Saturday, December 15, 2018

ইসলামের দৃষ্টিতে বন্ধুত্ব

ইসলামের দৃষ্টিতে বন্ধুত্ব এবং করণীয়
 
নবী করীম (সাঃ) বলেছেন, “মুমিন ব্যক্তির সাথে বন্ধুত্বের সম্পর্ক মজবুত কর। আর তার সাথেই পানাহার কর।” এখানে মুমিন ব্যক্তিদের সাথে বন্ধুত্ব করার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু মুমিন ছাড়া কি আর কারো সাথে বন্ধুত্ব করা যাবে না? এ প্রশ্নের উত্তর আল্লাহ তায়ালাই দিয়েছেন।
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ لاَ تَتَّخِذُواْ الْكَافِرِينَ أَوْلِيَاء مِن دُونِ الْمُؤْمِنِينَ أَتُرِيدُونَ أَن تَجْعَلُواْ لِلّهِ عَلَيْكُمْ سُلْطَانًا مُّبِينًا
“হে ঈমানদারগণ, তোমরা ঈমানদারদের বাদ দিয়ে কাফেরদের নিজের বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না। তোমরা কি তাদের বন্ধুরূপে গ্রহণ করে আল্লাহতায়ালার কাছে তোমাদের বিরুদ্ধে কোন সুস্পষ্ট প্রমাণ তুলে দিতে চাও?
[সূরা আন নিসা : ১৪৪]
ঈমানদারগণ বলতে মুমিন ব্যক্তি।
মুমিন কারা?
মুমিনদের বৈশিষ্ট্য কি?
সুরা মুমিনুনের প্রথম এগারটি আয়াতের তর্জমা/অর্থ ।
১) ক্বাদ আফলাহা’ল মু’মিনুন।
অর্থঃ নিশ্চয়ই মুমিনগণ সফলকাম হয়ে গেছে।
২) (মুমিন হচ্ছে তারাই) যারা নিজেদের সালাতে খাশিয়ু’ন (বিনয়ী, নম্র)।
৩) যারা অসার ক্রিয়া-কলাপ হতে বিরত থাকে।
(৪) যারা যাকাত দানে সক্রিয়।
৫) যারা নিজেদের যৌন অঙ্গকে সংযত রাখে।
(৬) নিজেদের পত্নী অথবা অধিকারভুক্ত দাসী ব্যতীত; এতে তারা নিন্দনীয় হবে না।
(৮) এবং যারা আমানত ও প্রতিশ্রুতি রক্ষা
(৭) সুতরাং কেউ এদেরকে ছাড়া অন্য কাউকে কামনা করলে তারা হবে সীমালংঘনকারী।
৯) আর যারা নিজেদের সালাতের ব্যপারে যত্নবান থাকে।
(১০) তারাই হবে উত্তরাধিকারী।
(১১) উত্তরাধিকারী হবে (জান্নাতুল) ফিরদাউসের; যাতে তারা চিরস্থায়ী হবে।
যেহেতু আমরা বন্ধুছাড়া চলতে পারি না সেহেতু বন্ধু গ্রহণের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্ক হতে হবে।
এ সম্পর্কে মহানবী (সাঃ) বলেন, “মানুষ তার বন্ধুর ধর্মের দ্বারা প্রভাবিত হয়। তাই তোমাদের যে কেউ যেন বিচেনা করে দেখে কাকে সে বন্ধুরূপে গ্রহণ করছে। [তিরমিজি]
মহানবী (সঃ) আরো বলেন “জীবন যাপন প্রণালী ও চিন্তা ভাবনায় ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্বের বেলায় অভিন্নতা থাকা বাঞ্ছনীয়। অতএব বন্ধু নির্বাচনে প্রত্যেকের যতœশীল হওয়া উচিত। [তিরমিজি]
বিভিন্ন কারণে আমাদের বন্ধুত্ব গড়ে উঠে। কিন্তু আল্লাহর প্রতি আনুগত্যের ভিত্তিতে যে বন্ধুত্ব গড়ে উঠে সে বন্ধুত্ব সবচেয়ে মজবুত হয়। অপরদিকে নিজের স্বার্থের জন্য উপকার লাভের আশায়, ক্লাব সদস্যের ভিত্তিতে, সামাজিক শ্রেণী ও জাতিগত পরিচিতির ভিত্তিতে যে বন্ধুত্ব গড়ে উঠে তা বেশিদিন টিকে না। এ সকল ক্ষেত্রে কারো স্বার্থে কোন রকম আঘাত লাগলেই নষ্ট হয়ে যায়।
নবী করিম (সাঃ) বলেন, “যে ব্যক্তি কাউকে ভালোবাসলো তো আল্লাহ্্র জন্যই ভালোবাসলো, কাউকে ঘূণা করলো তো আল্লাহ্্র জন্যই ঘৃণা করলো, কাউকে কিছু দিল তো আল্লাহর জন্যইড দিল এবং কাউকে দেওয়া বন্ধ করলো তো আল্লাহর জন্যই দেয়া বন্ধ করলো, তবে সে তার ঈমানকে পূর্ণ করলো। [মিশকাত]
মহান আল্লাহ তায়ালা আরো বলেন,
তোমরা অজ্ঞদেরকে মূর্খদেরকে বন্ধু রূপে গ্রহন করিও না।
যারা অজ্ঞ তাদের মনমস্তিস্ক আর ভঙ্গিমার সাথে জ্ঞানী ব্যক্তির মনমস্তিস্ক ও ভাব-ভঙ্গির কোন মিল হবেনা। আর তারা কোন কথা চিন্তা ভাবনা করে উপস্থাপন করবে না।
প্রবাদে আছে- যে মূর্খ বন্ধুর থেকে জ্ঞানী শত্রু উত্তম। যারা মূর্খ তারা পেছনে তোমাকে আঘাত করবে না।
অতএব আমাদের প্রত্যেকের উচিত সঠিক বন্ধু ও সহচর গ্রহন করা। অন্যথায় আমরা বিপদে পড়বো।