয়াত পড়লেন-
ﻣَﻦْ ﻳُّﻀْﻠِﻞِ ﺍﻟﻠﻪُ ﻓَﻞَ ﻫَﺎﺩِﻯَ ﻟَﻪُ ۞
অর্থঃ আল্লাহ তা’য়ালা যাকে পথ হারা করেন, তার কোন পথ প্রদর্শক নাই। - (ছূরা আরাফ, আয়াত-১৮৬)
আমি বুঝতে পারলাম তিনি পথ হারিয়ে ফেলেছেন। তাই জিজ্ঞেস করলাম- “আপনি কোথায় যেতে চান?” বৃদ্ধা উত্তরে এ আয়াত তিলাওয়াত করলেন-
ﺳُﺒْﺤٰﻦَ ﺍﻟَّﺬِﻯۤ ﺍَﺳْﺮٰﻯ ﺑِﻌَﺒْﺪِﻩٖ ﻟَﻴْﻠًﺎ ﻣِّﻦَ ﺍﻟْﻤَﺴْﺠِﺪِﺍﻟْﺢِﻡﺍَﺭَ ﺍِﻟَﻰ ﺍﻟْﻤَﺴْﺠِﺪِ ﺍﻟْﺎﻗْﺼَﺎ ۞
অর্থঃ পরম পবিত্র ও মহিমাময় সত্তা তিনি, যিনি স্বীয় বান্দাকে রাত্রি বেলায় ভ্রমণ করিয়েছেন মসজিদে হারাম থেকে মসজিদে আকসা পর্যন্ত। - (ছূরা ইসরাঈল, আয়াত- ১)
আমি বুঝতে পারলাম, তিনি অতি সম্প্রতি হজ্বপালন করে এখন বাইতুল মুকাদ্দাসে যেতে চাচ্ছেন। তারপর আমি জিজ্ঞেস করলাম, “এখানে কতদিন ধরে বসে আছেন?” বৃদ্ধা কুরআনের আয়াত পড়ে উত্তর দিলেন-
ﺛَﻠٰﺚَ ﻟَﻴَﻞٍ ﺳَﻮِﻳًّﺎ ۞
অর্থঃ পূর্ণ তিন রাত্র। (ছূরা মারইয়াম, আয়াত- ১০)
বুঝলাম তিনদিন ধরে তিনি এখানে বসে আছেন। আমি বললাম, “আপনার কাছে কোন খাদ্য দ্রব্যও পানীয় দেখছি না, আপনি কি খান তাহলে?”জবাবে বৃদ্ধা কুরআনের আয়াত পড়লেন-
ﻫُﻮَ ﻳُﻄْﻌِﻤُﻨِﻰْ ﻭَﻳَﺴْﻘِﻴْﻦِ ۞
অর্থঃ তিনিই (আল্লাহ-ই) আমাকে আহার ওপানীয় দান করেন। - (ছূরা শুআরা, আয়াত- ৭৯)
আমি বললাম, “অজু কি দিয়ে করেন?” বৃদ্ধা কুরআনের আয়াত পড়লেন-
ﻓَﻠَﻢْ ﺗَﺠِﺪُﻭْﺍ ﻣَﺎۤﺀً ﻓَﺘَﻴَﻤَّﻤُﻮْﺍ ﺻَﻌِﻴْﺪًﺍ ﻃَﻴِّﺒًﺎ ۞
অর্থঃ যদি তোমরা পানি না পাও তাহলে পবিত্র মাটির দ্বারা তায়াম্মুম করে নাও। -(ছূরা মায়িদা,আয়াত- ৬)
বুঝতে পারলাম- তিনি তায়াম্মুম করে নামাজ পড়ছেন। এরপর বললাম, “আমার কাছে কিছু খাবার আছে। আপনি কি তা খাবেন?” বৃদ্ধা কুরআনের আয়াত পড়লেন-
ﺛُﻢَّ ﺍَﺗِﻤُّﻮﺍ ﺍﻟﺼِّﻴَﺎﻡَ ﺍِﻟَﻰ ﺍﻟَّﻴْﻞِ ۞
অর্থঃ অতঃপর তোমরা রাত্র পর্যন্ত রোজা পূর্ণ কর। (ছূরা বাকারা, আয়াত- ১৮৭)
বুঝলাম তিনি রোজা রাখছেন। তাই বললাম, এখন তো রমজান মাস নয়। বৃদ্ধা কুরআনের আয়াত পড়লেন-
ﻭَﻣَﻦْ ﺗَﻄَﻮَّﻉَ ﺧَﻴْﺮًﺍ ﻓَﺎِﻥَّ ﺍﻟﻠﻪَ ﺷَﺎﻛِﺮٌ ﻋَﻠِﻴْﻢٌ ۞
অর্থঃ কেহ স্বতঃস্ফূর্তভাবে কোন সৎ কাজ করলে, আল্লাহ তার পুরষ্কার দাতা, তিনি সর্বজ্ঞ। - (ছূরা বাকারা, আয়াত- ১৫৮)
বুঝতে পারলাম- তিনি নফল রোজা রাখছেন। তাই বললাম, “সফরকালে তো ফরজ রোজাও না রাখা জায়িজ আছে। আর আপনি নফল রোজা রাখছেন?” উত্তরে বৃদ্ধা কুরআনের আয়াত পড়লেন-
ﻭَﺍَﻥْ ﺗَﺼُﻮْﻣُﻮْﺍ ﺧَﻴْﺮٌ ﻟَّﻜُﻢْ ﺍِﻥْ ﻛُﻨْﺘُﻢْ ﺗَﻌْﻠَﻤُﻮْﻥَ ۞
অর্থঃ আর যদি রোজা রাখ তবে তা তোমাদের জন্য বিশেষ কল্যাণকর যদি তোমরা বুঝতে পার। - (ছূরা বাকারা, আয়াত- ১৮৪)
আমি বললাম, আপনি আমার মত স্বাভাবিকভাবে কথা বলছেন না কেন? জবাবে বৃদ্ধা কুরআনের আয়াত পড়লেন-
ﻣَﺎ ﻳَﻠْﻔِﻆُ ﻣِﻦْ ﻗَﻮْﻝٍ ﺍِﻟَّﺎ ﻟَﺪَﻳْﻪِ ﺭَﻗِﻴْﺐٌ ﻋَﺘِﻴْﺪٌ ۞
অর্থঃ মানুষ যে কথাই উচ্চারণ করে তা লিপিবদ্ধের জন্য তৎপর প্রহরী তার নিকটেই রয়েছে। - (ছূরা ক্বাফ, আয়াত-১৮)
বুঝতে পারলাম, যেহেতু মানুষের উচ্চারিত প্রতিটি কথাই সংরক্ষিত থাকে এবং হাশরের মাঠে এগুলোর হিসাব হবে তাই তিনি সতর্কতা অবলম্বন করছেন। পরে জিজ্ঞেস করলাম, “আপনি কোন গোত্রের?” বৃদ্ধা উত্তরে কুরআনের আয়াত পড়লেন-
ﻭَﻟَﺎ ﺗَﻘْﻒُ ﻣَﺎ ﻟَﻴْﺲَ ﻟَﻚَ ﺑِﻪِ ﻋِﻠْﻢٌ ۞
অর্থঃ যে বিষয়ে তোমার কোন জ্ঞান নেই, তার পিছনে পড়ো না। - (ছূরা বনী ইসরাঈল, আয়াত-৩৬)
আমি বললাম, “ভূল হয়ে গেছে, মাফ করবেন।”বৃদ্ধা কুরআনের আয়াত পড়লেন-
ﻟَﺎﺗَﺜْﺮِﻳْﺐَ ﻋَﻠَﻴْﻜُﻢُ ﺍﻟْﻴَﻮْﻡَ ﻳَﻐْﻔِﺮُ ﺍﻟﻠﻪُ ﻟَﻜُﻢْ ۞
অর্থঃ আজ তোমাদের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ নাই। আল্লাহ তোমাদের ক্ষমা করুন। - (ছূরা ইউসুফ, আয়াত- ৯২)
আমি বললাম, “আপনি চাইলে আমার উটনীতে চড়ে স্বীয় কাফেলায় মিলিত হতে পারেন।” উত্তরে বৃদ্ধা কুরআনের আয়াত পড়লেন-
ﻭَﻣَﺎ ﺗَﻔْﻌَﻠُﻮْﺍ ﻣِﻦْ ﺧَﺴْﺮٍ ﻳَّﻌْﻠَﻤْﻪُ ﺍﻟﻠﻪُ ۞
অর্থঃ তোমরা যা কিছু সৎকাজ কর, আল্লাহ তা জানেন। - (ছূরা বাকারা, আয়াত- ১৯৭)
বুঝলাম তিনি আমার বাহনে সওয়ার হতে সম্মত আছেন। তাই আমি আমার আমার উটনীকে বসালাম। তিনি তাতে সওয়ার হওয়ার পূর্বে কুরআনের আয়াত পড়লেন-
ﻗُﻞْ ﻟِّﻠْﻤُﺆْﻣِﻨِﻲْﻥَ ﻳَﻐُﻀُّﻮْﺍ ﻣِﻦْ ﺍَﺑْﺼَﺎﺭِﻫِﻢْ ۞
অর্থঃ হে নবী! আপনি মুমিনদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি নত রাখে। - (ছূরা নূর, আয়াত-৩০)
ফলে আমি আমার দৃষ্টি নত করে তাকে আরোহন করতে বললাম। কিন্তু তিনি যখন চড়তে যাবেন ঠিক সেই মূহুর্তে হঠাৎ উটনীটা বিগড়ে গিয়ে পালাতে চাইলে বৃদ্ধার কাপড়ের কিয়দাংশ ছিঁড়ে গেল। তখন তিনি কুরআনের এ আয়াত পড়লেন-
ﻭَﻣَﺎۤ ﺍَﺻَﺎﺑَﻜُﻢْ ﻣِّﻦْ ﻣُّﺼِﻴْﺒَﺔٍ ﻓَﺒِﻤَﺎ ﻛَﺴَﺒَﺖْ ﺍَﻳْﺪِﻳْﻜُﻢْ ۞
অর্থঃ তোমাদের উপর যেসব বিপদ-আপদ পতিত হয়, তা তোমাদের কৃত কর্মেরই ফল। - (ছূরা শূরা,আয়াত- ৩০)
আমি বললাম, “একটু অপেক্ষা করুন! আমি উটনীকে বেঁধে দিচ্ছি, তারপর সওয়ার হোন।” বৃদ্ধা কুরআনের আয়াত পড়লেন-
ﻓَﻔَﻬَّﻤْﻨٰﻬَﺎ ﺳُﻠَﻴْﻤٰﻦَ ۞
অর্থঃ অতঃপর আমি সুলাইমানকে (আঃ) সে বিষয়ের ফয়ছালা বুঝিয়ে দিলাম। - (ছূরা আম্বিয়া, আয়াত- ৭৯)
উটনীকে বাঁধার পর আমি তাকে সওয়ার হতে বললে, তিতি তাতে সওয়ার হন এবং এই আয়াত পাঠ করেন-
ﺳُﺒْﺤٰﻦَ ﺍﻟَّﺬِﻯْ ﺳَﺨَّﺮَ ﻟَﻨَﺎ ﻫٰﺬَﺍ ﻭَﻣَﺎ ﻛُﻨَّﺎ ﻟَﻪُ ﻣُﻘْﺮِﻧِﻴْﻦَ ۞ﻭَﺍِﻧَّﺎۤ ﺍِﻟٰﻰ ﺭَﺑِّﻨَﺎ ﻟَﻤُﻨْﻘَﻠِﺒُﻮْﻥ َ ۞
অর্থঃ পবিত্র ও মহান তিনি, যিনি এদেরকে আমাদের বশীভূত করে দিয়েছেন, যদিও আমরা এদেরকে বশীভূত করতে সমর্থ ছিলাম না। আমরা আমাদের প্রতিপালকের নিকট অবশ্যই প্রত্যাবর্তন করব। - (ছূরা যুখরুফ, আয়াত ১৩-১৪)
আমি উটের নাকিল ধরে উটকে সবেগে হাঁকাতে লাগলাম এবং উচ্চস্বরে শব্দ করে খুব দ্রুত তাড়াতে থাকলাম। তা দেখে বৃদ্ধা কুরআনের আয়াত পড়লেন-
ﻭَﺍﻗْﺼِﺪْ ﻓِﻰْ ﻣَﺸْﻴِﻚَ ﻭَﺍﻏْﻀُﺾْ ﻣِﻦْ ﺻَﻮْﺗِﻚَ ۞
অর্থঃ চলায় মধ্যবর্তিতা অবলম্বন কর এবং কন্ঠস্বর নীচু কর। - (ছূরা লুকমান, আয়াত ১৯)
ফলে আমি ধীরে ধীরে চলতে লাগলাম এবং কিছু কবিতা সুর করে গাইতে লাগলাম। তা শুনে বৃদ্ধা কুরআনের এ আয়াত বললেন-
ﻓَﺎﻗْﺮَﺋُﻮْﺍ ﻣَﺎ ﺗَﻴَﺴَّﺮَ ﻣِﻦَ ﺍﻟْﻘُﺮْﺍٰﻥِ ۞
অর্থঃ কুরআনের যতটুকু আবৃত্তি করা তোমাদের জন্য সহজ ততটুকু আবৃত্তি কর। - (ছূরা মুযযাম্মিল,আয়াত- ২০)
আমি বললাম, আল্লাহ তা’য়ালা আপনাকে খুবই পূণ্যবতী করে সৃষ্টি করেছেন। উত্তরে বৃদ্ধা কুরআনের এ আয়াত তিলাওয়াত করলেন-
ﻭَﻣَﺎ ﻳَﺬَّﻛَّﺮُ ﺍِﻟَّﺎ ﺍُﻭْﻟُﻮْ ﺍﻟْﺒَﺎﺏِ ۞
অর্থঃ জ্ঞানীরা ছাড়া অপর কেহ শিক্ষা গ্রহণ করেন না। (ছূরা বাকারা, আয়াত- ২৬৯)
কিছুক্ষণ চুপ থাকার পর আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম- “আপনার স্বামী আছেন?” বৃদ্ধা কুরআনের আয়াত পড়লেন-
ﻟَﺎ ﺗَﺴْﺌَﻠُﻮْﺍ ﻋَﻦْ ﺍَﺷْﻴَﺎۤﺀَ ﺍِﻥْ ﺗُﺒْﺪَ ﻟَﻜُﻢْ ﺗَﺴُﺆْ ﻛُﻢْ ۞
অর্থঃ এমন কথাবার্তা জিজ্ঞেস কর না যা তোমাদের কাছে প্রকাশ হলে, তোমাদের খারাপ লাগবে। (ছূরা মায়িদা, আয়াত- ১০১)
এবার আমি একদম চুপ হয়ে গেলাম এবং কাফেলা না পাওয়া পর্যন্ত তাঁর সাথে আর কোন কথা বললাম না। যখন একটা কাফেলা পেলাম তখন তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম সামনে একটা কাফেলা আছে, এতে আপনার কেহ আছে কি?” বৃদ্ধা কুরআনের আয়াত পড়লেন-
ﺍَﻟْﻤَﺎﻝُ ﻭَﺍﻟْﺒَﻨُﻮْﻥَ ﺯِﻳْﻨَﺔُ ﺍﻟْﺤَﻴٰﻮﺓِ ﺍﻟﺪُّﻧْﻴَﺎ ۞
অর্থঃ ধনৈশ্বর্য ও সন্তান-সন্ততি পার্থিব জীবনেরসৌন্দর্য। (ছূরা কাহাফ, আয়াত- ৪৬)
বুঝতে পারলাম উক্ত কাফেলায় তার ছেলে আছে। ফলে পুণরায় জিজ্ঞেস করলাম, “কাফেলায় আপনার ছেলের কাজ কি?” তিনি উত্তরে কুরআনের আয়াত পড়লেন-
ﻭَﻋَﻠٰﻤٰﺖٍ ﻭَﺑِﺎﻟﻨَّﺠْﻢِ ﻫُﻢْ ﻳَﻬْﺘَﺪُﻭْﻥَ ۞
অর্থঃ এবং তিনি (আল্লাহ তা’য়ালা) পথ নির্ণায়ক বহু চিহ্ন সৃষ্টি করেছেন এবং তারকা দ্বারাও মানুষ পথের নির্দেশ পায়। (ছূরা নাহল, আয়াত- ১৬)
আমি বুঝতে পারলাম, তাঁর ছেলে কাফেলার পথপ্রদর্শক (রাহাবার)। তাই আমি তাঁকে কাফেলার তাবুর নিকটে পৌঁছে বললাম, “এই তো আমরা কাফেলার দ্বার প্রান্তে পৌঁছে গেছি। এবার বলুনকে আপনার ছেলে?” বৃদ্ধা কুরআনের আয়াত পড়লেন-
ﻭَﺍﺗَّﺨَﺬَ ﺍﻟﻠﻪُ ﺍِﺑْﺮٰﻫِﻴْﻢَ ﺧَﻠِﻴْﻠًﺎ ۞
অর্থঃ আল্লাহ ইব্রাহিমকে (আঃ) বন্ধুরূপে গ্রহণ করেছেন। (ছূরা নিসা, আয়াত- ১২৫)
ﻭَﻛَﻠَّﻢَ ﺍﻟﻠﻪُ ﻣُﻮْﺳٰﻰ ﺗَﻜْﻠِﻴْﻤًﺎ ۞
অর্থঃ আর আল্লাহ মুসা (আঃ) এর সাথে সরাসরি কথোপকথোন করেছেন। (ছূরা নিসা, আয়াত-১৬৪)
ﻳَﺎ ﻳَﺤْﻰٰ ﺧَﺬِ ﺍﻟْﻜِﺘٰﺐَ ﺑِﻘُﻮَّﺓٍ ۞
অর্থঃ হে ইয়াহ্ইয়া! র্দঢ়তার সাথে এই কিতাব ধারণ করুন। (ছূরা মারইয়াম, আয়াত- ১২)
বুঝতে পারলাম, তাঁর ছেলেদের নাম ইব্রাহিম, মুছাও ইয়াহ্ইয়া। তাই আমি এ নামগুলো ধরে ধরে ডাক দিলাম- হে ইব্রাহিম! হে মুছা! হে ইয়াহইয়া! ডাক দেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই অপূর্ব সুদর্শন কিছু যুবক এসে আমার সামনে দাঁড়াল এবং আমার বিস্তারিত বিবরণ শুনে তারা তাদের মাকে খুঁজে পেয়ে খুবই খুশি হল। অতঃপর যখন আমরা সবাই প্রশান্তিতে বিশ্রাম নিতে বসে পড়লাম তখন বৃদ্ধা তাঁর ছেলেদের উদ্দেশ্যে কুরআনের আয়াত তিলাওয়াত করলেন-
ﻓَﺎﺑْﻌَﺜُﻮْۤﺍ ﺍَﺣَﺪَﻛُﻢْ ﺑِﻮَﺭِﻗِﻜُﻢْ ﻫٰﺬِﻫِۤﻰْ ﺍِﻟَﻰ ﺍﻟْﻤَﺪِﻳْﻨَﺔِﻑَﻟْﻴَﻨْﻈُﺮْ ﺍَﻳُّﻬَﺎۤ ﺍَﺯْﻛٰﻰ ﻃَﻌَﺎ ﻣًﺎ ﻓَﻠْﻴَﺎْ ﺗِﻜُﻢْ ﺑِﺮِﺯْﻕٍ ﻣِّﻨْﻪُ ۞
অর্থঃ এখন তোমাদের একজনকে তোমাদের এই মুদ্রাসহ শহরে প্রেরণ কর। সে যেন দেখে কোন খাদ্য পবিত্র। অতঃপর তা থেকে যেন কিছু খাদ্য তোমাদের জন্য নিয়ে আসে। (ছূরা কাহাফ,আয়াত- ১৯)
তার কথা শুনে একটা ছেলে উঠে গিয়ে কিছু খাদ্য কিনে আনল এবং তা আমার সামনে পরিবেশন করলেন। বৃদ্ধা তখন কুরআনের এ আয়াত পড়লেন-
ﻛُﻠُﻮْﺍ ﻭَﺍﺷْﺮَﺑُﻮْﺍ ﻫَﻨِۤﻴْﺌًﭑ ﺑِﻤَﺎۤ ﺍَﺳْﻠَﻔْﺘُﻢْ ﻓِﻰ ﺍﻟْﺎَﻳَّﺎﻣِﺎﻟْﺦ َﺍﻟِﻴَﺔِ ۞
অর্থঃ বিগত দিনে তোমরা যা করেছিলে তার বিনিময়ে তোমরা তৃপ্তি সহকারে খাও এবং পান কর। - (ছূরা হাক্বাহ, আয়াত- ২৪)
এবার আমি সুযোগের সদ্ব্যবহার করলাম। তাঁর ছেলেদেরকে লক্ষ্য করে বললাম, “তোমাদের এই খাবার আমার জন্য হারাম যতক্ষণ না পর্যন্ত তোমরা তোমাদের মায়ের এ অবস্থা সম্পর্কে আমাকে অবহিত করবে।”
তখন ছেলেরা বলল, “চল্লিশ বছর যাবৎ আমাদের মায়ের এই অবস্থা। এই চল্লিশ বছরে তিনি কুরআনের আয়াত ব্যতীত অন্য কোন বাক্য উচ্চারণ করেন নি। আর এই বাধ্যবাধকতা তিনি নিজেই নিজের উপর আবশ্যক করে নিয়েছেন। যেন কখনো মুখ থেকে এমন কোন অন্যায় কথা বের না হয়, যার কারণে মহান আল্লাহ অসন্তুষ্ট হন।”
আমি বিস্ময়ে অভিভূত হয়ে বললাম-
ﺫٰﻟِﻚَ ﻓَﻀْﻞُ ﺍﻟﻠﻪِ ﻳُﺆْﺗِﻴْﻪِ ﻣَﻦْ ﻳَّﺸَﺎۤﺀُ ﻁ ﻭَﺍﻟﻠﻪُ ﺫُﻭﺍﻟْﻔَﻀْﻞِ ﺍﻟْﻌَﻈِﻴْﻢِ ۞
অর্থঃ এটা আল্লাহর কৃপা, যাকে ইচ্ছা তিনি তা দান করেন। - (সুরা হাদীদ -২১)
সুবহানাল্লাহ! কেমন মহান ছিল সেই মহিয়সী মহিলার প্রতিজ্ঞা। তাঁর মত হতে না পারলেও অন্ততঃপক্ষে অহেতুক, অন্যায় ও অবৈধ কথাবার্তা বলা থেকে যবানকে বিরত ও সংযত রাখা আমাদের একান্ত কর্তব্য।
সূত্রঃ আল আবশেহী (রহঃ)। আল মুসতাতারফু ফি কুল্লি ফিন মুসতাতারফ ১ম খন্ড; ৫৬ ও ৫৭ পৃষ্ঠা। মিশর ১৩৬৮ হিজরী]