Tuesday, January 22, 2019

হযরত লোকমান (আ.)

হযরত লোকমান (আ.)

 তিনি ছিলেন প্রাচীন যুগের একজন পণ্ডিত ও  জ্ঞানী ব্যক্তি। তিনি সারা জীবন মানুষকে মূল্যবান উপদেশ দিয়েছেন। তার সময়ে জ্ঞানগরিমা, বুদ্ধিশুদ্ধি, ভালো কথা ও সৎ কাজে তিনি ছিলেন সবার সেরা। আর এ কারণেই নবি না হবার পরও তার নাম পবিত্র কুরআনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে লোকমান হাকিমের কথা উল্লেখ করে বলেন যে, ‘ আমি লোকমানকে হেকমত তথা বুদ্ধি ও বিচক্ষণতা দিয়েছিলাম।
হযরত লোকমান ছিলেন হাবশি সম্প্রদায়ের লোক। প্রথম জীবনে তিনি তৎকালীন শাম দেশের অধিবাসী এক ধনী ব্যক্তির অধীনে গোলামির জীবন শুরু করেন। তারপর তিনি গোলামির জীবন থেকে মুক্ত হয়ে আল্লাহ তায়ালার অপার অনুগ্রহে অফুরন্ত শিক্ষা-দীক্ষা এবং হেকমত শিক্ষা লাভ করেন। তাঁর জ্ঞান লাভের পেছনে তিনটি গুণ বিশেষ ভূমিকা রেখেছিল। এ সম্পর্কে একটি গল্প প্রচলিত আছে। গল্পটি এরকম-
হযরত লোকমান যখন বকরি চরাতেন তখন একটি সমবয়সি বালকের সাথে তাঁর বন্ধুত্ব হয়। পরবর্তী জীবনে সেই বাল্যবন্ধুটি ঘটনাক্রমে লোকমানের একটি শিক্ষা মজলিসে উপস্থিত হয়ে দেখল যে, বহু মানুষ লোকমানকে ঘিরে বসে তাঁর কাছ থেকে এলেম ও হেকমত শিক্ষা করছে। অবাক হয়ে সেই বাল্যবন্ধু লোকমানকে লক্ষ্য করে বলল, ‘তোমাকে দেখে বাল্যজীবনের কথা মনে পড়ছে। তুমি কি সেই লোক যার সাথে আমি মাঠে বকরি চরাতাম ?’
হযরত লোকমান লোকটির দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘হ্যাঁ বন্ধু তুমি ঠিকই ধরেছ আমি সেই লোক
বাল্যবন্ধু জিজ্ঞেস করল বন্ধু , তুমি এই মর্যাদা কিভাবে অর্জন করলে!লোকমান জবাব দিলেন- তিনটি স্বভাবের মাধ্যমে। স্বভাব তিনটি হলো-
১. কোনদিনই কারও সঙ্গে মিথ্যা বলি নি।
২. আমি কখনও কারো আমানতে খেয়ানত করি নি।
৩. কারও সাথে আমি কখনও বেহুদা কথায় সময় নষ্ট করি নি।
 হযরত লোকমান তার পুত্রকে উদ্দেশ্য করে বহু মূল্যবান উপদেশ দিয়েছেন। পবিত্র কুরআনের সূরা লোকমানে তা বর্ণনা করা হয়েছে। হযরত লোকমান হাকীম তাঁর পুত্র উদ্দেশ্য করে বলেছেন,
 “হে আমার পুত্র!  আল্লাহর সাথে তুমি কাউকে শরীক করো না- "নিঃসন্দেহে আল্লাহর সাথে শরীক করা গুরুতর অপরাধ।তিনি আরও বলতেন, “হে আমার পুত্র! সালাত কায়েম করো, আর সৎকাজের নির্দেশ দাও এবং অসৎকাজে নিষেধ কর। বিপদে-আপদে সবর করো। নিশ্চয়ই এটা সাহসিকতার কাজ।
হযরত লোকমান হাকীম মানুষকে গর্ব-অহংকার করা, উচ্চস্বরে কথা বলা, পিতামাতাকে কষ্ট দেয়া, কুফরী করা, ভোগ-বিলাসে গা ভাসিয়ে দেয়া থেকে বিরত থাকার জন্যও উপদেশ দিয়েছেন। দেখতে কালো এ মানুষটি কৃতদাস থাকাকালে তাঁর মনিবকে অনেক পরামর্শ দিয়েছেন। এ সময় তাঁর জীবনে ঘটে যায় অনেক ঘটনা।
 তাঁর ক্রীতদাস জীবনের একটি ঘটনা,
  হযরত লোকমান হাকিম তখন যুবক। একটি ঘটনায় তাকে বন্দী হিসেবে আটক করা হলো। পরে তাকে এক ধনী লোকের ক্রীতদাস হিসেবে বিক্রি করা হলো। সৌভাগ্যক্রমে লোকমানের মনিব ছিলেন একজন বুদ্ধিমান ও রুচিশীল মানুষ। অল্পদিনের মধ্যেই তিনি লোকমানের মধ্যে লুকিয়ে থাকা বুদ্ধি, বিবেক, জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও ঈমান দেখে মুগ্ধ হলেন। দেখতে দেখতে মালিক, লোকমান হাকীমকে নিজের সন্তানের মতো ভালোবাসতে লাগলেন। মনিব সবসময় চেষ্টা করতেন, লোকমানের মান-সম্মান যেকোনো অবস্থায় বজায় রাখতে। তিনি তখন খেতে বসতেন তখন লোকমানকে সাথে নিয়েই খেতেন।
 হযরত লোকমান নিজে আগে খাবার খেতেন তারপর খাবারের বাকি অংশ খেতো তার মনিব এবং তারপর অন্যান্যরা। লোকমান যদি কোনো কারণে কোনো একটা খাবার না খেতেন তার মনিবও সেই খাবারে মুখ দিত না। একান্তই যদি নিরুপায় হয়ে খেতেই হতো তাহলে এমনভাবে খেতো যেন ইচ্ছে নেই কিংবা ক্ষুধা নেই।
 ওই ধনী লোকটির জন্য একদিন কে যেন একটা তরমুজ পাঠিয়েছিল উপহার হিসেবে। লোকটি সঙ্গে সঙ্গে তার এক গোলামকে ডেকে বলল- এক্ষুণি গিয়ে লোকমানকে ডেকে আনো। লোকমান এসে আগে তরমুজ খাবে তারপর আমি খাব।
লোকমান আসার পর তার মনিব একটা ছুরি দিয়ে তরমুজটি কাটল। প্রথম টুকরোটি দিল লোকমানকে। লোকমান তরমুজের ওই টুকরোটি এমনভাবে খেতে শুরু করল যেন মধুর চেয়েও মিষ্টি ওই তরমুজ। বেশ মজা করে খেল। লোকমান খুব মজা করে খাচ্ছে দেখে লোকটা পরের টুকরোটিও তাকে খেতে দিল। কারণ সে সত্যিই লোকমানকে ভীষণ ভালোবাসে। লোকমান আবারও বেশ মজা করে তরমুজের টুকরোটি খেল। এভাবে পরপর সতের টুকরো তরমুজ লেখেন লোকমান। অবশেষে একটি মাত্র টুকরো বাকি ছিল, ওই টুকরোটি মনিব নিজে খাবে বলে সিদ্ধান্ত নিল। সে বলল: এই টুকরোটি আমি নিজে খাব, দেখব এবং জানব তরমুজ কী করে এতো মিষ্টি আর সুস্বাদু হয়। লোকমান কী মজা করেই না সতেরটি টুকরো খেয়েছে!
কিন্তু যখনই মনিব তরমুজের শেষ টুকরোটি মুখে দিল এবং খেল, তিতা স্বাদ আর অন্যরকম একটা উটকো ঝাঁঝে তার চেহারা বিকৃত হয়ে গেল। এতো বেশি ঝাঁঝ আর তিতা ছিল ওই তরমুজ যে মনিবের জিহ্বার পাশাপাশি গলাও তিতা হয়ে গেল। অতিরিক্ত তিতার কারণে লোকটি অজ্ঞান হয়ে পড়ার উপক্রম হলো। বেশ কিছু সময় পর কিছুটা স্বস্তি বোধ করল মনিব। এরপর লোকমানকে লক্ষ্য করে বললেন, হে বৎস! তোমার চেহারা দেখে মনে হচ্ছিল তরমুজটি খুবই সুস্বাদু। কিন্তু খেতে গিয়ে আমি বুঝলাম, ওটা ছিল ভয়ানক তিতা। এখন বল, কেন তুমি বিষয়টি গোপন রাখলে? কি দরকার ছিল এত তিতা তরমুজ খাওয়ার?
 লোকমান এবার মুখ খুললেন। বললেন: তরমুজটা যে তিতা ছিল এতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু এ কয়েক বছর আপনার হাতে আমি অনেক মজার মজার খাবার খেয়েছি। তাই কোনোভাবেই আমি আপনাকে বুঝতে দিতে চাইনি যে, তরমুজটি ভীষণ তিতা ছিল। আপনি আমাকে অনেক সম্মান দিয়েছেন, তাই আমার মন চায়নি একটা মাত্র তরমুজের তিক্ততা নিয়ে আপত্তি করে আপনার অমর্যাদা করি। আপনি আমাকে ভালোবেসে যে মিষ্টি খাইয়েছেন, আমাকে দয়া করে যে পরিমাণ অনুগ্রহ দেখিয়েছেন, তার তুলনা সামান্য এই তরমুজের তিতা কিছুই না।
একটু থেমে লোকমান আবার বললেন, “আমি মানুষকে সবসময় উপদেশ দিয়ে এসেছি তারা যেন অন্যদের ভালো কাজ ও আচরণের মর্যাদা দেয়, তারা যেন নিমক-হালাল না হয়। সেই আমিই আজ কি করে নিজের দেয়া উপদেশ ভুলে গিয়ে নিমক-হারামী করতে পারি?
মনিবের উদ্দেশ্যে হযরত লোকমান এবার বললেন, “আহা! কতই না ভালো হতো যদি তরমুজটার শেষ টুকরাও আমাকে দিতেন এবং আমার প্রতি আপনার মমতা ও স্নেহ নিয়ে তৃপ্ত ও আনন্দিত থাকতেন; যেমনি করে আমি আপনার মহত্ব ও উত্তম আচরণের কারণে আপনার নিকট চির ঋণী হয়ে আছি।
  হযরত লোকমান কিভাবে তার মনিবের প্রতি কৃতজ্ঞতার নজির স্থাপন করলেনআমাদেরও উচিত আমাদের অভিভাবক ও পিতামাতার প্রতি কৃতজ্ঞ হওয়া।  তবে  সবচেয়ে বেশী কৃতজ্ঞ হওয়া উচিত মহান আল্লাহর প্রতি যিনি আমাদেরকে জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও বুদ্ধি-বিবেক দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। আর মহান আল্লাহর নির্দেশও কিন্তু এরকমই।
 তিনি সূরা লোকমানের ১২ নং আয়াতে বলেছেন,
আমি লোকমানকে প্রজ্ঞা প্রদান করেছি এই মর্মে যে, আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ হও।  যে কৃতজ্ঞ হয়, সে তো কেবল নিজের কল্যাণের জন্যই কৃতজ্ঞ হয়। আর যে অকৃতজ্ঞ হয়, সেক্ষেত্রে আল্লাহ প্রকৃতপক্ষেই অমুখাপেক্ষী ও প্রশংসিত।

এ গল্প থেকে শিক্ষা নিয়ে আমাদের সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহকে ভালোবাসতে হবে। তাহলে আল্লাহ ও আমাদের ভালোবাসবেন। জীবনে চলার পথে বহু রকমের কষ্ট ও আমাদের বাঁধা   সামনে আসতে পারে। সেইসব কষ্ট আর বাধা উত্তীর্ণ হতে হবে আল্লাহকে ভালোবেসে। আল্লাহর প্রতি কোনোরকম আক্ষেপ আর ক্ষোভ না দেখিয়ে হযরত লোকমানের মতো কঠিন তিতা তরমুজ অর্থাৎ   কষ্টগুলোকে হাসতে হাসতে মজা করতে করতে বরণ করে নিতে হবে।
আল্লাহ আমাদের সঠিক পথে চলার তাওফিক দাও।

Wednesday, January 16, 2019

নারীর সম্ভ্রম রক্ষায় পর্দার প্রয়োজনীয়তা

নারীর স্ব-মর্জাদা রক্ষায় পর্দার প্রয়োজনীয়তা

পবিত্র কুরআন শরীফে আল্লাহ সুবহানাহু তা’য়ালা বলেন, হে নবি (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আপনি আপনার পত্নীগণকে ও কণ্যাগণকে এবং মুমিনদের স্ত্রীগণকে বলুন, তারা যেন তাদের চাদরের কিয়দংশ নিজেদের উপর টেনে নেয়। এতে তাদেরকে চেনা সহজ হবে। ফলে তাদেরকে উত্যক্ত করা হবে না। আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা ক্ষমাশীল পরম দয়ালু। (সূরা: আহযাব, আয়াত ৫৯)
চেহারা নারীর সৌন্দর্য প্রকাশ স্থল। চেহারার মাধ্যমেই একজন নারীর রূপ, লাবণ্য ও যাবতীয় সৌন্দর্য প্রকাশ পায়। চেহারার দ্বারাই একজন নারীর সৌন্দর্য্য ফুটে উঠে।
এ জন্য আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা নারীদেরকে হুকুম দিয়েছেন, নারীরা যখন ঘর থেকে বের হবে তখন যেন তাদের চেহারা পর্দা আবৃত করে বের হয়। যাতে করে পর পুরুষ তাদেরকে দেখার দরুন সমাজে ফিৎনার সৃষ্টি না হয়।
আইয়্যামে জাহিলিয়্যাত বা বর্বরতার যুগে নারীরা কোন প্রয়োজন ছাড়াই শুধুমাত্র তাদের সৌন্দর্য্যতা, রূপ প্রদর্শের জন্য সেজেগুজে ঘর থেকে বের হতো। যার দরুন পুরুষেরা তাদের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে ফিৎনায় লিপ্ত হতো।
অবাধ বিচরণের ফলে সেসময়কার নারী-পুরুষদের মধ্যে লজ্জা বলতেই কিছুই ছিল না। পর্দাহীনতার দরুন তাদের সমাজ ব্যবস্থা চরম বিপর্যস্ত হয়েছিল। চারিত্রিক অবনতি দরুন তাদের সমাজ ব্যবস্থাকে হুমকির মুখে ফেলে ছিল।
ইসলামী জীবন ব্যবস্থায় নারীদের পর্দার গুরুত্ব অপরিসীম। সমাজে নারীদের নির্লজ্জতা আর বিপথগামীতা তখনি প্রকাশ পায় যখন একজন নারী বেপর্দা চলাফেরা করে। মাথা ও মুখমন্ডল থেকে তার সম্ভ্রম রক্ষার চাদর সরিয়ে ফেলে এবং পর-পুরুষকে তার চেহারা প্রদর্শন করে।
ইসলামের ইতিহাসে সর্বযুগেই নারীর ইজ্জত-সম্মান রক্ষায় পর্দার প্রচলন ও বিধান জারি ছিলো। নীতি-নৈতিকতা ও চারিত্রিক অবক্ষয়ের কারণে পূর্বেকার সময় থেকে বর্তমান সময়ে পর্দার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা অনেক বেশী।
পর্দাহীনতা ও স্বাধীনতার নামে নারী পুরুষের অবাধ বিচরণের ফলে ইসলামী সমাজ ব্যবস্থা আজ চরম হুমকির মুখে পতিত হয়েছে।
একশ্রেণির লোক পর্দাকে নারীর স্বাধীনতা ও উন্নতির পথে প্রতিবন্ধক হিসেবে উল্লেখ করতে চায়। কিন্তু বাস্তবতা হলো, শরিয়ত মাপকাঠি নির্ধারিত পর্দা নারীর উৎকর্ষ সাধনে প্রতিবন্ধক নয়। বর্তমানে অনেক নারী এমন রয়েছে যারা শরঈ পর্দার সহিত সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে কার্জ-কর্ম সম্পাদন করছেন। এমনকি পর্দা সহকারে ডাক্তারী থেকে শুরু করে বিমানের পাইলটের দায়িত্বও পালন করছেন নারীরা। বেপর্দা নারীদের চেয়ে তারা আরো ভালভাবে নিজেদের কাজের আঞ্জাম দিচ্ছে। এতে ফেতনার আশংকা ও কমছে।
ইসলাম একটি পুর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থার নাম। মানবজীবনের যাবতীয় কল্যাণ ইসলামে রয়েছে। নারী-পুরুষের সাধ্য বহির্ভূত কিংবা তাদের উন্নতি ও সফলতার পথে প্রতিবন্ধক এমন কোন নির্দেশ ইসলাম দেয়া হয়নি।
একজন নারীর ইজ্জত আবরু রক্ষার জন্য সবচে নিরাপদ স্থান হলো তার ঘর। কিন্তু নারীরা আজ ঘর ছেড়ে বাহিরে বেপর্দা ঘুরাফেরা করে। নারীদের বেপর্দাহীনতার কারণে আমাদের সমাজ আজ ধ্বংসের পথে।
আদর্শ সমাজ বিনির্মানে একজন নারীর ভূমিকা অনেক বেশি। প্রত্যেক নারী যদি নৈতিক দায়িত্ব ও কর্তব্য মনে করে নিজ সন্তানাদিকে আদর্শ ও সততা শিক্ষা দিয়ে গড়ে তোলে তাহলে ভবিষ্যত প্রজন্ম দক্ষ ও যোগ্য নেতৃত্ব পাবে। সমাজ হবে শান্তি সুখের।
নারী সমাজ আজ পর্দা সম্পর্কে ভালো ভাবে জানে না। অথচ পর্দা হলো নারীদের সম্ভ্রম রক্ষা ও নিরাপত্তার একমাত্র মাধ্যম। পর্দার দরুন শুধু নারীদের নিরাপত্তা হয় এমন নয় বরং নারীরা পর্দার সহিত চলাফেরা করলে একটি সমাজ নৈতিকতা বহির্ভূত অনেক কর্মকান্ড থেকে মুক্ত থাকে এবং আদর্শ সমাজ হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে।

Sunday, January 13, 2019

বাক স্বাধীনতার নামে মুহাম্মদ (সঃ) -- কে অবমাননা করা যাবে না: ইইউ আদালত

 বাক স্বাধীনতার নামে মুহাম্মদ (সঃ)-কে অবমাননা করা যাবে না : ইইউ আদালত


পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মানব, মহান আল্লাহ তায়ালার প্রেরিত রাসুল, মহানবী হযরত মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বাক স্বাধীনতার নামে অবমাননা করা যাবে না।
এক ঐতিহাসিক রুল জারি করেছে ইউরোপিয়ান কোর্ট অব হিউম্যান রাইটস
এই রুলে বলা হয়েছে যে, ‘কটূক্তি করার মানেই হচ্ছে, উদ্দেশ্যমূলকভাবে বিতর্ক ছড়ানো। সঙ্গে তার বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়ানো এবং সমাজের শান্তিপূর্ণ পরিবেশকে ঝুঁকিতে ফেলে দেয়া।’
২০০৯ সালে ‘বেসিক ইনফরমেশন অন ইসলাম’ শীর্ষক দুটি সেমিনারে মহানবি হজরত মুহাম্মাদ  সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিয়ে নিয়ে কটূক্তি করেছিলেন মিসেস ‘এস’ নামে অস্ট্রীয় এক নাগরিক।
বিষয়টি আদালতে গড়ালে অস্ট্রিয়ার নিম্ন আদালতের সাত বিচারক আদেশ দেন, মহানবি হজরত মুহাম্মাদ  সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোনো অবমাননা করা যাবে না। সেই সিদ্ধান্তের সমর্থন জানিয়ে বৃহস্পতিবার এই রুল দিলেন ইসিএইচআর।

ভিয়েনা রিজিওনাল ক্রিমিনাল কোর্ট এক বিবৃতিতে জানায়, সেই সেমিনারে মহানবি হজরত মুহাম্মাদ  সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ‘পেডোফিলিক প্রবণতা’ ছিল বলে বক্তব্য দেয়া হয়। ধর্মীয় আদর্শকে অবমাননার অভিযোগে ২০১১ সালে ফেব্রুয়ারিতে ওই নারীকে অভিযুক্ত করা হয়।
অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে প্রায় সাড়ে ৫শ’ ডলার অর্থদণ্ড দেয়া হয়। ওই নারী এর বিরুদ্ধে আপিল করলেও সুপ্রিম কোর্ট তা বাতিল করে দেন।
এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে অস্ট্রিয়ার আদালত সিদ্ধান্ত দেন, ইসলামের নবীকে নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করা এবং উদ্দেশ্যমূলক কোনো বক্তব্য দেয়া তার বিরুদ্ধে আক্রমণ হিসেবে গণ্য করা হবে। এতে ধর্মীয় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিনষ্ট হতে পারে। এ ধরনের কোনো অভিযোগ পেলে আদালত পদক্ষেপ নেবে বলেও জানানো হয়।

দাখিল/ এস এস সি পরীক্ষার রুটিন -২০১৯






Dakhil <Space > First 3 letters of your Exam board <Space> Roll no<Space>Passing year And Send To 16222.
Dhakil result for- DAKHIL MAD RollNumber Year
DAKHIL MAD 234543 2016 And Send To 16222
MADRASA – MAD
You can Send SMS from any Operator to get Dakhil Result 2016.

Tuesday, January 08, 2019

if anyone wants to see the afterlife

Nabi Karim said that if anyone wants to see the afterlife in the world, then he should read Surah Naba, Surah Nazyat, Surah Taqbir, Surah Infater. 

It means that our forefathers came from the grave and explained the realities of the hereafter, in this Surah. The request was made to this Surah to read with 4 meanings. Please, please, please read the Surahs with friends.

Sunday, January 06, 2019

An astonishing answer to the Quranic language of the Quran in the Quran:

 An astonishing answer to the Quranic language of the Quran in the Quran:

Meaning: The guard is in charge of recording the words that the person utters. - (Shura Qaf, Verse-18) 
That is, if people say good and good words, it is written through the angels and if they speak evil and wrong, then it is also recorded. His good and good words will be uprooted for him in the Hereafter and his evil and wicked words will stand in the way of his release.

But the poets are so serious sins that their only one is enough to take a man to hell. For this reason, the Quran has repeatedly been warned in the holy Quran and hadeeth for the hijrah of this Yabaan. In a hadeet, the Prophet (peace and blessings of Allaah be upon him) said, "Surely falsehood shows the sinful sin and the sinful sin (man) in the path of hell." (Musalim). In another Hadith, Messenger of Allah (PBUH) said, "Surely, some things become burdensome and cause for danger." (Abudoud) The Prophet (peace and blessings of Allaah be upon him) said: "He is not a complete believer who rebukes others. Likewise, those who curse others, commit abusive language and speak in vain, they are not perfect believers. "(Tirmidhi)

Not only in the hereafter but also due to inappropriate talk, many people are scared in the life of the world, who have many anecdotes. Again, due to proper use of jaban many people also get great praise. That is why Allah's Messenger (peace and blessings of Allaah be upon him) used to control the yabaan. He was very careful about any wrongdoing going out of his mouth. Even in history, such incidents are also found. Where a woman did not speak by any word other than the Quranic verses in fear of Allah. The following is a remarkable event in the lower wakia.

The bright stars of the world of Hadith, the famous Muhaddis Abdullah Ibn Mubarak (Rh) said, once I was going to observe Hajj. On the journey, one woman, wearing a wool and a hijab, Seeing the seated, I gave the salam to know the situation. In response, he read the verses of the Quran- سلام قولامن رب رحيم ۞ Meaning: salam, greetings from the Most Merciful Lord. (Shura Yaseen, verse 58)
I asked, "What are you doing here?", The granny reads- من يضلل الله فل هادى له ۞ Meaning: Whoever loses the path of Allah, there is no guide. - (Shura Araf, verses -186) I realized he had lost the way. So I asked, "Where do you want to go?" The old woman recited this verse in reply- سبحن الذى اسرى بعبده ليلا من المسجدالحمار الى المسجد الاقصا ۞

কুরআন ভাষী জনৈক মহিলার কুরআনের ভাষায় অবাক করা জবাব

কুরআন ভাষী জনৈক মহিলার কুরআনের ভাষায় অবাক করা জবাবঃ ---
পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে  


مَا يَلْفِظُ مِن قَوْلٍ إِلَّا لَدَيْهِ رَقِيبٌ عَتِيدٌ
অর্থঃ মানুষ যে কথাই উচ্চারণ করে তা লিপিবদ্ধের জন্য তৎপর প্রহরী তার নিকটেই রয়েছে। - (ছূরা ক্বাফ, আয়াত-১৮)
অর্থাৎ মানুষ যদি নেক এবং ভাল কথা বলে তবেতাও ফেরেশতাগণের মাধ্যমে লিখে রাখা হয় আর যদি মন্দ ও অন্যায় কথা বলে তবে তাও লিখে রাখা হয়। তার ভাল ও নেক কথাগুলো পরকালে তার জন্য নাজাতের উছীলা হবে এবং তার মন্দ ও অন্যায় কথাগুলো তার মুক্তির জন্য বাধা হয়ে দাঁড়াবে।
বলাবাহুল্য যবানের মাধ্যমে জিকির, তিলাওয়াত ইত্যাদি দ্বারা যেমন অপরিসীম নেকী অর্জন করা যায়, অনুরূপ এই যবানের অপব্যবহার তথা গীবত, পরনিন্দা, মিথ্যাচারিতা, শিকায়াত ইত্যাদি করার কারণে জমা হতে থাকে অসংখ্য ও অগণিত পাপরাশি।
অথচ কবিরা গুনাহ এত মারাত্মক পাপ যে, তার একটিই একজন মানুষকে জাহান্নামে নিয়ে যাওয়ার জন্য যথেষ্ট।
এ কারণেই এই যবানের হিফাজতের জন্য পবিত্র কুরআনে ও হাদীছে বারবার সতর্ক করা হয়েছে। এক হাদীছে মহানবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াছাল্লাম ইরশাদ করেন- “নিশ্চয়ই মিথ্যাচারিতা জঘন্য পাপ আর জঘন্য পাপ (মানুষকে) জাহান্নামের পথ দেখায়।” (মুছলিম)
অপর হাদিসে রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াছাল্লাম বলেন- “নিশ্চয়ই কোন কোন কথা বোঝা ও বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।” (আবুদাউদ)
নবিজী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াছাল্লাম আরো বলেন- “ঐ ব্যক্তি পরিপূর্ণ মুমিন নয়, যে অন্যকে ভর্ৎসনা করে। অনুরূপভাবে যারা অন্যকে অভিসম্পাত করে, অশ্লীল কাজ করে এবং অনর্থক কথা বলে, তারাও পরিপূর্ণ মুমিন নয়।” (তিরমিযী)
শুধু পরকালেই নয় বরং অসঙ্গত কথা বলার কারণে পার্থিব জীবনেও অনেকে ফেঁসে যায়, যার নজীর বহু রয়েছে। আবার যবানকে সঠিক ব্যবহারের ফলে অনেকে প্রভূত প্রশংসাও কুড়ায়। এ কারণেই আল্লাহ তা’য়ালার ওলী-বুজুর্গগণ সদা যবানের নিয়ন্ত্রণ করতেন। কোন অন্যায় কথা মুখ দিয়ে বেরিয়ে না যায়, সে ব্যাপারে খুবই সতর্ক থাকতেন। এমনকি ইতিহাসে এমন ঘটনাও পাওয়া যায়, যেখানে একজন নারী আল্লাহ তা’য়ালার ভয়ে কুরআন শরীফের আয়াত ছাড়াঅন্য কোন বাক্য দ্বারা কথাই বলতেন না। নিম্নের ওয়াকিয়াটি সেরকমই একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা।

হাদিস জগতের উজ্জল নক্ষত্র, খ্যাতিমা মুহাদ্দীস হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক (রহঃ)বলেন, একবার আমি হজব্রত পালন করতে যাচ্ছিলাম। সফরে পথিমধ্যে এক জায়গায় পশমের জামা ও হিজাব পরিহিতা জনৈক বৃদ্ধা মহিলাকে 
উপবিষ্ট দেখতে পেয়ে অবস্থা জানার জন্য ছালাম দিলাম। প্রত্যুত্তরে তিনি কুরআনের আয়াত পড়লেন-
ﺳَﻠَﺎﻡٌ ﻗَﻮْﻟًﺎﻣِّﻦْ ﺭَّﺏٍّ ﺭَّﺣِﻴْﻢٍ ۞
অর্থঃ ছালাম, পরম দয়ালু প্রতিপালকের পক্ষথেকে সম্ভাষণ। (ছূরা ইয়াসীন, আয়াত- ৫৮)
আমি জিজ্ঞাসা করলাম, “এখানে আপনি কি করছেন?”, বৃদ্ধা আয়াত পড়লেন-
ﻣَﻦْ ﻳُّﻀْﻠِﻞِ ﺍﻟﻠﻪُ ﻓَﻞَ ﻫَﺎﺩِﻯَ ﻟَﻪُ ۞
অর্থঃ আল্লাহ তা’য়ালা যাকে পথ হারা করেন, তার কোন পথ প্রদর্শক নাই। - (ছূরা আরাফ, আয়াত-১৮৬)
আমি বুঝতে পারলাম তিনি পথ হারিয়ে ফেলেছেন। তাই জিজ্ঞেস করলাম- “আপনি কোথায় যেতে চান?” বৃদ্ধা উত্তরে এ আয়াত তিলাওয়াত করলেন-
ﺳُﺒْﺤٰﻦَ ﺍﻟَّﺬِﻯۤ ﺍَﺳْﺮٰﻯ ﺑِﻌَﺒْﺪِﻩٖ ﻟَﻴْﻠًﺎ ﻣِّﻦَ ﺍﻟْﻤَﺴْﺠِﺪِﺍﻟْﺢِﻡﺍَﺭَ ﺍِﻟَﻰ ﺍﻟْﻤَﺴْﺠِﺪِ ﺍﻟْﺎﻗْﺼَﺎ ۞
অর্থঃ পরম পবিত্র ও মহিমাময় সত্তা তিনি, যিনি স্বীয় বান্দাকে রাত্রি বেলায় ভ্রমণ করিয়েছেন মসজিদে হারাম থেকে মসজিদে আকসা পর্যন্ত। - (ছূরা ইসরাঈল, আয়াত- ১)
আমি বুঝতে পারলাম, তিনি অতি সম্প্রতি হজ্বপালন করে এখন বাইতুল মুকাদ্দাসে যেতে চাচ্ছেন। তারপর আমি জিজ্ঞেস করলাম, “এখানে কতদিন ধরে বসে আছেন?” বৃদ্ধা কুরআনের আয়াত পড়ে উত্তর দিলেন-
ﺛَﻠٰﺚَ ﻟَﻴَﻞٍ ﺳَﻮِﻳًّﺎ ۞
অর্থঃ পূর্ণ তিন রাত্র। (ছূরা মারইয়াম, আয়াত- ১০)
বুঝলাম তিনদিন ধরে তিনি এখানে বসে আছেন। আমি বললাম, “আপনার কাছে কোন খাদ্য দ্রব্যও পানীয় দেখছি না, আপনি কি খান তাহলে?”জবাবে বৃদ্ধা কুরআনের আয়াত পড়লেন-
ﻫُﻮَ ﻳُﻄْﻌِﻤُﻨِﻰْ ﻭَﻳَﺴْﻘِﻴْﻦِ ۞
অর্থঃ তিনিই (আল্লাহ-ই) আমাকে আহার ওপানীয় দান করেন। - (ছূরা শুআরা, আয়াত- ৭৯)
আমি বললাম, “অজু কি দিয়ে করেন?” বৃদ্ধা কুরআনের আয়াত পড়লেন-
ﻓَﻠَﻢْ ﺗَﺠِﺪُﻭْﺍ ﻣَﺎۤﺀً ﻓَﺘَﻴَﻤَّﻤُﻮْﺍ ﺻَﻌِﻴْﺪًﺍ ﻃَﻴِّﺒًﺎ ۞
অর্থঃ যদি তোমরা পানি না পাও তাহলে পবিত্র মাটির দ্বারা তায়াম্মুম করে নাও। -(ছূরা মায়িদা,আয়াত- ৬)
বুঝতে পারলাম- তিনি তায়াম্মুম করে নামাজ পড়ছেন। এরপর বললাম, “আমার কাছে কিছু খাবার আছে। আপনি কি তা খাবেন?” বৃদ্ধা কুরআনের আয়াত পড়লেন-
ﺛُﻢَّ ﺍَﺗِﻤُّﻮﺍ ﺍﻟﺼِّﻴَﺎﻡَ ﺍِﻟَﻰ ﺍﻟَّﻴْﻞِ ۞
অর্থঃ অতঃপর তোমরা রাত্র পর্যন্ত রোজা পূর্ণ কর। (ছূরা বাকারা, আয়াত- ১৮৭)
বুঝলাম তিনি রোজা রাখছেন। তাই বললাম, এখন তো রমজান মাস নয়। বৃদ্ধা কুরআনের আয়াত পড়লেন-
ﻭَﻣَﻦْ ﺗَﻄَﻮَّﻉَ ﺧَﻴْﺮًﺍ ﻓَﺎِﻥَّ ﺍﻟﻠﻪَ ﺷَﺎﻛِﺮٌ ﻋَﻠِﻴْﻢٌ ۞
অর্থঃ কেহ স্বতঃস্ফূর্তভাবে কোন সৎ কাজ করলে, আল্লাহ তার পুরষ্কার দাতা, তিনি সর্বজ্ঞ। - (ছূরা বাকারা, আয়াত- ১৫৮)
বুঝতে পারলাম- তিনি নফল রোজা রাখছেন। তাই বললাম, “সফরকালে তো ফরজ রোজাও না রাখা জায়িজ আছে। আর আপনি নফল রোজা রাখছেন?” উত্তরে বৃদ্ধা কুরআনের আয়াত পড়লেন-
ﻭَﺍَﻥْ ﺗَﺼُﻮْﻣُﻮْﺍ ﺧَﻴْﺮٌ ﻟَّﻜُﻢْ ﺍِﻥْ ﻛُﻨْﺘُﻢْ ﺗَﻌْﻠَﻤُﻮْﻥَ ۞
অর্থঃ আর যদি রোজা রাখ তবে তা তোমাদের জন্য বিশেষ কল্যাণকর যদি তোমরা বুঝতে পার। - (ছূরা বাকারা, আয়াত- ১৮৪)
আমি বললাম, আপনি আমার মত স্বাভাবিকভাবে কথা বলছেন না কেন? জবাবে বৃদ্ধা কুরআনের আয়াত পড়লেন-
ﻣَﺎ ﻳَﻠْﻔِﻆُ ﻣِﻦْ ﻗَﻮْﻝٍ ﺍِﻟَّﺎ ﻟَﺪَﻳْﻪِ ﺭَﻗِﻴْﺐٌ ﻋَﺘِﻴْﺪٌ ۞
অর্থঃ মানুষ যে কথাই উচ্চারণ করে তা লিপিবদ্ধের জন্য তৎপর প্রহরী তার নিকটেই রয়েছে। - (ছূরা ক্বাফ, আয়াত-১৮)
বুঝতে পারলাম, যেহেতু মানুষের উচ্চারিত প্রতিটি কথাই সংরক্ষিত থাকে এবং হাশরের মাঠে এগুলোর হিসাব হবে তাই তিনি সতর্কতা অবলম্বন করছেন। পরে জিজ্ঞেস করলাম, “আপনি কোন গোত্রের?” বৃদ্ধা উত্তরে কুরআনের আয়াত পড়লেন-
ﻭَﻟَﺎ ﺗَﻘْﻒُ ﻣَﺎ ﻟَﻴْﺲَ ﻟَﻚَ ﺑِﻪِ ﻋِﻠْﻢٌ ۞
অর্থঃ যে বিষয়ে তোমার কোন জ্ঞান নেই, তার পিছনে পড়ো না। - (ছূরা বনী ইসরাঈল, আয়াত-৩৬)
আমি বললাম, “ভূল হয়ে গেছে, মাফ করবেন।”বৃদ্ধা কুরআনের আয়াত পড়লেন-
ﻟَﺎﺗَﺜْﺮِﻳْﺐَ ﻋَﻠَﻴْﻜُﻢُ ﺍﻟْﻴَﻮْﻡَ ﻳَﻐْﻔِﺮُ ﺍﻟﻠﻪُ ﻟَﻜُﻢْ ۞
অর্থঃ আজ তোমাদের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ নাই। আল্লাহ তোমাদের ক্ষমা করুন। - (ছূরা ইউসুফ, আয়াত- ৯২)
আমি বললাম, “আপনি চাইলে আমার উটনীতে চড়ে স্বীয় কাফেলায় মিলিত হতে পারেন।” উত্তরে বৃদ্ধা কুরআনের আয়াত পড়লেন-
ﻭَﻣَﺎ ﺗَﻔْﻌَﻠُﻮْﺍ ﻣِﻦْ ﺧَﺴْﺮٍ ﻳَّﻌْﻠَﻤْﻪُ ﺍﻟﻠﻪُ ۞
অর্থঃ তোমরা যা কিছু সৎকাজ কর, আল্লাহ তা জানেন। - (ছূরা বাকারা, আয়াত- ১৯৭)
বুঝলাম তিনি আমার বাহনে সওয়ার হতে সম্মত আছেন। তাই আমি আমার আমার উটনীকে বসালাম। তিনি তাতে সওয়ার হওয়ার পূর্বে কুরআনের আয়াত পড়লেন-
ﻗُﻞْ ﻟِّﻠْﻤُﺆْﻣِﻨِﻲْﻥَ ﻳَﻐُﻀُّﻮْﺍ ﻣِﻦْ ﺍَﺑْﺼَﺎﺭِﻫِﻢْ ۞
অর্থঃ হে নবী! আপনি মুমিনদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি নত রাখে। - (ছূরা নূর, আয়াত-৩০)
ফলে আমি আমার দৃষ্টি নত করে তাকে আরোহন করতে বললাম। কিন্তু তিনি যখন চড়তে যাবেন ঠিক সেই মূহুর্তে হঠাৎ উটনীটা বিগড়ে গিয়ে পালাতে চাইলে বৃদ্ধার কাপড়ের কিয়দাংশ ছিঁড়ে গেল। তখন তিনি কুরআনের এ আয়াত পড়লেন-
ﻭَﻣَﺎۤ ﺍَﺻَﺎﺑَﻜُﻢْ ﻣِّﻦْ ﻣُّﺼِﻴْﺒَﺔٍ ﻓَﺒِﻤَﺎ ﻛَﺴَﺒَﺖْ ﺍَﻳْﺪِﻳْﻜُﻢْ ۞
অর্থঃ তোমাদের উপর যেসব বিপদ-আপদ পতিত হয়, তা তোমাদের কৃত কর্মেরই ফল। - (ছূরা শূরা,আয়াত- ৩০)
আমি বললাম, “একটু অপেক্ষা করুন! আমি উটনীকে বেঁধে দিচ্ছি, তারপর সওয়ার হোন।” বৃদ্ধা কুরআনের আয়াত পড়লেন-
ﻓَﻔَﻬَّﻤْﻨٰﻬَﺎ ﺳُﻠَﻴْﻤٰﻦَ ۞
অর্থঃ অতঃপর আমি সুলাইমানকে (আঃ) সে বিষয়ের ফয়ছালা বুঝিয়ে দিলাম। - (ছূরা আম্বিয়া, আয়াত- ৭৯)
উটনীকে বাঁধার পর আমি তাকে সওয়ার হতে বললে, তিতি তাতে সওয়ার হন এবং এই আয়াত পাঠ করেন-
ﺳُﺒْﺤٰﻦَ ﺍﻟَّﺬِﻯْ ﺳَﺨَّﺮَ ﻟَﻨَﺎ ﻫٰﺬَﺍ ﻭَﻣَﺎ ﻛُﻨَّﺎ ﻟَﻪُ ﻣُﻘْﺮِﻧِﻴْﻦَ ۞ﻭَﺍِﻧَّﺎۤ ﺍِﻟٰﻰ ﺭَﺑِّﻨَﺎ ﻟَﻤُﻨْﻘَﻠِﺒُﻮْﻥ َ ۞
অর্থঃ পবিত্র ও মহান তিনি, যিনি এদেরকে আমাদের বশীভূত করে দিয়েছেন, যদিও আমরা এদেরকে বশীভূত করতে সমর্থ ছিলাম না। আমরা আমাদের প্রতিপালকের নিকট অবশ্যই প্রত্যাবর্তন করব। - (ছূরা যুখরুফ, আয়াত ১৩-১৪)
আমি উটের নাকিল ধরে উটকে সবেগে হাঁকাতে লাগলাম এবং উচ্চস্বরে শব্দ করে খুব দ্রুত তাড়াতে থাকলাম। তা দেখে বৃদ্ধা কুরআনের আয়াত পড়লেন-
ﻭَﺍﻗْﺼِﺪْ ﻓِﻰْ ﻣَﺸْﻴِﻚَ ﻭَﺍﻏْﻀُﺾْ ﻣِﻦْ ﺻَﻮْﺗِﻚَ ۞
অর্থঃ চলায় মধ্যবর্তিতা অবলম্বন কর এবং কন্ঠস্বর নীচু কর। - (ছূরা লুকমান, আয়াত ১৯)
ফলে আমি ধীরে ধীরে চলতে লাগলাম এবং কিছু কবিতা সুর করে গাইতে লাগলাম। তা শুনে বৃদ্ধা কুরআনের এ আয়াত বললেন-
ﻓَﺎﻗْﺮَﺋُﻮْﺍ ﻣَﺎ ﺗَﻴَﺴَّﺮَ ﻣِﻦَ ﺍﻟْﻘُﺮْﺍٰﻥِ ۞
অর্থঃ কুরআনের যতটুকু আবৃত্তি করা তোমাদের জন্য সহজ ততটুকু আবৃত্তি কর। - (ছূরা মুযযাম্মিল,আয়াত- ২০)
আমি বললাম, আল্লাহ তা’য়ালা আপনাকে খুবই পূণ্যবতী করে সৃষ্টি করেছেন। উত্তরে বৃদ্ধা কুরআনের এ আয়াত তিলাওয়াত করলেন-
ﻭَﻣَﺎ ﻳَﺬَّﻛَّﺮُ ﺍِﻟَّﺎ ﺍُﻭْﻟُﻮْ ﺍﻟْﺒَﺎﺏِ ۞
অর্থঃ জ্ঞানীরা ছাড়া অপর কেহ শিক্ষা গ্রহণ করেন না। (ছূরা বাকারা, আয়াত- ২৬৯)
কিছুক্ষণ চুপ থাকার পর আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম- “আপনার স্বামী আছেন?” বৃদ্ধা কুরআনের আয়াত পড়লেন-
ﻟَﺎ ﺗَﺴْﺌَﻠُﻮْﺍ ﻋَﻦْ ﺍَﺷْﻴَﺎۤﺀَ ﺍِﻥْ ﺗُﺒْﺪَ ﻟَﻜُﻢْ ﺗَﺴُﺆْ ﻛُﻢْ ۞
অর্থঃ এমন কথাবার্তা জিজ্ঞেস কর না যা তোমাদের কাছে প্রকাশ হলে, তোমাদের খারাপ লাগবে। (ছূরা মায়িদা, আয়াত- ১০১)
এবার আমি একদম চুপ হয়ে গেলাম এবং কাফেলা না পাওয়া পর্যন্ত তাঁর সাথে আর কোন কথা বললাম না। যখন একটা কাফেলা পেলাম তখন তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম সামনে একটা কাফেলা আছে, এতে আপনার কেহ আছে কি?” বৃদ্ধা কুরআনের আয়াত পড়লেন-
ﺍَﻟْﻤَﺎﻝُ ﻭَﺍﻟْﺒَﻨُﻮْﻥَ ﺯِﻳْﻨَﺔُ ﺍﻟْﺤَﻴٰﻮﺓِ ﺍﻟﺪُّﻧْﻴَﺎ ۞
অর্থঃ ধনৈশ্বর্য ও সন্তান-সন্ততি পার্থিব জীবনেরসৌন্দর্য। (ছূরা কাহাফ, আয়াত- ৪৬)
বুঝতে পারলাম উক্ত কাফেলায় তার ছেলে আছে। ফলে পুণরায় জিজ্ঞেস করলাম, “কাফেলায় আপনার ছেলের কাজ কি?” তিনি উত্তরে কুরআনের আয়াত পড়লেন-
ﻭَﻋَﻠٰﻤٰﺖٍ ﻭَﺑِﺎﻟﻨَّﺠْﻢِ ﻫُﻢْ ﻳَﻬْﺘَﺪُﻭْﻥَ ۞
অর্থঃ এবং তিনি (আল্লাহ তা’য়ালা) পথ নির্ণায়ক বহু চিহ্ন সৃষ্টি করেছেন এবং তারকা দ্বারাও মানুষ পথের নির্দেশ পায়। (ছূরা নাহল, আয়াত- ১৬)
আমি বুঝতে পারলাম, তাঁর ছেলে কাফেলার পথপ্রদর্শক (রাহাবার)। তাই আমি তাঁকে কাফেলার তাবুর নিকটে পৌঁছে বললাম, “এই তো আমরা কাফেলার দ্বার প্রান্তে পৌঁছে গেছি। এবার বলুনকে আপনার ছেলে?” বৃদ্ধা কুরআনের আয়াত পড়লেন-
ﻭَﺍﺗَّﺨَﺬَ ﺍﻟﻠﻪُ ﺍِﺑْﺮٰﻫِﻴْﻢَ ﺧَﻠِﻴْﻠًﺎ ۞
অর্থঃ আল্লাহ ইব্রাহিমকে (আঃ) বন্ধুরূপে গ্রহণ করেছেন। (ছূরা নিসা, আয়াত- ১২৫)
ﻭَﻛَﻠَّﻢَ ﺍﻟﻠﻪُ ﻣُﻮْﺳٰﻰ ﺗَﻜْﻠِﻴْﻤًﺎ ۞
অর্থঃ আর আল্লাহ মুসা (আঃ) এর সাথে সরাসরি কথোপকথোন করেছেন। (ছূরা নিসা, আয়াত-১৬৪)
ﻳَﺎ ﻳَﺤْﻰٰ ﺧَﺬِ ﺍﻟْﻜِﺘٰﺐَ ﺑِﻘُﻮَّﺓٍ ۞
অর্থঃ হে ইয়াহ্ইয়া! র্দঢ়তার সাথে এই কিতাব ধারণ করুন। (ছূরা মারইয়াম, আয়াত- ১২)
বুঝতে পারলাম, তাঁর ছেলেদের নাম ইব্রাহিম, মুছাও ইয়াহ্ইয়া। তাই আমি এ নামগুলো ধরে ধরে ডাক দিলাম- হে ইব্রাহিম! হে মুছা! হে ইয়াহইয়া! ডাক দেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই অপূর্ব সুদর্শন কিছু যুবক এসে আমার সামনে দাঁড়াল এবং আমার বিস্তারিত বিবরণ শুনে তারা তাদের মাকে খুঁজে পেয়ে খুবই খুশি হল। অতঃপর যখন আমরা সবাই প্রশান্তিতে বিশ্রাম নিতে বসে পড়লাম তখন বৃদ্ধা তাঁর ছেলেদের উদ্দেশ্যে কুরআনের আয়াত তিলাওয়াত করলেন-
ﻓَﺎﺑْﻌَﺜُﻮْۤﺍ ﺍَﺣَﺪَﻛُﻢْ ﺑِﻮَﺭِﻗِﻜُﻢْ ﻫٰﺬِﻫِۤﻰْ ﺍِﻟَﻰ ﺍﻟْﻤَﺪِﻳْﻨَﺔِﻑَﻟْﻴَﻨْﻈُﺮْ ﺍَﻳُّﻬَﺎۤ ﺍَﺯْﻛٰﻰ ﻃَﻌَﺎ ﻣًﺎ ﻓَﻠْﻴَﺎْ ﺗِﻜُﻢْ ﺑِﺮِﺯْﻕٍ ﻣِّﻨْﻪُ ۞
অর্থঃ এখন তোমাদের একজনকে তোমাদের এই মুদ্রাসহ শহরে প্রেরণ কর। সে যেন দেখে কোন খাদ্য পবিত্র। অতঃপর তা থেকে যেন কিছু খাদ্য তোমাদের জন্য নিয়ে আসে। (ছূরা কাহাফ,আয়াত- ১৯)
তার কথা শুনে একটা ছেলে উঠে গিয়ে কিছু খাদ্য কিনে আনল এবং তা আমার সামনে পরিবেশন করলেন। বৃদ্ধা তখন কুরআনের এ আয়াত পড়লেন-
ﻛُﻠُﻮْﺍ ﻭَﺍﺷْﺮَﺑُﻮْﺍ ﻫَﻨِۤﻴْﺌًﭑ ﺑِﻤَﺎۤ ﺍَﺳْﻠَﻔْﺘُﻢْ ﻓِﻰ ﺍﻟْﺎَﻳَّﺎﻣِﺎﻟْﺦ َﺍﻟِﻴَﺔِ ۞
অর্থঃ বিগত দিনে তোমরা যা করেছিলে তার বিনিময়ে তোমরা তৃপ্তি সহকারে খাও এবং পান কর। - (ছূরা হাক্বাহ, আয়াত- ২৪)
এবার আমি সুযোগের সদ্ব্যবহার করলাম। তাঁর ছেলেদেরকে লক্ষ্য করে বললাম, “তোমাদের এই খাবার আমার জন্য হারাম যতক্ষণ না পর্যন্ত তোমরা তোমাদের মায়ের এ অবস্থা সম্পর্কে আমাকে অবহিত করবে।”
তখন ছেলেরা বলল, “চল্লিশ বছর যাবৎ আমাদের মায়ের এই অবস্থা। এই চল্লিশ বছরে তিনি কুরআনের আয়াত ব্যতীত অন্য কোন বাক্য উচ্চারণ করেন নি। আর এই বাধ্যবাধকতা তিনি নিজেই নিজের উপর আবশ্যক করে নিয়েছেন। যেন কখনো মুখ থেকে এমন কোন অন্যায় কথা বের না হয়, যার কারণে মহান আল্লাহ অসন্তুষ্ট হন।”
আমি বিস্ময়ে অভিভূত হয়ে বললাম-
ﺫٰﻟِﻚَ ﻓَﻀْﻞُ ﺍﻟﻠﻪِ ﻳُﺆْﺗِﻴْﻪِ ﻣَﻦْ ﻳَّﺸَﺎۤﺀُ ﻁ ﻭَﺍﻟﻠﻪُ ﺫُﻭﺍﻟْﻔَﻀْﻞِ ﺍﻟْﻌَﻈِﻴْﻢِ ۞
অর্থঃ এটা আল্লাহর কৃপা, যাকে ইচ্ছা তিনি তা দান করেন। - (সুরা হাদীদ -২১)
সুবহানাল্লাহ! কেমন মহান ছিল সেই মহিয়সী মহিলার প্রতিজ্ঞা। তাঁর মত হতে না পারলেও অন্ততঃপক্ষে অহেতুক, অন্যায় ও অবৈধ কথাবার্তা বলা থেকে যবানকে বিরত ও সংযত রাখা আমাদের একান্ত কর্তব্য।
সূত্রঃ আল আবশেহী (রহঃ)। আল মুসতাতারফু ফি কুল্লি ফিন মুসতাতারফ ১ম খন্ড; ৫৬ ও ৫৭ পৃষ্ঠা। মিশর ১৩৬৮ হিজরী]

Tuesday, January 01, 2019

সুরা আল - কাহাফ শুক্রবারে পাঠ করার ফযিলত

সুরা আল-কাহাফ শুক্রবারে পাঠ করার ফযিলত

দাজ্জালের ফিতনা হতে রক্ষা ।
অর্থঃ
(ক) নবি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “ যে ব্যক্তি জুম’আর রাত্রিতে সূরা কাহাফ পাঠ করবে, তাঁর জন্য স্বীয় অবস্থানের জায়গা হতে পবিত্র মক্কা পর্যন্ত একটি নূর হবে ” ।[সহীহ তারগীব ওয়াত্ তারহীব, হাদীছ নং- ৭৩৬] ঘ. অন্য বর্ণনায় এসেছে,নবি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সল্লাম বলেন: “ যে ব্যক্তি জুমআর দিনে সূরা কাহাফ পাঠ করবে, তারজন্য পরবর্তী জুমআ পর্যন্ত আলোকময় হবে ” । [সহীহ তারগীব ওয়াত্ তারহীব, হাদীছ নং- ৭৩৬]
(খ) আবূ দরদা রদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি সুরা কাহাফের প্রথম দিক থেকে দশটি আয়াত মুখস্থ করবে, সে দাজ্জালের (ফিতনা) থেকে পরিত্রাণ পাবে।” 
অন্য বর্ণনায়: ‘কাহাফ সূরার শেষ দিক থেকে’ উল্লেখ হয়েছে। (মুসলিম) [1] আমি (আলবানী) বলছি: দ্বিতীয় বর্ণনাটি শায আর প্রথম বর্ণনাটি নিরাপদ (সহীহ্) যেমনটি আমি “সিলসিলাহ্ সহীহাহ্” গ্রন্থে (নং ৫৮২) তাহকীক্ব করেছি। এর সাক্ষ্য দিচ্ছে নাওয়াস ইবনু সাম‘আনের আগত হাদীসটি। যেটিকে (১৮১৭) নম্বরে লেখক উল্লেখ করেছেন। কারণ এতে বলা হয়েছে যে, তোমাদের মধ্য থেকে যে ব্যক্তি দাজ্জালকে পেয়ে বসবে সে যেন তার বিপক্ষে সূরা কাহাফের প্রথম অংশ পাঠ করে। মুসলিম ৮০৯, তিরমিযী ২৮৮৬, আবূ দাউদ ৪৩২৩, আহমাদ ২১২০০, ২৬৯৭০, ২৬৯৯২ হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
(গ) নবি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সল্লাম আরও বলেছেন: “ যে ব্যক্তি সূরা কাহাফ পাঠ করবে, কিয়ামতের দিন তারজন্য এমন একটি নূর হবে, যা তার অবস্থানের জায়গা থেকে মক্কা পর্যন্ত আলোকিত করে দিবে। আরযে ব্যক্তি উহার শেষ দশটি আয়াত পাঠ করবে।
তার জীবদ্দশায় দাজ্জাল বের হলেও সে তার কোন ক্ষতি করতে পারবে না। [সিলসিলায়ে সহীহা,হাদীছনং-২৬৫১]
ﺑِﺴْﻢِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺍﻟﺮَّﺣْﻤَﻦِ ﺍﻟﺮَّﺣِﻴﻢِ
পরম করুনাময় সীমাহীন দয়ালু আল্লাহর নামে [ শুরু করছি ]
1. সব প্রশংসা আল্লাহর যিনি নিজের বান্দার প্রতি এ গ্রন্থ নাযিল করেছেন এবং তাতে কোন বক্রতা রাখেন নি।
2. একে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন যা আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি ভীষণ বিপদের ভয় প্রদর্শন করে এবং মুমিনদেরকে যারা সৎকর্ম সম্পাদন করে- তাদেরকে সুসংবাদ দান করে যে, তাদের জন্যে উত্তম প্রতিদান রয়েছে।
3. তারা তাতে চিরকাল অবস্থান করবে।
4. এবং তাদেরকে ভয় প্রদর্শন করার জন্যে যারা বলে যে, আল্লাহর সন্তান রয়েছে।
5. এ সম্পর্কে তাদের কোন জ্ঞান নেই এবং তাদের পিতৃ পুরুষদেরও নেই। কত কঠিন তাদের মুখের কথা। তারা যা বলে তাতো সবই মিথ্যা।
6. যদি তারা এই বিষয়বস্তুর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন না করে, তবে তাদের পশ্চাতে সম্ভবত: আপনি পরিতাপ করতে করতে নিজের প্রাণ নিপাত করবেন।
7. আমি পৃথিবীস্থ সব কিছুকে পৃথিবীর জন্যে শোভা করেছি, যাতে লোকদের পরীক্ষা করি যে, তাদের মধ্যে কে ভাল কাজ করে।
8. এবং তার উপর যা কিছু রয়েছে, অবশ্যই তা আমি উদ্ভিদ শূন্য মাটিতে পরিণত করে দেব।
9. আপনি কি ধারণা করেন যে, গুহা ও গর্তের অধিবাসীরা আমার নিদর্শনাবলীর মধ্যে বিস্ময়কর ছিল?
10. যখন যুবকরা পাহাড়েরগুহায় আশ্রয়গ্রহণ করে তখন দে‘আ করে: হে আমাদের পালনকর্তা, আমাদেরকে নিজের কাছ থেকে রহমত দান করুন এবং আমাদের জন্যে আমাদের কাজ সঠিকভাবে পূর্ণ করুন।