Monday, December 31, 2018

ইসলামের দৃষ্টিতে থার্টি ফাস্ট নাইট ডে ও নববর্ষ আসলে কি?

 থার্টি ফাস্ট নাইট ডে আসলে কি? 


 রবি শশির চক্রানুক্রমে দিন যায়, রাত আসে। সপ্তাহ যায়, মাস আসে। মাস যায়, নতুন বছর শুরু হয়। এভাবে ঘোরাফেরার দিনাতিপাতে আমাদের জীবন অতিবাহিত হচ্ছে।
প্রতি বছর ইংরেজী ৩১সে ডিসেম্বর দিবাগত রাত ১২টা ০১ মিনিট থেকে ঘৃণ্য বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠান নিয়ে বিশ্ব একটি নতুন বর্ষে পদার্পণ করে। এ অনুষ্ঠান গুলি কি ইসলাম সমর্থিত!!! সুতরাং এর করণীয় ও বর্জণীয় সম্পর্কে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি জানাতেই আমাদের এ ক্ষুদ্র প্রয়াস।
থার্টি ফাস্ট নাইট ডে’র উৎপত্তি
প্রাচীন পারস্যের পরাক্রমশালী স¤্রাট জমশিদ খ্রিষ্টপূর্ব ৮০০ সালে নববর্ষ উৎসব প্রবর্তন করেন। পরবর্তীতে ব্যাবীলনের স¤্রাট জুলিয়াস সিজার খ্রিষ্টপূর্ব ৪৬ সালে ইংরেজি নববর্ষ প্রচলন করেন। প্রথমদিকে নববর্ষ বিভিন্ন তারিখে পালন করা হতো। তারপর পহেলা জানুয়ারী নববর্ষের দিন হিসেবে নির্দিষ্ট হয় ১৫৮২ সালে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার প্রবর্তনের পর। বাংলাদেশে থার্টি ফাস্ট নাইট ডে’র ব্যাপক প্রচলন ঘটে ২০০০ সালের ৩১ শে ডিসেম্বর মধ্যরাতের মিলেনিয়াম বা সহ্রাব্দ পালনের মধ্য দিয়ে। ( সূত্র ইন্টারনেট)
দিনরাতের পর সপ্তাহ, সপ্তাহের পর মাস, মাসের পর বছর, এগুলো কার ঈশারায় হয়? নিশ্চয়ই এর একজন কারিগর আছেন! কে তিনি? তিনি আমাদের সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা, লালনকর্তা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআলা।
আল্লাহপাক আল কোরআনে ইরশাদ করেন-
 إِنَّ الدِّينَ عِندَ اللّهِ الإِسْلاَمُ
‘নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট একমাত্র মনোনীত দ্বীন হচ্ছে ইসলাম’। 
বাংলাদেশের ৯৫ ভাগ মানুষ ইসলাম ধর্মে বিশ্বাসী। তাই এ দেশের সংবিধানে উল্লেখ রয়েছে আমাদের রাষ্ট্রধর্ম “ইসলাম’’। কথা হচ্ছে ইসলামে কোনপ্রকার কুকালচার বা বিজাতীয় কৃষ্টি কিংবা অপসংস্কৃতি উদযাপনের অনুমোদন আছে কি? ইসলামের কথা না হয় পরে বলি, সচেতন বাঙালিদের বিবেকে প্রশ্ন রাখছি- থার্টি ফাস্ট নাইট কি আমাদের বাঙালি সংস্কৃতিতে আছে? যদি না থাকে তবে কেন লাখ লাখ শহীদের পবিত্র খুনে রঙিত সবুজ এই জমিনে থার্টি ফার্স্ট এবং নববর্ষের নামে নষ্টামির নির্লজ্জ প্রদর্শনীর আয়োজন? আমাদের তো স্বকীয় সন আছে, বাংলা ক্যালেন্ডার আছে, তবে কেন সেই ব্রিটিশদের ইংরেজি সন নিয়ে এতো মাতামাতি? থার্টিনষ্টিসহ ইসলামবিরোধী কোন কাজ ৯৫ ভাগ মুসলমানের দেশে ডাকঢোল পিটিয়ে হতে পারে কি? আমাদের ক্ষমতাসীন সরকার প্রধান তো তাহাজ্জুদ নামাজ পড়েন, হজব্রত পালন করেন, সংগত কারণেই বলতে হচ্ছে, তিনি একজন ধার্মিক দেশকর্তা হিসেবে সরকারিভাবে থার্টি ফাস্ট নাইট এবং অপসংস্কৃতিসহ সকল ইসলামবিরোধী কাজ বন্ধ করে দেয়া উচিত নয় কি? পাশাপাশি মুসলিম গরিষ্ট দেশ হিসেবে থার্টি ফার্স্ট নাইটের ন্যায় বেহায়াপনা ও ইসলামবিরোধী কাজগুলো থেকে সরকারকর্তৃক মুসলমানদের বিরত রাখা দায়িত্বের দাবিদার নয় কি?
 ইতিহাসের আলোকে নববর্ষ ও থার্টি ফাষ্ট নাইট
এখানে ইসলামের নির্দেশনা বর্ণনার আগে ইতিহাসের আলোকে বিভিন্ন জাতির সূত্রানুযায়ী ইংরেজি নববর্ষ এবং ‘থার্টি ফার্স্ট নাইট’ কালচারের শেকড়ের কথা উদ্ধৃতির দাবি রাখে।
খ্রিস্টপূর্ব ’৪৬ সালে জুলিয়াস সিজার সর্বপ্রথম ইংরেজি নববর্ষ উৎসবের প্রচলন করেন। তারপরও ১ জানুয়ারি নববর্ষ পালনের ইতিহাসের সাথে ইসলামের ন্যূনতম সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি। সূত্রমতে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের মাধ্যমে ইংরেজি সনের বিস্তৃতি। ধীরে ধীরে শুধু ইউরোপে নয় সারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার [খৃস্টানদের তথাকথিত ধর্মযাজক, (যার বিবাহ বহির্ভূত একটি সন্তান ছিল) পোপ গ্রেগরীর নামানুসারে যে ক্যালেন্ডার] অনুযায়ী নববর্ষ পালন করা হয়! সাধারণভাবে প্রাচীন পারস্যের সম্রাট জমশীদ খ্রিস্টপূর্ব ৮০০ সালে এই নববর্ষ বা নওরোজের প্রবর্তন করেছিলেন। এ ধারাবাহিকতা এখনো পারস্যে আছে, এবং ইরানে নওরোজ (নতুন দিন) ঐতিহ্যগত নববর্ষের জাতীয় উৎসব হিসেবে পালিত হয়। ইরানে নববর্ষ বা নওরোজ শুরু হয় পুরনো বছরের শেষ বুধবার এবং উৎসব চলতে থাকে নতুন বছরের ১৩ তারিখ পর্যন্ত। ইরান হতেই ইহা একটি সাধারণ সংস্কৃতির ধারা মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মুসলিম দেশ এবং ভারত উপমহাদেশে প্রবেশ করে। মেসোপটেমিয়ায় এই নববর্ষ শুরু হতো নতুন চাঁদের সঙ্গে। ব্যাবিলনিয়ায় নববর্ষ শুরু হতো ২০ মার্চ, মহাবিষুবের দিনে। অ্যাসিরিয়ায় শুরু হতো ২১ সেপ্টেম্বর, জলবিষুবের দিনে। মিসর, ফিনিসিয়া ও পারসিকদের নতুন বছর শুরু হতো ২১ সেপ্টেম্বর। গ্রীকদের নববর্ষ শুরু হতো খ্রিস্টপূর্ব পঞ্চম শতাব্দী পর্যন্ত ২১ ডিসেম্বর। রোমান প্রজাতন্ত্রের পঞ্জিকা অনুযায়ী নববর্ষ শুরু হতো ১ মার্চ এবং খ্রিস্টপূর্ব ১৫৩-এর পরে ১ জানুয়ারিতে। ইয়াহুদিদের নববর্ষ বা রোশ হাসানা শুরু হয় তিসরি মাসের প্রথম দিন, কতিপয় ইয়াহুদিদের মতে সেই মাসের দ্বিতীয় দিন। মোটামুটিভাবে তিসরি মাস হচ্ছে ৫ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ অক্টোবর। মধ্যযুগে ইউরোপের বেশিরভাগ দেশে নববর্ষ শুরু হতো ২৫ মার্চ, তারা ধারণা করতো এদিন দেবদূত গ্যাব্রিয়েল যিশুমাতা মেরির কাছে যিশু খ্রিস্টের জন্মবার্তা জ্ঞাপন করে। অ্যাংলো-স্যাকসন ইংল্যান্ডে নববর্ষের দিন ছিল ২৫ ডিসেম্বর। পহেলা জানুয়ারি পাকাপোক্তভাবে নববর্ষের দিন হিসেবে নির্দিষ্ট হয় ১৫৮২ সালে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার প্রবর্তনের পর। ধীরে ধীরে শুধু ইউরোপে নয় সারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার অনুযায়ী নববর্ষ পালন করা হচ্ছে। বাদশাহ আকবরের ফরমান অনুযায়ী আমীর ফতেহ উল্লাহ্ শিরাজী উদ্ভাবিত বাংলা ফসলি সাল চালু হয় ১০ মার্চ ১৫৬৩ সালে। ইংরেজ আমলে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার অনুসরণ করা হলেও রাজস্ব আদায়ে ও অভ্যন্তরীণ ব্যবসা-বাণিজ্যে বাংলা সাল তথা ফসলী সন বেশি ব্যবহার করা হতো। বর্ষবরণের সাথে ধর্মীয় অনুভূতির যোগ শুরু থেকেই ছিল বা বর্ষবরণকারীরা ধর্মীয় বিশ্বাসের আলোকেই তা করত। তবে, সেটা আল্লাহ প্রদত্ত কোন নবী-রাসূল আনিত ইসলামে অনুমোদিত হয়নি! মুসলিম সংস্কৃতির মধ্যে প্রবেশ করতে পারেনি। মজুসী বা অগ্নি উপাসকরা এখনো বর্ষবরণকে সরকারি ছত্রছায়ায় ব্যাপক জাঁকজমকভাবে পালন করে থাকে। একে তারা তাদের ধর্মীয় অনুষঙ্গ মনে করে এবং একে নওরোজ বা নতুন দিন বলে অভিহিত করে। ফসলী সনের নববর্ষ হিন্দুদের খাছ ধর্মীয় উৎসবের দিন। এর আগের দিন তাদের চৈত্র সংক্রান্তি, আর পহেলা বৈশাখ হলো ঘট পূজার দিন। [সূত্র- থার্টি ফাস্ট নাইট : একটু ভাবুন! (গ্রন্থ) সবুজ বাংলা ও সামহিয়্যারইন (ব্লগ)]
ইসলাম হচ্ছে আল্লাহপাকের তরফ থেকে তাঁর প্রিয় হাবীব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মাধ্যমে তথা ওহীর মাধ্যমে নাজিলকৃত, একমাত্র পরিপূর্ণ, সন্তুষ্টিপ্রাপ্ত, নিয়ামতপূর্ণ, অপরিবর্তনীয় এবং মনোনীত দ্বীন। মানুষের মুক্তি ও হেদায়াতের জীবন ব্যবস্থা। যা কিয়ামত পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। সে প্রসঙ্গে আল্লাহপাক পবিত্র আল কোরআনে সূরা আল ইমরানের ১৯ নম্বর আয়াতে বলেন-“নিশ্চয় ইসলামই আল্লাহপাকের কাছে একমাত্র মনোনীত দ্বীন”। মহান আল্লাহ আল কোরআনে সূরা মায়িদার ৩ নম্বর আয়াতে আরো ইরশাদ করেন, “আজ আমি তোমাদের দ্বীনকে (ইসলামকে) পরিপূর্ণ করে দিলাম, তোমাদের প্রতি আমার নিয়ামতসমূহ সম্পূর্ণ করে দিলাম এবং আমি তোমাদের দ্বীন ইসলামের প্রতি সন্তুষ্ট রইলাম।” রব্বে কারীম দ্বীন ইসলামকে শুধুমাত্র পরিপূর্ণ সন্তুষ্টিপ্রাপ্ত ও নিয়ামতপূর্ণ করেই নাজিল করেননি! সাথে সাথে দ্বীন ইসলামকে তাঁর মনোনীত ও ঘোষণা করেছেন। তাই দ্বীন ইসলাম ব্যতীত অন্য সমস্ত ধর্ম যা ওহীদ্বারা নাজিল করা হয়েছিল যেমন, তাওরাত, যাবূর, ইনজীল ও ১০০ খানা ছহীফা এবং মানব রচিত মতবাদ যা পূর্বে ছিল ও বর্তমানে যা রয়েছে এবং ভবিষ্যতে যা হবে সেগুলোকে তিনি বাতিল ঘোষণা করেছেন।
এবার দেখা যাক ইসলামের নির্দেশনা এং ইতিহাস পর্যালোচনায় বিশ্বখ্যাত ইসলামিক স্কলারের অভিমত।
ইমাম আবু হাফস কবীর রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, নওরোজ বা নববর্ষ উপলক্ষে যদি কেউ একটা ডিমও দান করে, তাহলে ঐ মুসলমানের ৫০ বছরের আমল বরবাদ হয়ে যাবে। অর্থাৎ নওরোজ বা নববর্ষ পালনের কারণে তার জিন্দেগির সমস্ত আমল বরবাদ হয়ে যাতে পারে।
আজকে অনেক মুসলমান থার্টি ফার্স্ট নাইট পালন করছে। ইংরেজি নববর্ষ, ফসলী সনের নববর্ষসহ বিভিন্ন নববর্ষ পালন করছে। আর এতে করে তারা বিজাতি ও বিধর্মীদের সাথেই সম্পর্ক রাখছে। তাদেরই অনুসরণ অনুকরণ করছে।
পবিত্র কোরআন শরিফে ইরশাদ হয়েছে, “নিশ্চয়ই সমস্ত প্রাণীর মাঝে আল্লাহপাকের নিকট কাফিররাই নিকৃষ্ট, যারা ঈমান আনেনি।” (সূরা আনফাল : আয়াত শরীফ ৫৫) আর নববর্ষ পালনের দ্বারা সে কাফিরদেরই অনুসরণ-অনুকরণ করা হয়।
হাদিস শরিফে ইরশাদ হয়েছে, সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রযিঃ থেকে বর্ণিত। বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি যে সম্প্রদায়ের সাথে সম্পর্ক রাখে, সে তাদের দলভুক্ত এবং তার হাশর-নশর তাদের সাথেই হবে।” (সুনানে আহমদ, সুনানে আবূ দাউদ) ইতিহাস এটাই প্রমাণ করে যে, নববর্ষ পালনের প্রবর্তক বিধর্মীরাই। তাই ইসলাম নববর্ষ পালনকে কখনোই স্বীকৃতি দেয় না।
হাদিস শরিফে উল্লেখ করা হয়েছে, “হযরত জাবির রাযিয়াল্লাহু আনহু হুযূরপাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হতে বলেন বর্ণনা করেন যে, একদিন হযরত উমর ইবনুল খত্তাব রাযি. নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট এসে বললেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ্! আমরা ইয়াহুদীদের থেকে তাদের কিছু ধর্মীয় কথা শুনে থাকি, যাতে আমরা আশ্চর্যবোধ করি, এর কিছু আমরা লিখে রাখবো কি? রাসূল (সা.) বললেন, তোমরাও কি দ্বিধাদ্বন্দ্বে রয়েছ? যে রকম ইয়াহুদী-নাসারাগণ দ্বিধাদ্বন্দ্বে রয়েছে? অবশ্যই আমি তোমাদের নিকট পরিপূর্ণ, উজ্জ্বল ও পরিষ্কার ধর্ম নিয়ে এসেছি। নবী মুসা (আ.) যদি দুনিয়ায় থাকতেন, তাহলে তাঁকেও আমার অনুসরণ করতে হতো।” (মুসনাদে আহ্মদ, বাইহাক্বী, মিশকাত, মিরকাত, আশয়াতুল লুময়াত ইত্যাদি)
বাঙালি মুসলমানদের জন্য বাংলাদেশের সংবিধানের একটি ধারা শোনানুর যৌক্তিকতা মনে করছি। সংবিধানের ৩ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রভাষা বাংলা। সে প্রেক্ষিতে দেশে ইংরেজি ভাষাসহ বিভিন্ন উপজাতীয় ভাষার ঊর্ধ্বে যেমন রাষ্ট্রভাষা বাংলার মর্যাদা ও প্রাধান্য তেমনি সংবিধানের ২ নম্বর ধারায় বর্ণিত রাষ্ট্রধর্ম ইসলামের কথা স্বীকারের প্রেক্ষিতে অন্যান্য ধর্ম ও ধর্মাবলম্বীর উপরে ইসলাম ও মুসলমানের মর্যাদা ও প্রাধান্য স্বীকৃত হওয়া আবশ্যকের দাবিদার। তাই, থার্টি ফার্স্ট নাইটের মতো অসাংবিধানিক সাস্কৃতিক আগ্রাসন রোধে কার্যকরী ভূমিকা প্রণিধানযোগ্য। আবেগী আর হুজুগি মুসলিম বাঙালি ভাই-বোনেরা আসুন! এসব ঈমান বিধ্বংসী অপসংস্কৃতি পরিত্যাগ করি, এগিয়ে আসুন, সচেতনরা ভূমিকা রাখুন। পাশাপাশি ইসলাম ও মুসলমানদের প্রতি সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা অনেক বেশি হওয়া কর্তব্য মনে করি। যা মূলত আমাদের প্রচলিত সংবিধানেরই ব্যখ্যা।
ইসলামের দৃষ্টিতে থার্টি ফার্স্ট নাইট ডে’র কার্যাবলীর ব্যাখ্যা
১. অশ্লীলতা ও বেহায়াপণা: এ রাত্রিেেক কেন্দ্র করে চলে অশালীন ও বেহায়পণার মহোৎসব। যুবতীরা আটশাঁট, অশালীণ ও নগ্ন পোষাক পরিধান করে অবাধে চলাফেরা করে। অথচ এ প্রসঙ্গে নবি (স) বলেন: ঐসব নারী যারা হবে পোষাক পরিহীতা কিন্তু নগ্ন। যারা পরপুরুষকে আকৃষ্ট করবে এবং নিজেরাও আকৃষ্ট হবে। তাদের মাথা মাথা বক্র উচুঁ কাঁধ বিশিষ্ট উটের ন্যায়। তারা জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। এমনকি জান্নাতের সুগন্ধিও পাবে না। (দেখুন সহীহ মুসলিম-২১২৮)
২. গান বাজনা: থার্টি ফাস্ট নাইটকে কেন্দ্র করে আয়োজিত বিভিন্ন কনসার্টে নারী পুরুষের একসঙ্গে গান বাজনা, নগ্ন নৃত্য যেন আবশ্যকীয় বিষয় হয়ে দাড়িঁয়েছে। অথচ ইহা আল্লাহ তায়ালা ও রসূল (স) সম্পূর্ণ হারাম ও অবৈধ বলে ঘোষণা করেছেন। ( দেখুন সূরা লুকমান-৬, সহীহ বুখারী-৫৫৯০, ৬৮৯১)
৩. আতশবাজী ও পটকাবাজী: এ রাতে আনন্দ উল্লাস উপভোগ করার জন্য মধ্যরাত থেকে শুরু হয় আতশবাজীও পটকাবাজী। যা জনমনে ব্যাপক আতঙ্ক ও ভীতি সৃষ্টি করে এবং জনসাধারণের জন্য কষ্টদায়ক হয়। অথচ আল্লাহ বলেন:
যা বিনা অপরাধে মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদের কষ্টদেয়, তারা মিথ্যা অপবাদ ও প্রকাশ্য পাপের বোঝা বহন করে। দেখুন সূরা আহযাব-৫৮, সহীহ বুখারী-২৯০৫)
৪. অর্থ অপচয়: এ রাতকে কেন্দ্র করে অনেক অর্থ অনৈসলামিক ও হারাম কাজে ব্যায় করা হয়। যা অপচয় ও অপব্যায়ের শামিল। আর ইসলাম অপব্যাকারীকে শয়তানের ভাই হিসাবে আখ্যায়িত করেছে। দেখুন সূরা বানী ইসরাঈল ২৬-২৭)
৫. যুবক-যুবতীর অবাধ মেলামেশা: এ রাত্রিতে বিভিন্ন আবাসিক হোটেল, কমিউনিট সেন্টার, সমুদ্র সৈকত, নাইট ক্লাব গুলোতে যুবক-যুবতীরা অবাধে মেলামেলা ও অপকর্মে লিপ্ত হয়। অথচ ইসলাম ইহাকে কঠোরভাবে নিষেধ করেছে। রসূল (স) বলেছেন: অবশ্যই কোন পুরুষ কোন নারীর সাথে নির্জনে একত্রিত হলে তাদের তৃতীয়জন হয় শয়তান। (দেখুন তিরমিযি, মিশকাত-১৩১৮, সহীহ)
৬. নেশাদ্রব্য সেবন: এ রাতে উশৃংখল যুবক-যুতীরা মদ ও নেশা দ্রব্য পান করে মাতাল হয়ে বিভিন্ন অপকর্ম ঘটায়। আর একারণেই ইসলাম সমুদয় নেশাদ্রব্যকে হারাম করেছে। ( দেখুন সূরা মায়েদা-৯০-৯১ ও সূরা নিসা-১৪, সহীহ মুসলিম ২য় খন্ড, ৯৬৭ পৃষ্ঠা)
৭. বিধর্মীদের সাথে সাদৃশ্য: থার্টি ফাস্ট নাইট ডে উদযাপন সম্পূর্ণরূপে বিধর্মী অপসংস্কৃতি। এ রাত্রিতে ঐঅচচণ ঘঊড ণঊঅজ বলে অভিভাদন জানানো, আতশবাজী, পটকাবাজী, ফ্যাশন শো, ফায়ার প্লে, ট্যাটো বা উল্কা অংকন, ডিজে ও কনসার্ট, নেশা সেবন সহ বিধমীদের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ বিভিন্ন ধরণের অনৈসলামিক ও অপসংস্কৃতিক কার্যাবলী চর্চা করা হয়। আর ইসলাম বিধর্মীদের সাথে সাদৃশ্য রাখাকে কঠোরভাবে নিষেধ করেছে। রাসূর (সা) বলেছেন: যে ব্যক্তি কোন সম্প্রদায়ের সাদৃশ্য অবলম্বন করলো সে তাদেরই অন্তর্ভূক্ত। ( দেখুন আহমাদ, আবূ দাউদ, মিশকাত-৪৩৪৭) চরিত্র ধ্বংসে বিধর্মীদের নীলনকশা
মুসলিম তরুণ-তরুণীদের চরিত্র ধ্বংস করার জন্য ইহুদী-খ্রিস্টানদের নীলনকশার একটি অংশ থার্টি ফাস্ট নাইট। আর একটি জাতিকে ধ্বংস করার মূলহাতিয়ার হচ্ছে যুব সমাজকে ধ্বংস করা। এ লক্ষ নিয়েই তারা সামনে অগ্রসর হচ্ছে। তাই আল্লাহ আমাদেরকে তাদের অনুস্বরণ করতে নিষেধ করেছেন। ( দেখুন সূরা বাকরা-১২০ ও সূরা আনআম-১৫)
শেষকথা: পরিশেষে বলব, বর্ষবরণ অনুষ্ঠান ইসলামী শরিয়তের সাথে সাংঘর্ষিক। অথচ মুমিন জীবন ইলাহী জীবন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। অতএব সকল মুসলিম ভাইবোনদের ইসলামী সং¯কৃতি চর্চার ও অনৈসলামী বা পশ্চিমা সংস্কৃতি পরিহার করে ঈমান রক্ষা করার উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।