Monday, December 31, 2018

ইসলামের দৃষ্টিতে থার্টি ফাস্ট নাইট ডে ও নববর্ষ আসলে কি?

 থার্টি ফাস্ট নাইট ডে আসলে কি? 


 রবি শশির চক্রানুক্রমে দিন যায়, রাত আসে। সপ্তাহ যায়, মাস আসে। মাস যায়, নতুন বছর শুরু হয়। এভাবে ঘোরাফেরার দিনাতিপাতে আমাদের জীবন অতিবাহিত হচ্ছে।
প্রতি বছর ইংরেজী ৩১সে ডিসেম্বর দিবাগত রাত ১২টা ০১ মিনিট থেকে ঘৃণ্য বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠান নিয়ে বিশ্ব একটি নতুন বর্ষে পদার্পণ করে। এ অনুষ্ঠান গুলি কি ইসলাম সমর্থিত!!! সুতরাং এর করণীয় ও বর্জণীয় সম্পর্কে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি জানাতেই আমাদের এ ক্ষুদ্র প্রয়াস।
থার্টি ফাস্ট নাইট ডে’র উৎপত্তি
প্রাচীন পারস্যের পরাক্রমশালী স¤্রাট জমশিদ খ্রিষ্টপূর্ব ৮০০ সালে নববর্ষ উৎসব প্রবর্তন করেন। পরবর্তীতে ব্যাবীলনের স¤্রাট জুলিয়াস সিজার খ্রিষ্টপূর্ব ৪৬ সালে ইংরেজি নববর্ষ প্রচলন করেন। প্রথমদিকে নববর্ষ বিভিন্ন তারিখে পালন করা হতো। তারপর পহেলা জানুয়ারী নববর্ষের দিন হিসেবে নির্দিষ্ট হয় ১৫৮২ সালে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার প্রবর্তনের পর। বাংলাদেশে থার্টি ফাস্ট নাইট ডে’র ব্যাপক প্রচলন ঘটে ২০০০ সালের ৩১ শে ডিসেম্বর মধ্যরাতের মিলেনিয়াম বা সহ্রাব্দ পালনের মধ্য দিয়ে। ( সূত্র ইন্টারনেট)
দিনরাতের পর সপ্তাহ, সপ্তাহের পর মাস, মাসের পর বছর, এগুলো কার ঈশারায় হয়? নিশ্চয়ই এর একজন কারিগর আছেন! কে তিনি? তিনি আমাদের সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা, লালনকর্তা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআলা।
আল্লাহপাক আল কোরআনে ইরশাদ করেন-
 إِنَّ الدِّينَ عِندَ اللّهِ الإِسْلاَمُ
‘নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট একমাত্র মনোনীত দ্বীন হচ্ছে ইসলাম’। 
বাংলাদেশের ৯৫ ভাগ মানুষ ইসলাম ধর্মে বিশ্বাসী। তাই এ দেশের সংবিধানে উল্লেখ রয়েছে আমাদের রাষ্ট্রধর্ম “ইসলাম’’। কথা হচ্ছে ইসলামে কোনপ্রকার কুকালচার বা বিজাতীয় কৃষ্টি কিংবা অপসংস্কৃতি উদযাপনের অনুমোদন আছে কি? ইসলামের কথা না হয় পরে বলি, সচেতন বাঙালিদের বিবেকে প্রশ্ন রাখছি- থার্টি ফাস্ট নাইট কি আমাদের বাঙালি সংস্কৃতিতে আছে? যদি না থাকে তবে কেন লাখ লাখ শহীদের পবিত্র খুনে রঙিত সবুজ এই জমিনে থার্টি ফার্স্ট এবং নববর্ষের নামে নষ্টামির নির্লজ্জ প্রদর্শনীর আয়োজন? আমাদের তো স্বকীয় সন আছে, বাংলা ক্যালেন্ডার আছে, তবে কেন সেই ব্রিটিশদের ইংরেজি সন নিয়ে এতো মাতামাতি? থার্টিনষ্টিসহ ইসলামবিরোধী কোন কাজ ৯৫ ভাগ মুসলমানের দেশে ডাকঢোল পিটিয়ে হতে পারে কি? আমাদের ক্ষমতাসীন সরকার প্রধান তো তাহাজ্জুদ নামাজ পড়েন, হজব্রত পালন করেন, সংগত কারণেই বলতে হচ্ছে, তিনি একজন ধার্মিক দেশকর্তা হিসেবে সরকারিভাবে থার্টি ফাস্ট নাইট এবং অপসংস্কৃতিসহ সকল ইসলামবিরোধী কাজ বন্ধ করে দেয়া উচিত নয় কি? পাশাপাশি মুসলিম গরিষ্ট দেশ হিসেবে থার্টি ফার্স্ট নাইটের ন্যায় বেহায়াপনা ও ইসলামবিরোধী কাজগুলো থেকে সরকারকর্তৃক মুসলমানদের বিরত রাখা দায়িত্বের দাবিদার নয় কি?
 ইতিহাসের আলোকে নববর্ষ ও থার্টি ফাষ্ট নাইট
এখানে ইসলামের নির্দেশনা বর্ণনার আগে ইতিহাসের আলোকে বিভিন্ন জাতির সূত্রানুযায়ী ইংরেজি নববর্ষ এবং ‘থার্টি ফার্স্ট নাইট’ কালচারের শেকড়ের কথা উদ্ধৃতির দাবি রাখে।
খ্রিস্টপূর্ব ’৪৬ সালে জুলিয়াস সিজার সর্বপ্রথম ইংরেজি নববর্ষ উৎসবের প্রচলন করেন। তারপরও ১ জানুয়ারি নববর্ষ পালনের ইতিহাসের সাথে ইসলামের ন্যূনতম সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি। সূত্রমতে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের মাধ্যমে ইংরেজি সনের বিস্তৃতি। ধীরে ধীরে শুধু ইউরোপে নয় সারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার [খৃস্টানদের তথাকথিত ধর্মযাজক, (যার বিবাহ বহির্ভূত একটি সন্তান ছিল) পোপ গ্রেগরীর নামানুসারে যে ক্যালেন্ডার] অনুযায়ী নববর্ষ পালন করা হয়! সাধারণভাবে প্রাচীন পারস্যের সম্রাট জমশীদ খ্রিস্টপূর্ব ৮০০ সালে এই নববর্ষ বা নওরোজের প্রবর্তন করেছিলেন। এ ধারাবাহিকতা এখনো পারস্যে আছে, এবং ইরানে নওরোজ (নতুন দিন) ঐতিহ্যগত নববর্ষের জাতীয় উৎসব হিসেবে পালিত হয়। ইরানে নববর্ষ বা নওরোজ শুরু হয় পুরনো বছরের শেষ বুধবার এবং উৎসব চলতে থাকে নতুন বছরের ১৩ তারিখ পর্যন্ত। ইরান হতেই ইহা একটি সাধারণ সংস্কৃতির ধারা মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মুসলিম দেশ এবং ভারত উপমহাদেশে প্রবেশ করে। মেসোপটেমিয়ায় এই নববর্ষ শুরু হতো নতুন চাঁদের সঙ্গে। ব্যাবিলনিয়ায় নববর্ষ শুরু হতো ২০ মার্চ, মহাবিষুবের দিনে। অ্যাসিরিয়ায় শুরু হতো ২১ সেপ্টেম্বর, জলবিষুবের দিনে। মিসর, ফিনিসিয়া ও পারসিকদের নতুন বছর শুরু হতো ২১ সেপ্টেম্বর। গ্রীকদের নববর্ষ শুরু হতো খ্রিস্টপূর্ব পঞ্চম শতাব্দী পর্যন্ত ২১ ডিসেম্বর। রোমান প্রজাতন্ত্রের পঞ্জিকা অনুযায়ী নববর্ষ শুরু হতো ১ মার্চ এবং খ্রিস্টপূর্ব ১৫৩-এর পরে ১ জানুয়ারিতে। ইয়াহুদিদের নববর্ষ বা রোশ হাসানা শুরু হয় তিসরি মাসের প্রথম দিন, কতিপয় ইয়াহুদিদের মতে সেই মাসের দ্বিতীয় দিন। মোটামুটিভাবে তিসরি মাস হচ্ছে ৫ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ অক্টোবর। মধ্যযুগে ইউরোপের বেশিরভাগ দেশে নববর্ষ শুরু হতো ২৫ মার্চ, তারা ধারণা করতো এদিন দেবদূত গ্যাব্রিয়েল যিশুমাতা মেরির কাছে যিশু খ্রিস্টের জন্মবার্তা জ্ঞাপন করে। অ্যাংলো-স্যাকসন ইংল্যান্ডে নববর্ষের দিন ছিল ২৫ ডিসেম্বর। পহেলা জানুয়ারি পাকাপোক্তভাবে নববর্ষের দিন হিসেবে নির্দিষ্ট হয় ১৫৮২ সালে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার প্রবর্তনের পর। ধীরে ধীরে শুধু ইউরোপে নয় সারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার অনুযায়ী নববর্ষ পালন করা হচ্ছে। বাদশাহ আকবরের ফরমান অনুযায়ী আমীর ফতেহ উল্লাহ্ শিরাজী উদ্ভাবিত বাংলা ফসলি সাল চালু হয় ১০ মার্চ ১৫৬৩ সালে। ইংরেজ আমলে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার অনুসরণ করা হলেও রাজস্ব আদায়ে ও অভ্যন্তরীণ ব্যবসা-বাণিজ্যে বাংলা সাল তথা ফসলী সন বেশি ব্যবহার করা হতো। বর্ষবরণের সাথে ধর্মীয় অনুভূতির যোগ শুরু থেকেই ছিল বা বর্ষবরণকারীরা ধর্মীয় বিশ্বাসের আলোকেই তা করত। তবে, সেটা আল্লাহ প্রদত্ত কোন নবী-রাসূল আনিত ইসলামে অনুমোদিত হয়নি! মুসলিম সংস্কৃতির মধ্যে প্রবেশ করতে পারেনি। মজুসী বা অগ্নি উপাসকরা এখনো বর্ষবরণকে সরকারি ছত্রছায়ায় ব্যাপক জাঁকজমকভাবে পালন করে থাকে। একে তারা তাদের ধর্মীয় অনুষঙ্গ মনে করে এবং একে নওরোজ বা নতুন দিন বলে অভিহিত করে। ফসলী সনের নববর্ষ হিন্দুদের খাছ ধর্মীয় উৎসবের দিন। এর আগের দিন তাদের চৈত্র সংক্রান্তি, আর পহেলা বৈশাখ হলো ঘট পূজার দিন। [সূত্র- থার্টি ফাস্ট নাইট : একটু ভাবুন! (গ্রন্থ) সবুজ বাংলা ও সামহিয়্যারইন (ব্লগ)]
ইসলাম হচ্ছে আল্লাহপাকের তরফ থেকে তাঁর প্রিয় হাবীব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মাধ্যমে তথা ওহীর মাধ্যমে নাজিলকৃত, একমাত্র পরিপূর্ণ, সন্তুষ্টিপ্রাপ্ত, নিয়ামতপূর্ণ, অপরিবর্তনীয় এবং মনোনীত দ্বীন। মানুষের মুক্তি ও হেদায়াতের জীবন ব্যবস্থা। যা কিয়ামত পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। সে প্রসঙ্গে আল্লাহপাক পবিত্র আল কোরআনে সূরা আল ইমরানের ১৯ নম্বর আয়াতে বলেন-“নিশ্চয় ইসলামই আল্লাহপাকের কাছে একমাত্র মনোনীত দ্বীন”। মহান আল্লাহ আল কোরআনে সূরা মায়িদার ৩ নম্বর আয়াতে আরো ইরশাদ করেন, “আজ আমি তোমাদের দ্বীনকে (ইসলামকে) পরিপূর্ণ করে দিলাম, তোমাদের প্রতি আমার নিয়ামতসমূহ সম্পূর্ণ করে দিলাম এবং আমি তোমাদের দ্বীন ইসলামের প্রতি সন্তুষ্ট রইলাম।” রব্বে কারীম দ্বীন ইসলামকে শুধুমাত্র পরিপূর্ণ সন্তুষ্টিপ্রাপ্ত ও নিয়ামতপূর্ণ করেই নাজিল করেননি! সাথে সাথে দ্বীন ইসলামকে তাঁর মনোনীত ও ঘোষণা করেছেন। তাই দ্বীন ইসলাম ব্যতীত অন্য সমস্ত ধর্ম যা ওহীদ্বারা নাজিল করা হয়েছিল যেমন, তাওরাত, যাবূর, ইনজীল ও ১০০ খানা ছহীফা এবং মানব রচিত মতবাদ যা পূর্বে ছিল ও বর্তমানে যা রয়েছে এবং ভবিষ্যতে যা হবে সেগুলোকে তিনি বাতিল ঘোষণা করেছেন।
এবার দেখা যাক ইসলামের নির্দেশনা এং ইতিহাস পর্যালোচনায় বিশ্বখ্যাত ইসলামিক স্কলারের অভিমত।
ইমাম আবু হাফস কবীর রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, নওরোজ বা নববর্ষ উপলক্ষে যদি কেউ একটা ডিমও দান করে, তাহলে ঐ মুসলমানের ৫০ বছরের আমল বরবাদ হয়ে যাবে। অর্থাৎ নওরোজ বা নববর্ষ পালনের কারণে তার জিন্দেগির সমস্ত আমল বরবাদ হয়ে যাতে পারে।
আজকে অনেক মুসলমান থার্টি ফার্স্ট নাইট পালন করছে। ইংরেজি নববর্ষ, ফসলী সনের নববর্ষসহ বিভিন্ন নববর্ষ পালন করছে। আর এতে করে তারা বিজাতি ও বিধর্মীদের সাথেই সম্পর্ক রাখছে। তাদেরই অনুসরণ অনুকরণ করছে।
পবিত্র কোরআন শরিফে ইরশাদ হয়েছে, “নিশ্চয়ই সমস্ত প্রাণীর মাঝে আল্লাহপাকের নিকট কাফিররাই নিকৃষ্ট, যারা ঈমান আনেনি।” (সূরা আনফাল : আয়াত শরীফ ৫৫) আর নববর্ষ পালনের দ্বারা সে কাফিরদেরই অনুসরণ-অনুকরণ করা হয়।
হাদিস শরিফে ইরশাদ হয়েছে, সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রযিঃ থেকে বর্ণিত। বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি যে সম্প্রদায়ের সাথে সম্পর্ক রাখে, সে তাদের দলভুক্ত এবং তার হাশর-নশর তাদের সাথেই হবে।” (সুনানে আহমদ, সুনানে আবূ দাউদ) ইতিহাস এটাই প্রমাণ করে যে, নববর্ষ পালনের প্রবর্তক বিধর্মীরাই। তাই ইসলাম নববর্ষ পালনকে কখনোই স্বীকৃতি দেয় না।
হাদিস শরিফে উল্লেখ করা হয়েছে, “হযরত জাবির রাযিয়াল্লাহু আনহু হুযূরপাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হতে বলেন বর্ণনা করেন যে, একদিন হযরত উমর ইবনুল খত্তাব রাযি. নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট এসে বললেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ্! আমরা ইয়াহুদীদের থেকে তাদের কিছু ধর্মীয় কথা শুনে থাকি, যাতে আমরা আশ্চর্যবোধ করি, এর কিছু আমরা লিখে রাখবো কি? রাসূল (সা.) বললেন, তোমরাও কি দ্বিধাদ্বন্দ্বে রয়েছ? যে রকম ইয়াহুদী-নাসারাগণ দ্বিধাদ্বন্দ্বে রয়েছে? অবশ্যই আমি তোমাদের নিকট পরিপূর্ণ, উজ্জ্বল ও পরিষ্কার ধর্ম নিয়ে এসেছি। নবী মুসা (আ.) যদি দুনিয়ায় থাকতেন, তাহলে তাঁকেও আমার অনুসরণ করতে হতো।” (মুসনাদে আহ্মদ, বাইহাক্বী, মিশকাত, মিরকাত, আশয়াতুল লুময়াত ইত্যাদি)
বাঙালি মুসলমানদের জন্য বাংলাদেশের সংবিধানের একটি ধারা শোনানুর যৌক্তিকতা মনে করছি। সংবিধানের ৩ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রভাষা বাংলা। সে প্রেক্ষিতে দেশে ইংরেজি ভাষাসহ বিভিন্ন উপজাতীয় ভাষার ঊর্ধ্বে যেমন রাষ্ট্রভাষা বাংলার মর্যাদা ও প্রাধান্য তেমনি সংবিধানের ২ নম্বর ধারায় বর্ণিত রাষ্ট্রধর্ম ইসলামের কথা স্বীকারের প্রেক্ষিতে অন্যান্য ধর্ম ও ধর্মাবলম্বীর উপরে ইসলাম ও মুসলমানের মর্যাদা ও প্রাধান্য স্বীকৃত হওয়া আবশ্যকের দাবিদার। তাই, থার্টি ফার্স্ট নাইটের মতো অসাংবিধানিক সাস্কৃতিক আগ্রাসন রোধে কার্যকরী ভূমিকা প্রণিধানযোগ্য। আবেগী আর হুজুগি মুসলিম বাঙালি ভাই-বোনেরা আসুন! এসব ঈমান বিধ্বংসী অপসংস্কৃতি পরিত্যাগ করি, এগিয়ে আসুন, সচেতনরা ভূমিকা রাখুন। পাশাপাশি ইসলাম ও মুসলমানদের প্রতি সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা অনেক বেশি হওয়া কর্তব্য মনে করি। যা মূলত আমাদের প্রচলিত সংবিধানেরই ব্যখ্যা।
ইসলামের দৃষ্টিতে থার্টি ফার্স্ট নাইট ডে’র কার্যাবলীর ব্যাখ্যা
১. অশ্লীলতা ও বেহায়াপণা: এ রাত্রিেেক কেন্দ্র করে চলে অশালীন ও বেহায়পণার মহোৎসব। যুবতীরা আটশাঁট, অশালীণ ও নগ্ন পোষাক পরিধান করে অবাধে চলাফেরা করে। অথচ এ প্রসঙ্গে নবি (স) বলেন: ঐসব নারী যারা হবে পোষাক পরিহীতা কিন্তু নগ্ন। যারা পরপুরুষকে আকৃষ্ট করবে এবং নিজেরাও আকৃষ্ট হবে। তাদের মাথা মাথা বক্র উচুঁ কাঁধ বিশিষ্ট উটের ন্যায়। তারা জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। এমনকি জান্নাতের সুগন্ধিও পাবে না। (দেখুন সহীহ মুসলিম-২১২৮)
২. গান বাজনা: থার্টি ফাস্ট নাইটকে কেন্দ্র করে আয়োজিত বিভিন্ন কনসার্টে নারী পুরুষের একসঙ্গে গান বাজনা, নগ্ন নৃত্য যেন আবশ্যকীয় বিষয় হয়ে দাড়িঁয়েছে। অথচ ইহা আল্লাহ তায়ালা ও রসূল (স) সম্পূর্ণ হারাম ও অবৈধ বলে ঘোষণা করেছেন। ( দেখুন সূরা লুকমান-৬, সহীহ বুখারী-৫৫৯০, ৬৮৯১)
৩. আতশবাজী ও পটকাবাজী: এ রাতে আনন্দ উল্লাস উপভোগ করার জন্য মধ্যরাত থেকে শুরু হয় আতশবাজীও পটকাবাজী। যা জনমনে ব্যাপক আতঙ্ক ও ভীতি সৃষ্টি করে এবং জনসাধারণের জন্য কষ্টদায়ক হয়। অথচ আল্লাহ বলেন:
যা বিনা অপরাধে মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদের কষ্টদেয়, তারা মিথ্যা অপবাদ ও প্রকাশ্য পাপের বোঝা বহন করে। দেখুন সূরা আহযাব-৫৮, সহীহ বুখারী-২৯০৫)
৪. অর্থ অপচয়: এ রাতকে কেন্দ্র করে অনেক অর্থ অনৈসলামিক ও হারাম কাজে ব্যায় করা হয়। যা অপচয় ও অপব্যায়ের শামিল। আর ইসলাম অপব্যাকারীকে শয়তানের ভাই হিসাবে আখ্যায়িত করেছে। দেখুন সূরা বানী ইসরাঈল ২৬-২৭)
৫. যুবক-যুবতীর অবাধ মেলামেশা: এ রাত্রিতে বিভিন্ন আবাসিক হোটেল, কমিউনিট সেন্টার, সমুদ্র সৈকত, নাইট ক্লাব গুলোতে যুবক-যুবতীরা অবাধে মেলামেলা ও অপকর্মে লিপ্ত হয়। অথচ ইসলাম ইহাকে কঠোরভাবে নিষেধ করেছে। রসূল (স) বলেছেন: অবশ্যই কোন পুরুষ কোন নারীর সাথে নির্জনে একত্রিত হলে তাদের তৃতীয়জন হয় শয়তান। (দেখুন তিরমিযি, মিশকাত-১৩১৮, সহীহ)
৬. নেশাদ্রব্য সেবন: এ রাতে উশৃংখল যুবক-যুতীরা মদ ও নেশা দ্রব্য পান করে মাতাল হয়ে বিভিন্ন অপকর্ম ঘটায়। আর একারণেই ইসলাম সমুদয় নেশাদ্রব্যকে হারাম করেছে। ( দেখুন সূরা মায়েদা-৯০-৯১ ও সূরা নিসা-১৪, সহীহ মুসলিম ২য় খন্ড, ৯৬৭ পৃষ্ঠা)
৭. বিধর্মীদের সাথে সাদৃশ্য: থার্টি ফাস্ট নাইট ডে উদযাপন সম্পূর্ণরূপে বিধর্মী অপসংস্কৃতি। এ রাত্রিতে ঐঅচচণ ঘঊড ণঊঅজ বলে অভিভাদন জানানো, আতশবাজী, পটকাবাজী, ফ্যাশন শো, ফায়ার প্লে, ট্যাটো বা উল্কা অংকন, ডিজে ও কনসার্ট, নেশা সেবন সহ বিধমীদের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ বিভিন্ন ধরণের অনৈসলামিক ও অপসংস্কৃতিক কার্যাবলী চর্চা করা হয়। আর ইসলাম বিধর্মীদের সাথে সাদৃশ্য রাখাকে কঠোরভাবে নিষেধ করেছে। রাসূর (সা) বলেছেন: যে ব্যক্তি কোন সম্প্রদায়ের সাদৃশ্য অবলম্বন করলো সে তাদেরই অন্তর্ভূক্ত। ( দেখুন আহমাদ, আবূ দাউদ, মিশকাত-৪৩৪৭) চরিত্র ধ্বংসে বিধর্মীদের নীলনকশা
মুসলিম তরুণ-তরুণীদের চরিত্র ধ্বংস করার জন্য ইহুদী-খ্রিস্টানদের নীলনকশার একটি অংশ থার্টি ফাস্ট নাইট। আর একটি জাতিকে ধ্বংস করার মূলহাতিয়ার হচ্ছে যুব সমাজকে ধ্বংস করা। এ লক্ষ নিয়েই তারা সামনে অগ্রসর হচ্ছে। তাই আল্লাহ আমাদেরকে তাদের অনুস্বরণ করতে নিষেধ করেছেন। ( দেখুন সূরা বাকরা-১২০ ও সূরা আনআম-১৫)
শেষকথা: পরিশেষে বলব, বর্ষবরণ অনুষ্ঠান ইসলামী শরিয়তের সাথে সাংঘর্ষিক। অথচ মুমিন জীবন ইলাহী জীবন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। অতএব সকল মুসলিম ভাইবোনদের ইসলামী সং¯কৃতি চর্চার ও অনৈসলামী বা পশ্চিমা সংস্কৃতি পরিহার করে ঈমান রক্ষা করার উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।

Sunday, December 30, 2018

ইমাম জালাল উদ্দীন সৈয়ুতী রহঃ


 ইমাম জালাল উদ্দীন সৈয়ুতী রহঃ

নাম ও নসবনামা/ উপাধি : তাঁর নাম আব্দুর রহমান। উপনাম আবুল ফদল। পিতার নাম কামাল উদ্দিন। কিন্তু তিনি সারাবিশ্বে জালাল উদ্দিন সুয়ুতি নামে পরিচিত। তাঁর নসবনামা হল ‘আবুল ফদল জালাল উদ্দিন আব্দুর রহমান বিন কামাল উদ্দিন আবি বকর বিন মুহাম্মদ বিন সাবিক উদ্দিন বিন উসমান আস সুয়ুতি আশ শাফেয়ী।’


বেলাদতশরীফ: ইমাম সুয়ুতি ৮৪৯ হিজরি পহেলা রজব মিশরের নীল নদের পশ্চিম তীঁরে অবস্থিত সুয়ুত নামক গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। মাত্র পাঁচবছর বয়সেই তাঁর পিতা ইন্তেকাল করেন।

ইলম অর্জন: বাল্যকাল থেকেই ইমাম সুয়ুতি অত্যন্ত মেধাবী ও চমৎকার স্মৃতিশক্তির অধিকারী ছিলেন। মাত্র আটবছর বয়সে তিনি কুরআনুল কারীম হিফ্জ করেন। যেমন তিনি নিজেই বলেছেন-
قال ونشأت يتيما- فحفظت القران ولى دون ثمانى حسنين ثم حفظت العمدة ومنهاج الفقه والاصول والفية ابن مالك
অর্থ: আমি এতিম হিসেবে জীবন শুরু করি। প্রথমে আমি আটবছর বয়সে কুরআনুল কারীম হিফ্জ করি। অতঃপর উমদাহ ‘মিনহাজুল ফিক্হ’ ‘আল উসূল’ এবং ‘আল ফিয়াতু ইবনে মালিক’ মুখস্ত করি।
ইমাম সুয়ুতি জগতবিখ্যাত উলামায়ে কেরামদের কাছ থেকে বিভিন্ন বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন- ورزقت التبحر فى سبعة علوم অর্থ: আমি সাতটি বিষয়ে পারদর্শীতা অর্জন করি। তা হলো- তাফসির, হাদিস, ফিক্হ, নাহু, মায়ানী, বায়ান এবং মানতিক। এছাড়াও তিনি ফারাইয ও আরবি ভাষাসহ বিভিন্ন বিষয়ের উপর ইলম অর্জন করেন। তিনি দুইল হাদিসের হাফিজ ছিলেন।

আসাতিযায়ে কেরামগণ: ইমাম জালাল উদ্দিন সুয়ুতি কুরআন হাদিসের ইলম অর্জনের জন্য কঠোর পরিশ্রম করেছেন। তিনি শ্যাম, হিজাজ, ইয়ামন, হিন্দ, মাগরিব তাকরুরসহ বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ করেন। তিনি কামালউদ্দিন ইবনে হুমাম, জালাল উদ্দিন মহল্লী, ইলমুদ্দিন বুলকিনী, শিহাবউদ্দিন আশ শারমাসাহী, ইমাম মানাভী, ইমাম শামনী, ইমাম আল কাফিজীসহ অসংখ্য উলামায়ে কিরামদের কাছ থেকে ইলম অর্জন করেন। তাঁর ছাত্র শা’রানী বলেছেন- ইমাম সুয়ুতি ছয় শতাধিক শায়খের কাছ থেকে ইলম অর্জন করেছেন।

আখলাক: ইমাম সুয়ুতি অত্যন্ত খোদাভীরু, তাকওয়াবান ও পরহেজগার লোক ছিলেন। জীবনের বেশিরভাগ সময় তিনি দ্বীনি খেদমতে কাটিয়েছেন। নাজমুদ্দিন আল কুরী الكوكب السائرة باعيان المائة العاشر গ্রন্থে বলেছেন- চল্লিশ বছর বয়স হবার পর থেকে তিনি দুনিয়ার আরাম-আয়েশ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে সম্পূর্ণরূপে আল্লাহর ইবাদতে মশগুল থাকতেন। তিনি একাকী ও নির্জনতাকে পছন্দ করতেন। এমনকি পরিবার-পরিজন থেকেও মুখ ফিরিয়ে নেন, যেন তিনি কাউকে চিনেন না। সদা-সর্বদা কিতাবাদী গবেষণাতে মশগুল থাকতেন। মৃত্যু পর্যন্ত তিনি ‘রওদাতুল মিকয়াছ’ নামক স্থানে অবস্থান করেন। ঘরের দরজা জানালা পর্যন্ত খুলতেন না। বিভিন্ন বিত্তশালী আমিরগণ মূল্যবান উপঢৌকন নিয়ে তাঁর জিয়ারতে আসতেন। কিন্তু তিনি তা ফিরিয়ে দিতেন।

তাঁর লিখিত কিতাবাদী: ইমাম সুয়ুতি বিভিন্ন বিষয়ের উপর অসংখ্য কিতাবাদী রচনা করেছেন। আল ইদরূসী النور السافرة গ্রন্থে বলেছেন-
ووصلت مصنفاته نحو الستمائة مصنفا-
অর্থ: তাঁর রচনাবলী ছয়শত পর্যন্ত পৌঁছেছে। নিম্নে তাঁর বিখ্যাত কয়েকটি কিতাবের নাম প্রদত্ত হলো-
১. আল ইতকান ফি উলুমিল কুরআন।
২. আদ দুররুল মানসুর ফি তাফসিরি বিল মা’ছুর।
৩. লুবানুন নুকুল ফি আসবাবিন নুজুল।
৪. তাফসিরে জালালাইন।
৫. হাশিয়াতু আলা তাফসিরে বায়জাবী।
৬. শরহু ইবনে মাজাহ।
৭. তাদরীবুর রাওয়ী।
৮. শরহুস সুদুর বি শরহে হালিল মাওতা ওয়াল কুবুর।
৯. আল বুদুরুস সাফিরাহ আন উমুরিল আখিরাহ।
১০. আত তিব্বুন নাবাওয়ী।
১১. আল আশবাহু ওয়ান নাজাইর।
১২. আল হাবী লিল ফাতাওয়া।
১৩. তারিখুল খুলাফা।
ওফাত শরীফ:  ইসলামের এই মহান খাদিম, মুজাদ্দিদে দ্বীন ইমাম সুয়ুতি ৯১১ হিজরি সনের ১৯ জামাদিউল উলা, শুক্রবার রাতে ‘রওদাতুল মিকয়াস’ নামক স্থানে ইন্তেকাল করেন। ইন্তেকালের সময় তাঁর বয়স হয়েছিল ৬১ বৎসর ১০ মাস ১৮ দিন।
আল্লাহ তাঁকে জান্নাতুল ফিরদাউস নসিব করুন। আমিন
 তাফসীরে জালালাইন পড়ুন এখন থেকে-
https://pathofjannat.blogspot.com/2018/12/blog-post_74.html

তাফসিরে জালালাইন


fast part 2nd part 3rd part 4th part 5th part 6th part 7th part

ফরয সালাতের পরে সম্মিলিতভাবে হাত তুলে দু’আ করা সম্বদ্ধে

ফরজ সলাতে পর সম্মিলিত মুনাজাত কি বিদায়াত ?

ফরজ সলাতের পর মুনাজাতের বিষয় বুঝতে হলে তিনটি পয়েন্ট ভলো করে বুঝতে হবে। যথা-
১। ফরজ সলাতের পর মুনাজাত প্রমাণিত কি না? 
২। সম্মিলিত মুনাজাত প্রমাণিত কি না? 
৩। ফরজ সলাতের পর সম্মিলিত মুনাজাতের হুকুম কি? 
প্রথম বিষয়- ফরজ সলাতের পর মুনাজাত করা একাধিক সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। যেমন- 
ক) وَقَالَ: يَامُحَمَّدُ اِذَا صَلَّيْتَ فَقُلْ : اَللَّهُمَّ اِنِّيْ أَسْأَلُكَ فِعْلَ الْخَيْرَاتِ وَتَرْكَ الْمُنْكَرَاتِ وَحُبَّ الْمَسَاكِيْنِ 
হযরত ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, হে মুহাম্মদ স. যখন তুমি সলাত পড়ে ফেলবে, তখন এ দু’আ করবে- হে আল্লাহ! আপনার নিকট ভালো কাজের তাওফিক চাই এবং মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকার ব্যাপারে সাহায্য চাচ্ছি এবং আপনার দরবারের মিসকীন তথা আল্লাহ ওয়ালাদের মুহাব্বত কামনা করছি। [সুনানে তিরমিযি-৩২৩৩] খ) 
ইমাম বুখারী রহ. স্বীয় কিতাব আততরীখুর কাবীরে এনেছেন -

Thursday, December 27, 2018

Darul Iqra Madrasah -Admission going on

https://www.facebook.com/DarulIqraMadrasah/ 

রসুল স. বলছেন, "প্রচার কর, যদিও তা একটি মাত্র আয়াত হয়" সেই প্রচারের লক্ষে আমরা। 'আপনিও হোন ইসলামের প্রচারক' প্রবন্ধের লেখা অপরিবর্তন রেখে এবং উৎস উল্লেখ্য করে আপনি Facebook, Twitter, ব্লগ, আপনার বন্ধুদের Email Address সহ অন্য Social Networking ওয়েবসাইটে শেয়ার করতে পারেন, মানবতার মুক্তির লক্ষ্যে ইসলামের আলো ছড়িয়ে দিন। "কেউ হেদায়েতের দিকে আহবান করলে যতজন তার অনুসরণ করবে প্রত্যেকের সমান সওয়াবের অধিকারী সে হবে, তবে যারা অনুসরণ করেছে তাদের সওয়াবে কোন কমতি হবেনা" [সহীহ্ মুসলিম: ২৬৭৪]
সবাই হোন প্রচারক
এতে তো কষ্ট হয় না শেয়ার করুন দ্বীনের প্রচার বাড়িয়ে দিন।



আর আপনার সন্তান ও ভাই বোনদের সঠিক দ্বীনী শিক্ষা দানে এগিয়ে
আসুন
আমাদের সেবায় ছেড়ে দিন আমরা আছি পূর্ব রামপুরায় দারুল ইকরা মাদরাসায়
আবাসিক অনাবাসিক এবং ডে কেয়ার
ভর্তি চলছে ভর্তি চলছে ভর্তি চলছে
হাদিস পড়বো কেন?
مَنْ حَفِظَ عَلَى اُمَّتِىْ اَرْبَعِيْنَ حَدِيْثًا فِىْ اَمْرِ دِيْنِىْ بَعَثَهُ اللهُ فَقِيْهًا وَكُنْتُ لَهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ شَفِيْعًا وَّشَهِيْدًا ০
[বাংলা] মান হাফিজা আলা উম্মাতি আরবাই-না হাদি-ছান ফি আমরি দী-নি বায়াছাহুল্লা-হু ফাকি-হান ও কুংতু লাহু ইয়াওমাল কিয়া-মাতি শাফি-য়াও ও শাহি-দা।
[মিশকাত শরীফ]
চলিশ হাদিস মুখস্থ করে
রাখবেন যিনি বুকে,
বেহেশতবাসী হবেন তিনি
থাকবেন চির সুখে।
বি:দ্র: হাদিস মুখস্ত করে ঐ অনুযায়ী আমল করতে হবে।
ছন্দে------------
মাও. মুফতি মুহা. শাহাদত হুসাইন
অধ্যক্ষ
দারুল ইকরা মাদরাসা
২১৪/এ, পূর্ব রামপুরা পুরাতন পুলিশ ফাড়ি রামপুরা, ঢাকা-১২১৯
 Mobile No: 01832391247,01920133293

ইলম ও আলেমের মর্যাদা

ইলম ও আলেমের মর্যাদা

আল্লাহ তাআলা বলেন,
يَرْفَعِ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا مِنْكُمْ وَالَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ دَرَجَاتٍ وَاللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرٌ
‘তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে এবং আল্লাহ যাদেরকে জ্ঞান দান করেছেন তাদেরকে উচ্চমর্যাদায় উন্নীত করবেন। তোমরা যা কর আল্লাহ সে সম্পর্কে পূর্ণ অবহিত।’ (মুজাদালাহ ৫৮/১১)।

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ سَلَكَ طَرِيقًا يَلْتَمِسُ فِيهِ عِلْمًا سَهَّلَ اللَّهُ لَهُ طَرِيقًا إِلَى الْجَنَّةِ قَال أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ{رواه الترمذي
আবু হুরায়রা (রা:) বলেন, রসূলুল্লাহ (স:) বলেছেন, যে ব্যক্তি ইলম (জ্ঞান) অর্জন করার উদ্দেশ্যে পথ চলবে আল্লাহ তার জন্য জান্নাতের পথ সুগম করে দিবেন। (তিরমিযী হা/২৬৪৬; ইখনু মাজাহ হা/২২৩; সহিহুল জামে‘ হা/৬২৯৮, সনদ সহিহ।)
অন্য হাদিসে এসেছে,
عَنْ أَبِى أُمَامَةَ الْبَاهِلِىِّ قَالَ ذُكِرَ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رَجُلاَنِ أَحَدُهُمَا عَابِدٌ وَالآخَرُ عَالِمٌ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَضْلُ الْعَالِمِ عَلَى الْعَابِدِ كَفَضْلِى عَلَى أَدْنَاكُمْ ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِنَّ اللَّهَ وَمَلاَئِكَتَهُ وَأَهْلَ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ حَتَّى النَّمْلَةَ فِى جُحْرِهَا وَحَتَّى الْحُوتَ لَيُصَلُّونَ عَلَى مُعَلِّمِ النَّاسِ الْخَيْرَ.
আবু উমামা আল-বাহিলি (রা:) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা:)-এর সামনে দু’জন লোকের কথা উল্লেখ করা হলো। যাদের একজন আলিম অপরজন আবিদ। তখন তিনি বলেন, আলিমের মর্যাদা আবিদের ওপর। যেমন আমার মর্যাদা তোমাদের সাধারণের ওপর। তারপর রসূলুল্লাহ (স:) বললেন, নিশ্চয়ই তার প্রতি আল্লাহ রহমত করেন এবং তার ফেরেশতামন্ডলী, আসমান-জমিনের অধিবাসী, পিপীলিকা তার গর্তে থেকে এবং এমনকি মাছও কল্যাণের শিক্ষা দানকারীর জন্য দোয়া করেন। ( তিরমিজি হা/২৬৮৫; মিশকাত হা/২১৩, সনদ হাসান।)
অন্যত্র রসূলুল্লাহ (স.) বলেন,
مَنْ سَلَكَ طَرِيقًا يَطْلُبُ فِيهِ عِلْمًا سَلَكَ اللَّهُ بِهِ طَرِيقًا مِنْ طُرُقِ الْجَنَّةِ وَإِنَّ الْمَلاَئِكَةَ لَتَضَعُ أَجْنِحَتَهَا رِضًا لِطَالِبِ الْعِلْمِ وَإِنَّ الْعَالِمَ لَيَسْتَغْفِرُ لَهُ مَنْ فِى السَّمَوَاتِ وَمَنْ فِى الأَرْضِ وَالْحِيتَانُ فِى جَوْفِ الْمَاءِ .
‘যে ব্যক্তি ইলম অর্জন করার উদ্দেশ্যে কোনো পথ অবলম্বন করে আল্লাহ তা‘আলা তা দ্বারা তাকে জান্নাতের কোন একটি পথে পৌঁছে দেন এবং ফেরেশতাগণ ইলম অন্বেষণকরীর ওপর খুশি হয়ে নিজেদের ডানা বিছিয়ে দেন। এ ছাড়া আলেমদের জন্য আসমান ও জমিনের সকল অধিবাসী আল্লাহর নিকট দোয়া ও প্রার্থনা করে। এমনকি পানির মধ্যে বসবাসকারী মাছও (তাদের জন্য দোয়া করে)। ( আবুদাউদ হা/৩৬৪১; মিশকাত হা/২১২; সহিহুল জামে‘ হা/৬২৯৭, সনদ সহিহ।)
রসূলুল্লাহ (স:) বলেন,
طَلَبُ الْعِلْمِ فَرِيضَةٌ عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ
‘প্রত্যেক মুসলিমের ওপরে জ্ঞান অন্বেষণ করা ফরজ। (ইবনু মাজাহ হা/২২৪; মিশকাত হা/২১৮, সনদ হাসান।)
মহান আল্লাহ বলেন,
وَمَا كَانَ الْمُؤْمِنُونَ لِيَنْفِرُوا كَافَّةً فَلَوْلَا نَفَرَ مِنْ كُلِّ فِرْقَةٍ مِنْهُمْ طَائِفَةٌ لِيَتَفَقَّهُوا فِي الدِّينِ وَلِيُنْذِرُوا قَوْمَهُمْ إِذَا رَجَعُوا إِلَيْهِمْ لَعَلَّهُمْ يَحْذَرُونَ.
‘সুতরাং এমন কেন হয় না যে, তাদের প্রত্যেকটি বড় দল হতে এক একটি ছোট দল বের হবে, যাতে তারা দ্বীনি জ্ঞান অর্জন করতে পারে। আর যাতে তারা নিজ কওমকে ভয় প্রদর্শন করতে পারে যখন তারা ওদের নিকট প্রত্যাবর্তন করে, যেন তারা সতর্ক হয়।’ (সূরা তওবা ৯/১২২)
আল্লাহ বলেন,
عَلَّمَ الْإِنْسَانَ مَا لَمْ يَعْلَمْ
‘আমি মানুষকে শিক্ষা দিয়েছি, যা সে জানত না।’ (সূরা আলাক ৯৬/৫)
আল্লাহ তাআলা বলেন,
يُؤْتِي الْحِكْمَةَ مَنْ يَشَاءُ وَمَنْ يُؤْتَ الْحِكْمَةَ فَقَدْ أُوتِيَ خَيْرًا كَثِيرًا وَمَا يَذَّكَّرُ إِلَّا أُولُو الْأَلْبَابِ
‘তিনি যাকে ইচ্ছা হিকমত দান করেন এবং যাকে হিকমত দান করা হয় তাকে প্রভূত কল্যাণ দান করা হয় এবং কেবল বোধশক্তিসম্পন্ন লোকেরাই শিক্ষা গ্রহণ করে।’ (সূরা বাকারাহ ২/২৬৯) এ সম্পর্কে রাসূল (সা:) বলেন,
خَيْرًا يُفَقِّهْهُ فِى الدِّين مَنْ يُرِدِ اللَّهُ بِهِ
আল্লাহ যার কল্যাণ চান তাকে দ্বীনের জ্ঞান দান করেন’। (ইবনু মাজাহ হা/২২৩; সহিহুল জামে‘ হা/৬২৯৭, সনদ সহিহ)
‘আলিমগণই নবীদের প্রকৃত উত্তরাধিকারী : রক্ত সম্পর্ক কিংবা বৈবাহিক সম্পর্কের কারণে কোন ব্যক্তির ওয়ারিশ হওয়া যায়। কিন্তু ইলম এমন একটি মূল্যবান সম্পদ, যে ব্যক্তি তা অর্জন করবে আল্লাহ তাকে নবীদের ওয়ারিশ বা উত্তরাধিকারী বানাবেন। সুতরাং আল্লাহ সম্পর্কে সঠিক ধারণাসম্পন্ন ব্যক্তিরা মূলত নবীদের উত্তরাধিকারী। আর উত্তরাধিকার জ্ঞানার্জনের মাধ্যমে অর্জন করা যায়। রসূলুল্লহ (স:) বলেছেন,
إِنَّ الْعُلَمَاءَ هُمْ وَرَثَةُ الأَنْبِيَاءِ إِنَّ الأَنْبِيَاءَ لَمْ يُوَرِّثُوا دِينَارًا وَلاَ دِرْهَمًا إِنَّمَا وَرَّثُوا الْعِلْمَ فَمَنْ أَخَذَهُ أَخَذَ بِحَظٍّ وَافِرٍ.
‘আলেমরাই নবীগণের উত্তরাধিকারী। নবীগণ দিনার বা দিরহামের উত্তরাধিকারী করেন না। বরং তারা ইলমের উত্তরাধিকারী করেন। ফলে যে ব্যক্তি তা গ্রহণ করল সে বৃহদাংশ গ্রহণ করল। (সহিহুল বুখারী হা/৭১)
আল্লাহ যার কল্যাণ চান তাকে দ্বীনের জ্ঞান দান করেন।’ (ইবনু মাজাহ হা/২২৩; সহিহুল জামে‘ হা/৬২৯৭, সনদ সহিহ।)
অতএব দ্বীনি ইলম অর্জন করলে নবীদের উত্তরাধিকারী হওয়া যায়।
রসূল (স:) আল্লাহর নিকট উপকারী ইলমের প্রার্থনা করতেন। হাদিসের ভাষায় রসূল (স:) প্রতি ফজর সালাতের পর প্রার্থনা করতেন এই বলে যে,
اللَّهُمَّ إِنِّى أَسْأَلُكَ عِلْمًا نَافِعًا وَرِزْقًا طَيِّبًا وَعَمَلاً مُتَقَبَّلاً
‘হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট উপকারী জ্ঞান, কবুলযোগ্য আমল ও পবিত্র রুজি প্রার্থনা করছি।’ (আহমাদ ইবনে মাজাহ, তাবারানি, মিশকাত হা/২৪৯৮) আলেমের দায়িত্ব ইলমের প্রচার প্রসার
আল্লাহ বলেন,
يَا أَيُّهَا الرَّسُولُ بَلِّغْ مَا أُنْزِلَ إِلَيْكَ مِنْ رَبِّكَ وَإِنْ لَمْ تَفْعَلْ فَمَا بَلَّغْتَ رِسَالَتَهُ
‘হে রাসূল! পৌঁছে দিন আপনার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে আপনার প্রতি যা অবতীর্ণ করা হয়েছে। আর যদি আপনি এরূপ না করেন তবে আপনি তাঁর পয়গাম পৌঁছালেন না।’ (সূরা মায়েদা ৫/৬৭)
এ সম্পর্কে রসূলুল্ল¬াহ (স:) বলেন,
بَلِّغُوا عَنِّى وَلَوْ آيَةً
‘আমার পক্ষ হতে মানুষের নিকটে পৌঁছে দাও, যদি একটি আয়াতও হয়’। (বুখারী হা/৩৪৬১; তিরমিজি হা/২৬৬৯)
পক্ষান্তরে আলিমগণ দ্বীন প্রচারে অবহেলা করলে কিংবা বিরত থাকলে তাদের অবস্থা হবে অত্যন্ত ভয়াবহ। হাদিসে এসেছে,
عَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمِ يُجَاءُ بِالرَّجُلِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَيُلْقَى فِى النَّارِ فَتَنْدَلِقُ بِهِ أَقْتَابُهُ فَيَدُورُ بِهَا فِى النَّارِ كَمَا يَدُورُ الْحِمَارُ بِرَحَاهُ فَيُطِيفُ بِهِ أَهْلُ النَّارِ فَيَقُولُونَ يَا فُلاَنُ مَا لَكَ مَا أَصَابَكَ أَلَمْ تَكُنْ تَأْمُرُنَا بِالْمَعْرُوفِ وَتَنْهَانَا عَنِ الْمُنْكَرِ فَقَالَ كُنْتُ آمُرُكُمْ بِالْمَعْرُوفِ وَلاَ آتِيهِ وَأَنْهَاكُمْ عَنِ الْمُنْكَرِ وَآتِيهِ.
ওসামা ইবনু যায়েদ (রা:) বলেন, রসূলুল্লাহ (স:) বলেছেন, এক ব্যক্তিকে ক্বিয়ামতের দিন নিয়ে আসা হবে। তারপর তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। এতে করে তার নাড়িভুঁড়ি বের হয়ে যাবে। আর সে তা নিয়ে ঘুরতে থাকবে যেমনভাবে গাধা আটা পিষা জাঁতার সাথে ঘুরতে থাকে। জাহান্নামিরা তার নিকট একত্রিত হয়ে তাকে জিজ্ঞেস করবে, আপনি কি আমাদের ভালো কাজের আদেশ এবং মন্দ কাজের নিষেধ করতেন না? সে বলবে, হ্যাঁ। আমি তোমাদের ভালো কাজের আদেশ করতাম, কিন্তু নিজে করতাম না। আর খারাপ কাজের নিষেধ করতাম কিন্তু নিজেই তা করতাম। (সহিহুল বুখারী হা/৩২৬৭; মিশকাত হা/৫১৩৯)
মৃত্যুর পর মানুষের আমল বন্ধ হয়ে যায় অথচ দ্বীনি ইলম অর্জন করে শিক্ষা দিলে তা কবরে পৌঁছানোর অন্যতম একটি মাধ্যম হিসেবে পরিগণিত হয়। রসূলুল্লাহ (স:) বলেন,
إِذَا مَاتَ الإِنْسَانُ انْقَطَعَ عَنْهُ عَمَلُهُ إِلاَّ مِنْ ثَلاَثَةٍ إِلاَّ مِنْ صَدَقَةٍ جَارِيَةٍ أَوْ عِلْمٍ يُنْتَفَعُ بِهِ أَوْ وَلَدٍ صَالِحٍ يَدْعُو لَهُ
‘যখন মানুষ মৃত্যুবরণ করে তখন তার সমস্ত আমল বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু তিনটি আমল ব্যতীত। এই তিনটি আমল হলো, প্রবহমান ছাদাকা, এমন ইলম যা দ্বারা উপকৃত হওয়া যায় এবং এমন সুসন্তান যে তার জন্য দোয়া করে। (মুসলিম হা/১৬৩১)
এ পর্যন্ত ইলম আলেম এবং ইলম প্রচারের গুরুত্ব ও ফজিলতের ব্যাপারে সামান্য আলোকপাত করা হলো ৷
সর্বপ্রকার স্বার্থমুক্তভাবে সহীহ ইলম প্রচারে নিবেদত প্রাণ হয়ে কাজ করছেন দারুল উলূম দেওবন্দের সন্তান কওমী উলামায়ে কেরাম ৷ রাসূল সা এর ঘোষণা মতে তাদের মর্যাদা আল্লাহর কাছে অনেক বেশি ৷
যারা ইলমে দ্বীনের পথে আসতে পারেননি তাদের দায়িত্ব হলো আলেমদের মুহাব্বত করা, সুহবতে থেকে প্রয়োজনীয় ইলম শিখে নেওয়া, তাদের সম্মান করা, মর্যাদা দান করা ৷ সাহায্য সহযোগিতা করা ৷
যারা আলেমদের সম্মান দেবেন আল্লাহ তাদেরকেও সম্মান করবেন ৷ তবে নিয়্যাত ঠিক থাকতে হবে ৷ কোনো স্বার্থ ছাডাই সম্মান দিতে হবে ৷ তখন দেখা যাবে এক সময় স্বার্থও হাসিল হবে সম্মানও বাডবে ৷
আলেমদেরকে দলীয় বিবেচনার উর্দ্ধে স্থান দিতে হবে ৷ রাজনীতির উর্দ্ধে রাখতে হবে ৷ কারণ আলেমরা সার্বজনিন ৷ কিছু দেখলেই অমুক আলেম এমন হয়েগেছে, অমুক দলের দালাল হয়েগেছে এমন বলা যাবে না ৷ বললে আলেমের ক্ষতি হবে না ক্ষতি হবে আপনার নিজের ৷ অনেক বাস্তবতা এর সাক্ষি ৷
তাই সকলকে বলব আলেমদের নিঃস্বার্থ সম্মান করতে শিখেন ৷ স্বার্থও হাসিল হবে নিজের সম্মানও বৃদ্ধি পাবে ৷
আলমদের প্রতি যদি বিরূপ মনোভাব রাখেন, স্বার্থের বশবর্তি হয়ে দেখানোর জন্য সম্মান দেখান স্বার্থও হাসিল হবে না কাংখিত সম্মানও পাবেন না ৷ এরও দীর্ঘ বাস্তবতা এর প্রমাণ ৷
আলেমদেরও উচিত নিজেদের স্বকীয়তা সার্বজনীনতা, এবং গ্রহণযোগ্যতাকে সঠিকভাবে মূল্যায়ন করা ৷ আলেমরাতো কোরান হাদীস তথা দ্বীনি ইলমের ফেরিওয়ালা ৷ এর চাইতে উত্তম মর্যাদা তাদের জন্য কি আছে ৷ সুতরাং তারা কেন দুনিয়াবী বিভিন্ন মত পথের হয়ে নিজেদের উপস্থাপন করতে যাবে ৷ বরং তাদেরকে তাদের সঠিক অবস্থানে অটল অবিচল থাকতে হবে ৷ দলে দলে উম্মতকে বিভক্ত করবে না ৷ সব দল মত এবং পথের হেদায়াতের জন্য তারা হবে রাহবরের ভুমিকায় ৷ স্বার্থের দ্বন্ধে তারা জডাতে পারবে না ৷ তখন স্বার্থ তাদের সালাম করবে ৷ সম্মান তাদের পিছু নেবে ৷
ইসলামের দীর্ঘ ইতিহাস এর প্রমাণ ৷
https://youtu.be/SCicE8PieDQ?t=367

Tuesday, December 25, 2018

আলেমের প্রতি সম্মান ঈমানের দাবি

আলেমের প্রতি সম্মান ঈমানের দাবি


আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন আলেমদেরবৃদ্ধি করেছেন তাদের মর্যাদা
 আল্লাহ সুবহানাহু  বলেন,
 يَرْفَعِ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا مِنكُمْ وَالَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ دَرَجَاتٍ
 ‘তোমাদের যারা ঈমান এনেছে এবং যাদের জ্ঞান দেয়া হয়েছে, আল্লাহ [সুবহানাহু] বৃদ্ধি করেন তাদের  র্জাদা’ (সূরা মুজাদালাহ : ১১)
অন্যত্র বলেন,
 أَمَّنْ هُوَ قَانِتٌ آنَاء اللَّيْلِ سَاجِدًا وَقَائِمًا يَحْذَرُ الْآخِرَةَ وَيَرْجُو رَحْمَةَ رَبِّهِ قُلْ هَلْ يَسْتَوِي الَّذِينَ يَعْلَمُونَ وَالَّذِينَ لَا يَعْلَمُونَ إِنَّمَا يَتَذَكَّرُ أُوْلُوا الْأَلْبَابِ
আপনি বলুন, যারা জানে আর যারা জানে না তারা কি সমান?’ (সূরা জুমার : ৯)
রসুল (সা.) বলেন, ‘আবেদের অপেক্ষা আলেমের মর্যাদা তেমন, যেমন তোমাদের সর্বাপেক্ষা ছোট ব্যক্তির তুলনায় আমার মর্যাদাআল্লাহ সুবহানাহু  রহমত বর্ষণ করেন মানুষের কল্যাণ শিক্ষাদাতার ওপরতাদের জন্য দোয়া করে ফেরেশতারা, আসমান-জমিনবাসী, গর্তের পিপীলিকা, এমনকি (পানির) মাছও’ (তিরমিজি : ২৬৮৫)
হাসান (রহ.) বলেন, ‘আলেমরা না থাকলে মানুষ গবাদি পশুর তুল্য হয়ে যেতআলেম তারাই যারা শরিয়ত বহন করেনকথা বলেন কোরআন-সুন্নাহর আলোকেরক্ষা করেন ইসলামের পবিত্রতাদূরে রাখেন তার থেকে সব কর্দযতালক্ষ্য রাখেন জনগণের দ্বীনের প্রতিশিক্ষা দেন জাহেলদেরস্মরণ করিয়ে দেন আল্লাহ সুবহানাহু ভোলা বান্দাদের তার কথাফেতনা চিহ্নিত করেনদূরীভূত করেন অন্ধকারফাঁস করেন ভ্রান্তলোকদের গোমরতারা যদি আল্লাহ সুবহানাহু র বিধিবিধান রক্ষা না করতেন, ইসলাম মিটে যেতশরিয়ত বিলুপ্ত হতোএক বর্ণনায় এসেছে, ‘জমিনে আলেমদের অবস্থান আসমানের নক্ষত্রতুল্যযখন মানুষ তা দেখে, পথ চলেযখন তা অদৃশ্য হয়ে যায়, অস্থির হয়ে পড়ে। (বায়হাকি : ১/৩৫৪)

সম্মানযোগ্য আলেম যারা
সম্মান করা আবশ্যক ওইসব আলেমদের যারা শরিয়তের ধারক-বাহকযারা সদিচ্ছা ও সৎকর্মে সুবিদিতবিশুদ্ধ আকিদা ও নেককার পূর্বসূরিদের পন্থী হিসেবে সুপরিচিতজীবন ব্যয় করেন যারা এলম অন্বেষণে ও এর বিতরণেসঙ্গে সঙ্গে অর্জিত হয়েছে তাকওয়াউম্মতের ন্যায়পরায়ণ শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিরা যাদের ব্যাপারে সাক্ষ্য দিয়েছে নেতৃত্বের যোগ্যতার, শরিয়তে তাদের প্রজ্ঞারপথ চলে মানুষ যাদের কথায়বাস্তবিক পক্ষে তারাই বড় বড় ইমামতাদের চেয়ে কম এলমের অধিকারী যারা, তারা সম্মান পাবে তাদের এলম অনুযায়ী
সম্মান প্রদর্শন কেন কীভাবে
আলেমদের সম্মান প্রদর্শন হলো তাদের জন্য দোয়া করাতাদের প্রশংসা করা ও কল্যাণকামী হওয়াদোষ গোপন রাখামানসম্মান রক্ষা করাসহযোগিতা করা সৎ ও তাকওয়ার কাজেগমন করা তাদের সাক্ষাতেশিক্ষ অর্জন করা তাদের কাছ থেকেপ্রসার করা তাদের এলম ও ফতোয়াজানতে চাওয়া তাদের সম্পর্কে, অবগতি লাভ করা তাদের ব্যাপারেসাধারণ ও বিশেষ সর্বশ্রেণীর কাছে তুলে ধরা তাদের মর্যাদা
আলেমদের সম্মান প্রদর্শন নেককার পূর্বসূরিদের নিদর্শনসাহাবায়ে কেরাম সম্মান করতেন তাদের বড়দের ও ফকিহদেরতাদের কাছ থেকে শিখেছেন তাবেঈ ও তাবে তাবেঈরাপরে এই উত্তম চরিত্র বিস্তৃত হয়েছে অনুসৃত ইমামদের যুগেমালিক, শাফেয়ি, আওযায়ি, আহমদ, আবু-সাউর, ইসহাক (রহ.) প্রমুখের সময়েমুজাহিদ (রহ.) ছিলেন মক্কার কালো লোকদের অন্তর্ভুক্তইবনে আব্বাস (রা.) এর গোলামঅথচ ইবনে ওমর (রা.) তার ঘোড়ার লাগাম ধরে রাখতেনতিনি বাহনে আরোহণ করলে কাপড় ঠিক করে দিতেন
একদা জায়েদ বিন ছাবেত (রা.) জানাজা পড়ে শেষ করেন আরোহণের জন্য তার সামনে আনা হলো একটি খচ্চরতখন ইবনে আব্বাস (রা.) এলেন তার লাগাম ধরলেনজায়েদ (রা.) তাকে বললেন, হে রাসুলের চাচাতো ভাই, সরে যাও ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, বড় ও আলেমদের সঙ্গে এমনই করা হয়ইমাম আহমদ (রহ.) অসুস্থতার কারণে হেলান দেয়া ছিলেনএ সময় তার সামনে আলোচনা হয় ইবরাহিম বিন তাহমানের কথাতিনি সোজা হয়ে বলেন, আমাদের উচিত নয় বুজুর্গদের নিয়ে আলোচনা করা আর হেলান দিয়ে বসে থাকাতাউস (রহ.) বলেন, আলেমদের সম্মান প্রদর্শন সুন্নত
শরিয়ত আদেশ করেছে তাদের সম্মান করতেতাদের মর্যাদা দিতে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘আল্লাহ সুবহানাহু কে সম্মান করার অন্তর্ভুক্ত হলো পাকা চুলওয়ালা মুসলিম, ন্যায়পরায়ণ বাদশাহ এবং কোরআনের ধারক-বাহকের সম্মান প্রদর্শন’ (আবু দাউদ : ৪৮৪৩)আলেমদের সম্মান দ্বারা দীন হয় সুরক্ষিত প্রসার হয় তার বিধিবিধানভারি হয় আহলে সুন্নাহর দলউম্মত হয় সংঘবদ্ধ মুসলমানদের মাঝে সৃষ্টি হয় ঐক্যপাপিদের রাজত্ব হয় নির্মূলজনসাধারণ মান্য করে আলেমদের কথাফেতনা-ফ্যাসাদে তাদের দ্বীনের প্রতি হয় আশ্বস্ত
আলেমদের সম্মানে মানুষ তিন শ্রেণীর
১. আলেমদের রূঢ় সমালোচক : এরা আলেমদের প্রতি আবশ্যকীয় সম্মান প্রদর্শন করে নাএরা খারেজিদের অন্তর্ভুক্ত
২. আলেমদের সম্মানে বাড়াবাড়ি প্রদর্শনকারী : এরা আলেমদের সম্মান করে তবে এতে করে বাড়াবাড়িতাদের প্রদান করে প্রাপ্য মর্যাদা থেকে অনেক বেশিনিয়ে যায় তাদের নিষ্পাপ নবীদের কাতারেইবাদত করে তাদের কথা অনুযায়ীকখনও এবাদত করে আল্লাহ সুবহানাহু  ব্যতীত তাদেরইতারা বেদাতি সম্প্রদায়যেমনÑ রাফেজি ও তাদের পথ অবলম্বনকারীরা
৩. আলেমদের সম্মানে মধ্যমপন্থী : এরা আলেমদের প্রাপ্য সম্মান প্রদর্শন করেকিন্তু বাড়াবাড়ি করে নাঅনুস্মরণ করে সঠিক বিষয়েবেঁচে থাকে তাদের ভুল থেকেতারাই আহলে সুন্নাহ তথা সুন্নাহর ধারক-বাহকনেককার পূর্বসূরিদের অনুসারী
আলেম যদি ভুল করেন
একজন আলেমের সুস্পষ্ট ভুল ও বিচ্ছিন্ন কথার অনুসরণ তার সম্মান প্রদর্শনের জন্য আবশ্যক নয়বরং তার এ কথা পরিত্যাজ্যতাকে দেয়া হবে সদুপদেশকিন্তু মানহানি করা যাবে না এ ভুলের কারণেসব জ্ঞানীরই বিচ্যুতি রয়েছে ত্রুটি-বিচ্যুতি গোপন রাখেন বুদ্ধিমান ও ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তিরাবজায় রাখেন তাদের মান-সম্মানসদুপদেশ দেন গোপনেজালেম ও জাহেলরা আলেমের বিচ্যুতিতে হয় আনন্দিত, খুশিতে আত্মহারাপ্রকাশ করে তার বিচ্যুতির কথাচেষ্টা করে তাকে লাঞ্ছিত করতেযে অনুসরণ করল আলেমের বিচ্যুতির ও পক্ষাবলম্বন করল তার, সে খারাপ ব্যবহার করল তার সঙ্গেসে হলো নিকৃষ্ট মত গ্রহণকারী