Thursday, November 29, 2018

আলেমদের আশ্চর্য কিছু গুণাবলী



আলেমদের আশ্চর্য কিছু বাস্তব   :---
** আলেমরা কখনোই নেশা করে না।
** কোন আলেম যৌতুক নিয়ে বিয়ে করে না।
**  আলেমদের কখনও ঘুমের ওষধ খেয়ে ঘুমাতে হয় না।
** আলেমদের দাম্পত্য জীবন সবচেয়ে সুখের।
** প্রথম প্রথম অতি আধুনিক কোন কোন মেয়ে, আলেম দেখে নাক সিঁটকালেও আলেমদের সাথে বিয়ে হলে বিয়ের পরে তারা নিজেদের সৌভাগ্যবতী ভাবে!

**  বাংলাদেশের লাল দালানগুলোতে কোন সামাজিক অপরাধের কারণে আলেমদের ঢুকতে হয় না।
** কোন আলেম কখনো আত্মহত্যা করেনি।
** কোন আলেম অনাহারে দিন কাঁটায় না।
** কোন আলেম নারী নির্যাতনের মামলায় জড়িত নয়।
** আধুনিকরা যতই তাদেরকে ঘৃণা করুক না কেন..? জন্ম, মৃত্যু, বিয়ের সময় তাদেরই শরণাপন্ন হতেই হয়..!।
** আলেমরা কখনো উগ্রবাদী, জঙ্গীবাদী হতে পারে না। এ আলেমরা পৃথীবির সবচেয়ে সম্মানিত মানুষ।


আলেমের আরো গুণাবলী:
আলেম শব্দটি  العلم   থেকে উৎসারিত। যার অর্থ হলো জ্ঞানী, শিক্ষিত ও জান্তা ইত্যাদি।  علم থেকে উৎসারিত আরো কয়েকটি শব্দ যেমন উলুম, মুআল্লিম, আল্লামা, তালিম ইত্যাদি শব্দ বাংলাদেশী মুসলিমদের কাছে কম-বেশি সুপরিচিত। আরবরা যদিও ইলম ও আলেম শব্দ দ্বারা যেকোন সাধারণ বিষয়ের জ্ঞান এবং ওই বিষয়ে জ্ঞানী ব্যক্তিকে বুঝিয়ে থাকেন, কিন্তু বাংলাদেশে তা বুঝানো হয় না। এখানে ইলম বলতে দ্বীনি বা ধর্মীয় জ্ঞান এবং আলেম বলতে দ্বীনি বা ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত ব্যক্তিকেই বোঝানো হয়।
ওলামা বলতে এমন লোকদের বুঝানো হয়, যাঁরা মহান আল্লাহর সত্তা ও গুণাবলী সম্পর্কে সম্যক ভাবে অবগত এবং বিশ্বের সৃষ্টিকুল, তার আবর্তন-বিবর্তন ও পরিবর্তন সম্পর্কে চিন্তা গবেষণা করেন। সৃষ্টি বৈচিত্র্য সম্পর্কে দিবা-রাতের হ্রাস বৃদ্ধি নিয়ে চিন্তা করেন। কেবল নাহু-ছরফ, ফিকাহ, অলঙ্কার শাস্ত্র কিংবা বিশুদ্ধ আরবি ও ফার্সী জানা ব্যক্তিদেরকে ওলামা বলা হয় না।
ইসলামী পরিভাষায় ইলম বলতে বুঝানো হয়, হালাল-হারাম, ন্যায়-অন্যায় ও সত্য-মিথ্যার পার্থক্য সম্পর্কিত জ্ঞান এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নির্দেশিত পথে জীবনাচারের শিক্ষা। সাধারণ কথায়, পবিত্র কুরআন ও হাদীস থেকে অর্জিত জ্ঞানই হলো ইলম। আর যিনি কুরআন ও হাদীসের আলোকে হালাল-হারাম, ন্যায়-অন্যায় এবং সত্য-মিথ্যার পার্থক্য সম্পর্কিত জ্ঞানের অধিকারী হন তিনি হলেন আলেম।
বলতে গেলে আলেম শব্দটি ব্যাপক অর্থবোধক। আমরা আলেম-ওলামা বলতে যাদের চিনি বা জানি তারা হলেন, সাধারণত মাদরাসায় পড়–য়াদেরকে আমরা আলেম-ওলামা বলে জানি। এঁদের মধ্যে যাঁরা বা যিনি ইলমে ছরফ, নাহু, ফিকাহ, হাদীস কিংবা তাফসির শাস্ত্রে অধিক পত্যের অধিকারী, তাদেরকে বড় আলেম বলে মান্য করে থাকি। আবার তাদের মধ্য হতে লম্বা কোর্তা পরিহিত শ্মশ্রু ম-িত এবং উষ্ণীশধারীদেরকে আলেম-ওলামা হিসেবে আখ্যায়িত করে থাকি এবং সম্মানের চোখে দেখি। আসলে কুরআন-হাদীসের দৃষ্টিতে কারা প্রকৃত আলেম-ওলামা ও তাদের সম্মান ও মর্যাদা কতটুকুন তা আলোচনা করা এখন সময়ের দাবি।
প্রকৃত আলেমের পরিচয় নির্ণয়ে নিম্নোক্ত হাদীসটি উল্লেখ করার মতো, হযরত সুফিয়ান ছাওরী রহ. হতে বর্ণিত যে, একদা ওমর রা. আকাবিরে তাবেয়ীনদের অন্যতম কাবেআহবার রহমাতুল্লাহি আলাইহি কে জিজ্ঞেস করলেন-সাহেবে ইলম বা প্রকৃত আলেম কারা? প্রত্যুত্তরে কা’ব রহ. বললেন-সাহেবে ইলেম বা প্রকৃত আলেম তারা যারা স্ব-স্ব উপার্জিত ইলম অনুযায়ী আমলও করেন। পুনরায় ওমর রাদিআল্লাহু আনহু জিজ্ঞেস করলেন-কোন বস্তু আলেমদের অন্তর হতে ইলমকে বের করে দেয়? উত্তরে কা’ব রহমাতুল্লাহি আলাইহি বললেন-(পার্থিব) লোভ-লালসা (আলেমদের অন্তর হতে) ইলমকে বের করে দেয়।” [(দারেমী) মিশকাত]
হযরত ইবনে আব্বাস রাদিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন-রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- এ উম্মাতের আলেমরা দু’শ্রেণিতে বিভক্ত। প্রথম শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত হচ্ছেন সে আলেম যাকে আল্লাহ তায়ালা ইলম দান করেছেন, আর সে তাঁর ইলম জনগণের মধ্যে ব্যয় করেছেন, লোভ-লালসার বশীভূত হয়ে মানুষের নিকট থেকে কোনরূপ বিনিময় গ্রহণ করেননি কিংবা তা বিক্রয়ও করেননি। সেই আলেমের জন্য জল ভাগের মৎস্য, স্থলভাগের সকল প্রাণী এবং মহাশূন্যে উড়ন্ত পক্ষীকুল তার জন্যে আল্লাহর দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা করে। আর দ্বিতীয় শ্রেণির আলেম হচ্ছে- যাকে আল্লাহ ইলম দান করেছেন, কিন্তু সে আল্লাহর বান্দাদের সাথে (তার ইলম খরচ করার ব্যাপারে) কৃপণতা করেছে, লোভ-লালসার বশবর্তী হয়ে (ইলম খরচ করে কিংবা ইলম শিক্ষা দিয়ে) বিনিময় গ্রহণ করেছে এবং মূল্যের বিনিময়ে বিক্রয় করেছে। (তার শাস্তি হলো) কিয়ামত দিবসে তাকে আগুনের লাগাম দেয়া হবে এবং একজন আহ্বানকারী শব্দ করতে (বলতে) থাকবেন যে, “এ ব্যক্তি হচ্ছে ঐ আলেম, যাকে আল্লাহ তায়ালা ইলম দান করেছিলেন কিন্তু সে আল্লাহর বান্দাদের সাথে (ইলমের ব্যাপারে) কৃপণতা করেছে, লোভের তাড়নায় বিনিময় গ্রহণ করেছে এবং মূল্যের বিনিময়ে ইলম বিক্রয় করেছে।” আর এ’ভাবে হাশর ময়দানের কাজ সমাপ্ত হওয়া পর্যন্ত শব্দ করতে থাকবে। [তিবরানী]

উদ্ধৃত হাদীস হতে প্রতীয়মান হয় যে, প্রথমোক্ত আলেমরা হচ্ছেন সঠিক এবং প্রকৃত আলেম। আর দ্বিতীয় পর্যায়ের আলেমরা হচ্ছেন মেকী ও লোক দেখানো আলেম। প্রকৃত আলেম চিনতে আমাদেরকে আল্লাহর রাসূলের হাদীস, বুযুর্গানে দ্বীন ও সালফে সালেহীনের মূল্যবান বাণীর আলোকে চিন্তা-গবেষণা করতে হবে।
বর্তমানে কিছু কিছু বড় বড় আলেমের দাপাদাপি সর্বত্রই বিরাজমান। যারা গাড়ি-বাড়ি, এপার্টমেন্ট, বিলাসবহুল যান্ত্রিক সরঞ্জামাদি জোগাড়ে সারাক্ষণ পেরেশান থাকেন। স্ত্রী সন্তান-সন্ততিদেরকে বিজাতীয় মডেলে গড়ে তুলতে তারা সদা তৎপর। দুনিয়ার ফাসেক ফুজ্জারের মন জয় করতে সারাক্ষণ ব্যতিব্যস্ত থাকেন। পদ মর্যাদার লোভে তারা তাদের স্বকীয়তা ভুলে যান। ইসলাম ও মুসলমানদের বৃহত্তর স্বার্থ তাদের কাছে গৌণ। ক্ষমতাসীন বা সরকারে চামচামিতে তারা থাকেন সদা ব্যস্ত। তাদের মধ্যে ‘রিয়া’ আর ‘সুমআর’র ভূত চেপে বসেছে। কারণ তাদের অন্তরতো আলো শূন্য। যুগের শ্রেষ্ঠ নামী-দামী হলেও তাদেরকে প্রকৃত আলেম বলা যাবে না। এই সকল মেকী ও লোক দেখানো আলেমদের সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াল্লামের একটি হাদীস তরীকায়ে মোহাম্মাদিয়া গ্রন্থে হযরত আনাস রাদিআল্লাহু আনহুর বাচন ভঙ্গিতে এভাবে উদ্ধৃত হয়েছে, হযরত আনাস রাদিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াল্লাম ইরশাদ করেছেন যে, শেষ যামানায় (কিছু সংখ্যক) মূর্খ ইবাদাতকারী এবং ফাসেক আলেম বের হবে।
এ সম্পর্কে হযরত মুজাদ্দেদ আলফে সানী মাকতুবাত গ্রন্থে লিখেছেন যে, জনৈক বুযুর্গ ব্যক্তি একবার অভিশপ্ত ইবলিসকে দেখতে পায় যে, সে একেবারে খোশ মেজাজে ও বেকার বসে আছে। ঐ বুযুর্গ ব্যক্তি ইবলিসকে তার এহেন বেকার বসে থাকার কারণ জিজ্ঞেস করলে প্রত্যুত্তরে সে বলে যে, বর্তমান সময়ের আলেম সমাজ আমাদের কাজ সমাধা করছে, জনগণকে পথভ্রষ্ট করার জন্য তারাই যথেষ্ট। তিনি তার মাকতুবাত গ্রন্থে আরো লিখেছেন যে, মন্দ আলেমরা হচ্ছেন দ্বীনের জন্য ডাকাত স্বরূপ। তাদের উদ্দেশ্য পার্থিব মর্যাদার প্রতি আসক্তি এবং নেতৃত্বের লোভ।
প্রকৃত আলেমের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে ইমাম মালেক রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, “যে ব্যক্তি ফিকাহ শাস্ত্রের ইলম হাসিল করেছেন কিন্তু তাসাঊফ হাসিল করেননি, তিনি হচ্ছেন ফাসেক। আর যে ব্যক্তি কেবল তাসাউফ বিদ্যা লাভ করেছে, কিন্তু ফিকাহ শাস্ত্রের বিদ্যা আর্জন করেনি, সে হচ্ছে যিন্দিক। আর যে ব্যক্তি উভয় প্রকার (ফিকাহ ও তাসাউফ) ইলেম উপার্জন করেছেন, তিনি হচ্ছেন মুহাক্কিক বা পরিপূর্ণ ও প্রকৃত আলেম। আল্লাহ পাক কুরআনে পাকে আলেমের পরিচয় দিতে গিয়ে বলেন, “নিশ্চয়ই আল্লাহ পাকের বান্দাদের মধ্য হতে শুধুমাত্র আলেমগণই আল্লাহপাককে ভয় করে।” [সূরা ফাতির : ২৮]
এ আয়াতের তাফসীর সম্পর্কে হাম্বলী মাযহাবের প্রতিষ্ঠাতা ও ইমাম, ইমামুল আইম্মা, শায়খুল মুহাদ্দেসীন হযরত আহমদ বিন হাম্মল রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, “যার ভিতর যত বেশি আল্লাহভীতি রয়েছে তিনি তত বড় আলেম।”
এ আয়াতের ব্যাখ্যায় বিখ্যাত তাফসীর গ্রন্থ ‘‘তাফসীর খোলাছায়ে’’ উল্লেখ আছে যে, “শুধুমাত্র কিতাবসমূহ পাঠকারীকে বুঝানো হয়নি। বরং কুরআন শরীফে বর্ণিত আলেম তারাই যারা মহান আল্লাহ পাক এর জাত ও অসীম গৌরবময় সিফাতসমূহে ঈমান ও মারেফাতের নূরের আলোকে অবলোকন করেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াল্লামের প্রিয়তম সাহাবীগণ রাদিআল্লাহু আনহুম, তাবেয়ীনগণ, তাবে-তাবেয়ীনগণ এবং ওলী আল্লাহগণ সর্বোচ্চ স্তরের উপকারী ইলমের অধিকারী ছিলেন। অর্থাৎ তারাই কুরআন শরীফে বর্ণিত প্রকৃত আলেম ছিলেন।
এ আয়াতের ব্যাখায় বিখ্যাত আলেম, ইমামুল মুফাসসিরীন ইবনে কাছীর রহমাতুল্লাহি আলাইহি তার প্রসিদ্ধ “তাফসীরে ইবনে কাছীরে” উল্লেখ করেছেন যে, হযরত ইবনে মাসউস রাদিআল্লাহু আনহু  বলেন, যে ব্যক্তি অধিক হাদীস জানে সে ব্যক্তি আলেম নয়। বরং যার মধ্যে আল্লাহর ভীতি অধিক সে ব্যক্তিই প্রকৃত আলেম।
বিশিষ্ট তাবেয়ী, আমীরুশ শরীয়ত ওয়াত্ব তরীকত ইমাম হাসান বছরী রহমাতুল্লাহি আলাইহি-কে জিজ্ঞেস করা হলো-আলেম কে? তিনি জবাবে বলেন, “ফকীহ বা আলেম হলো ঐ ব্যক্তি, যে দুনিয়া হতে বিরাগ, পরকালের প্রতি ঝুঁকে আছেন, গোনাহের প্রতি সতর্ক, সর্বদা মহান আল্লাহ পাকের ইবাদাতে মশগুল, পরহেজগার বা সুন্নতের পাবন্দ, মুসলমানের মান-সম্মান নষ্ট করেন না, তাদের সম্পদের প্রতি লোভ করেন না এবং তার অধীনস্থদের নছীহত করেন।”

যারা প্রকৃত আলেম তাদের মর্যাদা আল্লাহর দরবারে অতি উচ্চে। সাধারণ মানুষের মাঝে আলেমরা হলেন নক্ষত্ররাজিতুল্য। যাদেরকে অনুসরণ করার মাধ্যমে মানুষ সঠিক পথের সন্ধ্যান লাভ করে থাকে। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “পৃথিবীতে আলেমদের উদাহরণ হলো নক্ষত্ররাজির মতো। এদের সাহায্যে জল ও স্থলের অন্ধকারে পথের দিশা পাওয়া যায়। আর যদি তারকারাজি নির্মিলিত হয়ে যায়, তবে পথিকদের পথভ্রষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। [মুসনাদে আহমাদ ও জামিউস সগীর]
কুরআনুল কারীমের বিভিন্ন আয়াতে আলেমদের উচ্চ মর্যাদা সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে। সূরা জুমার এর ৯ নাম্বার আয়াতে বলা হয়েছে, “যারা আলেম এবং যারা আলেম না; তারা কী সমান হতে পারে?” কুরআনের অন্য আয়াতে বলা হয়েছে, “অন্ধ আর চক্ষুষ্মান কী সমান হতে পারে?”[সূরা রাদ : ১৬]
সাধারণ মানুষের মাঝে আলেমরাই অনুসরণ ও অনুকরণযোগ্য। কোন বিষয়ে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জাগলে অথবা কোন বিষয়ে জানার প্রয়োজন হলে আলেমদের শরণাপন্ন হওয়ার জন্যে কুরআনুল কারীমে আল্লাহ তায়ালা নির্দেশ দিয়েছেন। কুরআনে বলা হয়েছে, “ তোমরা যদি না জানো তবে আলেমদের জিজ্ঞাসা করো।” [সূরা নাহল : ৪৩]
আলেমদের মর্যাদাদানের কারণ সম্পর্কে কুরআনুল কারীমে বলা হয়েছে, “নিশ্চয়ই আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে যারা আলেম তারাই তাঁকে অধিক ভয় করে।” [সূরা ফাতির : ২৮]
এছাড়া আলেমদের মর্যাদাদানের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হচ্ছে, আল্লাহ তায়ালা সাধারণ মানুষের উপর আলেমদের দায়িত্বশীল বানিয়ে পাঠিয়েছেন। কুরআনুল কারীমে বলা হয়েছে, “আলেমরা কেন তাদেরকে পাপ কথা বলতে এবং হারাম ভক্ষণ করতে নিষেধ করে না?” [সূরা মায়েদা : ৬৩]
আলেমরাই আল্লাহর কল্যাণ ও অনুগ্রহপ্রাপ্ত বলে কুরআনে বলা হয়েছে, “যাকে প্রজ্ঞা (গভীর জ্ঞান) দান করা হয়েছে, তাকে প্রভূত কল্যাণ দান করা হয়েছে।” [সূরা বাকারা :২৬৯]
শুধু কুরআনুল কারীমেই নয় বরং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অসংখ্য হাদীসেও আলেমদের সম্মান ও মর্যাদার কথা গুরুত্বের সাথে বলা  হয়েছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “একজন আলেমের মর্যাদা একজন সাধারণ মানুষের উপর ততটুকুন, যতটুকুন তোমাদের উপর আমি একজন নবীর মর্যাদা।” [সহীহ তিরমিজি] অন্য হাদীসে বলা হয়েছে, “দ্বীন সম্পর্কে শিক্ষিত একজন আলেম শয়তানের মোকাবেলায় একজন অজ্ঞ ব্যক্তির চেয়ে হাজার গুণ অধিক শক্তিশালী।” [সহীহ তিরমিজি ও ইবনু মাজাহ]
মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলেমদের সম্মান করতে নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, “যে ব্যক্তি আলেমদের সম্মান করলো সে যেনো আমাকেই সম্মান করলো।” [দারেমী]
আলেমরা হলেন ঈর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব। যাদেরকে আল্লাহ তায়ালা দ্বীনের গভীর ইলম দান করেছেন। যাদেরকে সবাই সম্মান করে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “কেবল দুই ব্যক্তির সাথে ঈর্ষা করা যায়। ১. সেই ব্যক্তি যাকে আল্লাহ সম্পদ দান করেছেন এবং সে সেই সম্পদ সত্য-ন্যায়ের পথে খরচ করে। ২. সেই আলেম যাকে আল্লাহ তার দ্বীনের গভীর ইলম দান করেছেন এবং তার দ্বারা তিনি রায় প্রদান করেন।” [সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলিম]
অপর এক হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই সর্বোত্তম, যে নিজে কুরআন শিক্ষা করে এবং অন্যকে তা শিক্ষা দেয়।” [ইবনে মাজাহ]

আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ভালোবাসতে চাইলে আলেম-ওলামাদের ভালোবাসতে হবে। তাদের সম্মান ও মর্যাদা দিতে হবে। তাদেরকে কষ্ট দিয়ে ও অসম্মান করে কখনো আল্লাহর নৈকট্য ও তাঁর রহমতের আশা করা যায় না। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন, “(হে হাবীব) আপনি বলে দিন! যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবেসে বা মহব্বত করে থাক, তবে আমাকে (সুন্নতকে) অনুসরণ করো। তবেই আল্লাহপাক তোমাদেরকে মহব্বত করবেন ও তোমাদের গোনাহ্ খাতাসমূহ ক্ষমা করবেন। মহান আল্লাহ ক্ষমাশীল এবং দয়ালু।” [সুরা আলে ইমরান : ৩১]
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি আমার সুন্নতকে মহব্বত (অনুসরণ) করলো সে ব্যক্তি আমাকেই মহব্বত (অনুসরণ) করলো।” [মেশকাত, মেরকাত]

মহানবি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলেমদেরকে তাঁর উত্তরাধিকারী হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেন, “নিশ্চয় আলেমরা হলেন নবীদের উত্তরাধিকারী।” [সহীহ তিরমিজি, আবু দাউদ]
উপরোক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে এ কথা মোটেও বলা অত্যুক্তি হবে না যে, আলেম-ওলামাদের মর্যাদা ও সম্মান আকাশতুল্য। তাদের সাথে বেয়াদবি, তাদের কষ্ট দেয়া ও নির্যাতন করা অত্যন্ত গোনাহের কাজ। এর জন্যে দুনিয়া ও আখিরাতে কঠিন মুসিবতের সম্মুখীন হতে হবে।
অতএব যারা আলেম-ওলামা তাদেরকে সম্মান ও মর্যাদা দান সকলের অবশ্য কর্তব্য। আলেম-ওলামাদেরকে সম্মান ও মর্যাদা দানের মাধ্যমে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সন্তুষ্টি লাভ করা সম্ভব।

Wednesday, November 21, 2018

আমার ভুল হয়ে গেছে কথাটি কত দামী দেখ....


আমার ভুল হয়ে গেছে কথাটি কত দামী দেখ....
যখন আজরাইল আ . মুসা আলাই এর জান কবজ করতে আসলো তখন আজরাইল আ. এসে মুসা আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে সালাম দিল l মুসা আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালামের জবাব দিলেন l আজরাইল কে জিজ্ঞেস করলেন কেন এসেছ? আজরাইল আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হুজুর আপনার জান কবজ করতে এসেছি l সালাম এর উত্তর নিয়ে জিজ্ঞেস করলেন আজরাইল, তুমি কোন দিক দিয়ে আমার জান কবজ করবে? আজরাইল আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, মুখ দিয়ে জান কবজ করব মুসা আলাই সাল্লাম বললেন, এই মুখে যে আল্লাহর বাণী প্রচার করেছি l আজরাইল বললেন, তাহলে চোখ দিয়ে জান কবজ করব l মুসা আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন এই চোখে যে তাওরাত পাঠ করেছি ও আল্লাহর নেয়ামত দেখে শুকরিয়া আদায় করেছি l আজরাইল আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন তাহলে হাত দিয়ে জান কবজ করে নেব l মুসা আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এই হাতে যে ফেরাউনের অপশক্তি ধ্বংস করেছি , আল্লাহর অনেক নেয়ামত হাতে ধরেছি l আল্লাহর দ্বীনের কাজ করেছি l আজরাইল রেগে বললেন আমার যে দিক দিয়ে খুশি সে দিক দিয়েই আপনার জান কবজ করে নেব l আজরাইল আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই কথায় মুসা আলাই সাল্লাম খুবই রাগান্বিত হলেন এবং জিদের বশবর্তী হয়ে আজরাইলকে ঘুষি মারলেন l আজরাইল আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাম চোখ অন্ধ হয়ে গেল l আযরাইল আলাইহিস সাল্লাম আল্লাহর দরবারে নালিশ নিয়ে গেলেন বললেন, হে আল্লাহ এই দেখো তোমার নবী মুসা আমার একি হাল করেছে l আল্লাহ মূসাকে ডেকে বললেন এ মুসা তুমি আজরাইলের এমন অবস্থা কেন করলে l তিনি জবাবে বললেন হে আল্লাহ তুমি তো সব কিছু যানো l এটাও জানো যে কেন আমি তাকে ঘুসি মেরেছি l হে আল্লাহ আমি তার কোন কথায় রাগান্বিত হই নি l যখন সে তোমার নাম না নিয়ে বলল যে আমি আমার খুশী মত যেদিক দিয়ে ইচ্ছা সে দিক দিয়ে আপনার জান কবজ করে নেব l তখনই আমার খুব রাগ হলো যে, আজরাইলের এত বড় সাহস আল্লাহর দেওয়া জান সে তার ইচ্ছে মত বের করে নিবে l আল্লাহর নাম না নেওয়ার কারণে আমি তার প্রতি রাগান্বিত হয়ে তাকে ঘুসি মারলাম l আল্লাহ বললেন হে মূসা তোমাকে শাস্তিস্বরূপ 60 বছর জিন্দেগি দেওয়া হল l মূসা আলাইহিস সাল্লাম নামাজ রত অবস্থায় কান্নাকাটি করে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইলেন l বললেন , হে আল্লাহ আমি ভুল করেছি আমার ভুল হয়ে গেছে l তুমি আমাকে ক্ষমা কর আল্লাহ মুসা আলাই সাল্লাম এর অনুশোচনায় তাকে ক্ষমা করে দিলেন l আমাদের প্রত্যেকেরই উচিত নিজের ভুল স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করা আর সর্বদা নিজেকে সাবধান রাখা l

Saturday, November 17, 2018

সন্তানের প্রতি লোকমান হাকীমের ১১ উপদেশ (পর্ব ৭/৮) ৭ম উপদেশ





সন্তানের প্রতি লোকমান হাকীমের ১১ উপদেশ (পর্ব ৭/৮)সপ্তম উপদেশ:
আল্লাহ বলেন- 
وَاصْبِرْ عَلَى مَا أَصَابَكَ
যে তোমাকে কষ্ট দেয় তার উপর তুমি ধৈর্য ধারণ কর।”
আয়াত দ্বারা স্পষ্ট হয় যে, যারা ভালো কাজের আদেশ দেবে এবং খারাপ ও মন্দ কাজ হতে মানুষকে নিষেধ করবে তাকে অবশ্যই কষ্টের সম্মুখীন হতে হবে এবং অগ্নিপরীক্ষা দিতে হবে। যখন পরীক্ষার সম্মুখীন হবে তখন তোমার করণীয় হল, ধৈর্যধারণ করা ও ধৈর্যের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া।
রাসূল সা. বলেন,
«المؤمن الذي يخالط الناس ويصبر على أذاهم ، أفضل من المؤمن الذي لا يخالط الناس ولا يصبر على أذاهم».
যে ঈমানদার মানুষের সাথে উঠা-বসা ও লেনদেন করে এবং তারা যে সব কষ্ট দেয়. তার উপর ধৈর্য ধারণ করে, সে— যে মুমিন মানুষের সাথে উঠা-বসা বা লেনদেন করে না এবং কোন কষ্ট বা পরীক্ষার সম্মুখীন হয় না তার থেকে উত্তম।”
إِنَّ ذَلِكَ مِنْ عَزْمِ الْأُمُورِ
অর্থ, “নিশ্চয় এগুলো অন্যতম সংকল্পের কাজ।” –সূরা লোকমান: ১৭
অর্থাৎ, মানুষ তোমাকে যে কষ্ট দেয়, তার উপর ধৈর্য ধারণ করা অন্যতম দৃঢ় প্রত্যয়ের কাজ।
অষ্টম উপদেশ:
وَلَا تُصَعِّرْ خَدَّكَ لِلنَّاسِ
অর্থ, “আর তুমি মানুষের দিক থেকে তোমার মুখ ফিরিয়ে নিয়ো না।”
আল্লামা ইবনে কাসীর রহ. বলেন, ‘যখন তুমি কথা বল অথবা তোমার সাথে মানুষ কথা বলে, তখন তুমি মানুষকে ঘৃণা করে অথবা তাদের উপর অহংকার করে, তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে রাখবে না। তাদের সাথে হাস্যোজ্জ্বল হয়ে কথা বলবে। তাদের জন্য উদার হবে এবং তাদের প্রতি বিনয়ী হবে।
আল্লাহ আমাদের পালন করার তাওফিক দান করুন।
আর আমাদের সন্তানদের এমন উপদেশ দেওয়ার তাওফিক দান করুন।

Wednesday, November 14, 2018

সন্তানের প্রতি লোকমান হাকীমের ১১ উপদেশ (পর্ব ৯) নবম উপদেশ:


সন্তানের প্রতি লোকমান হাকীমের ১১ উপদেশ (পর্ব ৯/১০/১১)নবম উপদেশ:
 হযরত লোকমান আ. তার প্রিয় সন্তানের প্রতি ৯ম যে উপদেশটি রাখেন তা হলো - হে আমার বৎস অহংকার করোনা ।
কারণ অহংকার মানুষকে অধঃপতনের অতল তলদেশে ছিটকে পেলে দেয়।
সেই কথা কোড করে আল্লাহ বর্ণনা দেন।
আল্লাহ তাআলা বলেন: وَلا تَمْشِ فِي الْأَرْضِ مَرَحاً
“অহংকার ও হঠকারিতা প্রদর্শন করে জমিনে হাঁটা চলা করবে না।”
কারণ, এ ধরনের কাজের কারণে আল্লাহ তোমাকে অপছন্দ করবে। এ কারণেই মহান আল্লাহ তাআলা বলেন,
إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ كُلَّ مُخْتَالٍ فَخُورٍ
“নিশ্চয় আল্লাহ কোন দাম্ভিক, অহংকারীকে পছন্দ করেন না।” –সূরা লোকমান: ১৮
অর্থাৎ যারা নিজেকে বড় মনে করে এবং অন্যদের উপর বড়াই করে, মহান আল্লাহ তাআলা তাদের পছন্দ করে না।
দশম উপদেশ:
নমনীয় হয়ে হাঁটা চলা করা। মহান আল্লাহ তাআলা কুরআনে করীমে বলেন:
وَاقْصِدْ فِي مَشْيِكَ
“আর তোমার চলার ক্ষেত্রে মধ্যপন্থা অবলম্বন কর।”
তুমি তোমার চলাচলে স্বাভাবিক চলাচল কর। খুব দ্রুত হাঁটবে না আবার একেবারে মন্থর গতিতেও না। মধ্যম পন্থায় চলাচল করবে। তোমার চলাচলে যেন কোন প্রকার সীমালঙ্ঘন না হয়।
একাদশ উপদেশ:
নরম সূরে কথা বলা। লোকমান হাকীম তার ছেলেকে নরম সূরে কথা বলতে আদেশ দেন। মহান আল্লাহ তাআলা বলেন,وَاغْضُضْ مِن صَوْتِكَ
“তোমার আওয়াজ নিচু কর।”
আর কথায় কোন তুমি কোন প্রকার বাড়াবাড়ি করবে না। বিনা প্রয়োজনে তুমি তোমার আওয়াজকে উঁচু করো না। মহান আল্লাহ তাআলা বলেন,
إِنَّ أَنكَرَ الْأَصْوَاتِ لَصَوْتُ الْحَمِيرِ
“নিশ্চয় সবচাইতে নিকৃষ্ট আওয়াজ হল, গাধার আওয়াজ।”
আল্লামা মুজাহিদ বলেন, ‘সবচাইতে নিকৃষ্ট আওয়াজ হল, গাধার আওয়াজ। অর্থাৎ, মানুষ যখন বিকট আওয়াজে কথা বলে, তখন তার আওয়াজ গাধার আওয়াজের সাদৃশ্য হয়। আর এ ধরনের বিকট আওয়াজ মহান আল্লাহ তাআলার নিকট একেবারেই অপছন্দনীয়।
সংগ্রহীত 

Friday, November 09, 2018

সন্তানের প্রতি লোকমান হাকীমের ১১ উপদেশ (১ম ও ২য় পর্ব)


সন্তানের প্রতি লোকমান হাকীমের ১১ উপদেশ (প্রথম পর্ব)
 যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহর । দুরূদ ও সালাত প্রিয়নবি হযরত মুহাম্মদ স. এর উপর তার আহলে বাইত ও সাহাবী এবং শুহাদাগণের উপর।
প্রথম কথা:
আমাদের কোমলমতি শিশুরাই পৃথিবীর ভবিষ্যৎ। শিশুদের বাল্যকালের শিক্ষা-দীক্ষা যদি ভালো হয়, তবে আশা করা যায় তাদের ভবিষ্যৎ ও আগামী পৃথিবীর বিনির্মাণ ভালো হবে। দেশ, জাতি, সমাজ নির্বিশেষে পুরো পৃথিবী তাদের দ্বারা লাভবান ও উপকৃত হবে। এজন্য শিশুদের শিক্ষা, তালিম, তরবিয়ত ও তাদের চরিত্রবান করে গড়ে তোলার প্রতি গুরুত্ব দেয়া অধিক গুরুত্বপূর্ণ।
এ কারণেই আমরা কুরআনুল কারীমে দেখতে পাই যে, মহান আল্লাহ তাআলা শিক্ষণীয় ও উপদেশমূলক অনেক ঘটনা বর্ণনা করেছেন, তন্মধ্যে সন্তানের প্রতি মাতা-পিতার দায়িত্ব সম্পর্কেও বিশদ আলোচনা করা হয়েছে। এক্ষেত্রে লোকমান হাকিমের ঘটনা সমুজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এ ঘটনায় লোকমান হাকিম তার ছেলেকে যে উপদেশ দেন, তা এতই সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য যে, মহান আল্লাহ তাআলা তা কুরআনুল কারীমে সবিস্তারে উল্লেখ করেছেন। কিয়ামত পর্যন্ত অনাগত উম্মত এটা তিলাওয়াত করবে এবং কিয়ামত পর্যন্ত এ উপদেশ হবে উম্মাহর সকল সদস্যের জন্য আদর্শ। এ নিবন্ধে ইনশাআল্লাহ, কুরআনের সে আলোচনাই তাফসিরে ইবনে কাসিরের ব্যখ্যাসহ পাঠক সমীপে দুই পর্বে পেশ করা হবে। আজ প্রথম পর্ব প্রকাশ করা হচ্ছে—
লোকমান (আ.) তার ছেলেকে যে উপদেশ দেন তা নিম্নরূপ:
মহান আল্লাহ তা’আলা বলেন,

وَإِذْ قَالَ لُقْمَانُ لِابْنِهِ وَهُوَ يَعِظُهُ
অর্থ, ‘আর স্মরণ কর, যখন লোকমান তার পুত্রকে উপদেশ দিতে গিয়ে বলেছিল...।’
এ উপদেশগুলো ছিল অত্যন্ত উপকারী, যে কারণে মহান আল্লাহ তা’আলা কুরআন কারীমে লোকমান হাকিমের পক্ষ থেকে উল্লেখ করেন।
প্রথম উপদেশ:
তিনি তার ছেলেকে বলেন,
يَا بُنَيَّ لَا تُشْرِكْ بِاللَّهِ إِنَّ الشِّرْكَ لَظُلْمٌ عَظِيمٌ
অর্থ, ‘হে প্রিয় বৎস আল্লাহর সাথে শিরক কর না, নিশ্চয় শিরক হল বড় যুলুম।’
এখানে লক্ষণীয় যে, প্রথমে তিনি তার ছেলেকে শিরক হতে বিরত থাকতে নির্দেশ দেন। একজন সন্তান তাকে অবশ্যই জীবনের শুরু থেকেই আল্লাহর তাওহিদে বিশ্বাসী হতে হবে। কারণ, তাওহিদই হলো, যাবতীয় কর্মকাণ্ডের বিশুদ্ধতা ও নির্ভুলতার একমাত্র মাপকাঠি। তাই তিনি তার ছেলেকে প্রথমেই বলেন, আল্লাহর সাথে ইবাদতে কাউকে শরিক করা হতে বেঁচে থাক। যেমন, মৃত ব্যক্তির নিকট প্রার্থনা করা অথবা অনুপস্থিত ও অক্ষম লোকের নিকট সাহায্য চাওয়া বা প্রার্থনা করা ইত্যাদি। এছাড়া এ ধরনের আরো অনেক কাজ আছে, যেগুলো শিরকের অন্তর্ভুক্ত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘দোআ হলো ইবাদত’ الدعاء هو العبادة সুতরাং আল্লাহর মাখলুকের নিকট দোআ করার অর্থ হলো, মাখলুকের ইবাদত করা, যা শিরক।
মহান আল্লাহ তা’আলা যখন তার বাণী,
وَلَمْ يَلْبِسُواْ إِيمَانَهُم بِظُلْمٍ
অর্থাৎ ‘তারা তাদের ঈমানের সাথে যুলুমকে একত্র করেনি।’ এ আয়াত নাযিল করেন, তখন বিষয়টি মুসলিমদের জন্য কষ্টকর হলো এবং তারা বলাবলি করল যে, আমাদের মধ্যে কে এমন আছে যে তার উপর অবিচার করে না? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের আলোচনা শুনে বললেন,
ليس ذلك ، إنما هو الشرك ، ألم تسمعوا قول لقمان لابنه :يَا بُنَيَّ لَا تُشْرِكْ بِاللَّهِ إِنَّ الشِّرْكَ لَظُلْمٌ عَظِيمٌ
অর্থাৎ, ‘তোমরা যে রকম চিন্তা করছ, তা নয়, এখানে আয়াতে যুলুম দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, শিরক। তোমরা কি লোকমান (আ.) তার ছেলেকে যে উপদেশ দিয়েছে, তা শোননি? তিনি তার ছেলেকে বলেছিলেন,
يَا بُنَيَّ لَا تُشْرِكْ بِاللَّهِ إِنَّ الشِّرْكَ لَظُلْمٌ عَظِيمٌ .
অর্থ, হে প্রিয় বৎস আল্লাহর সাথে শিরক কর না, নিশ্চয় শিরক হল বড় যুলুম। সুরা লোকমান:১৩

পর্ব ২  দ্বিতীয় উপদেশ:
মহান আল্লাহ তাআলা মানবজাতিকে যে উপদেশ দিয়েছেন, তার বর্ণনা দিয়ে বলেন,
وَوَصَّيْنَا الْإِنسَانَ بِوَالِدَيْهِ حَمَلَتْهُ أُمُّهُ وَهْنًا عَلَى وَهْنٍ وَفِصَالُهُ فِي عَامَيْنِ أَنِ اشْكُرْ لِي وَلِوَالِدَيْكَ إِلَيَّ الْمَصِيرُ .
অর্থ, ‘আর আমি মানুষকে তার মাতাপিতার ব্যাপারে [সদাচরণের] নির্দেশ দিয়েছি। তার মা কষ্টের পর কষ্ট ভোগ করে, তাকে গর্ভে ধারণ করে। আর তার দুধ ছাড়ানো হয় দুই বছরে; সুতরাং আমার ও তোমার পিতা-মাতার শুকরিয়া আদায় কর। প্রত্যাবর্তন তো ‍‌আমার কাছেই। - সুরা লোকমান: ১৪
তিনি তার ছেলেকে কেবলই আল্লাহর ইবাদত করা ও তার সাথে ইবাদতে কাউকে শরিক করতে নিষেধ করার সাথে সাথে মাতা-পিতার সাথে ভালো ব্যবহার করার উপদেশ দেন। কারণ, মাতা-পিতার অধিকার সন্তানের উপর অনেক বেশি। মা তাকে গর্ভধারণ, দুধ-পান ও ছোট বেলা লালন-পালন করতে গিয়ে অনেক জ্বালা-যন্ত্রণা ও কষ্ট সইতে হয়েছে। তারপর তার পিতাও লালন-পালনের খরচাদি, পড়া-লেখা ও ইত্যাদির দায়িত্ব নিয়ে তাকে বড় করছে এবং মানুষ হিসেবে ঘড়ে তুলছে। তাই তারা উভয় সন্তানের পক্ষ হতে অভিসম্পাত ও খেদমত পাওয়ার অধিকার রাখে।

Wednesday, November 07, 2018

আমাদের কর্মকান্ড কি রেকর্ড হয়?

গর্ভবতী-মহিলাদের আমল

           
গর্ভবতী-মহিলাদের আ
মল:Ñ
 প্রথম মাসে সূরা আল-ইমরান পড়লে সন্তান দামী হবে।
 দ্বিতীয় মাসে সূরা ইউসুফ পড়লে সন্তান সুন্দর হবে।
 তৃতীয় মাসে সূরা মারইয়াম পড়লে সন্তান সবরকারী হবে।
 চতুর্থ মাসে সুরা লোকমান পড়লে সন্তান হেকমত ওয়ালা হবে।
 পঞ্চম মাসে সূরা মুহাম্মদ পড়লে সন্তান চরিত্রবান  হবে।
 ষষ্ঠ মাসে সূরা ইয়াসিন পড়লে সন্তান জ্ঞানী হবে।
 সপ্তম, অষ্টম, নবম এবং দশম মাসে সূরা ইউসুফ, মুহাম্মদ, এবং ইবরহিম এর প্রথম থেকে দশ আয়াত পড়বে।

 “পবিত্র কুরআন মাজিদ পড়–ন, নেকী অর্জন করুন”

১। সুরা ফাতিহা: তিনবার পড়লে, দুই খতম পবিত্র কুরআন এর সওয়াব পাওয়া যায়।          
 [তাফসিরে মাজহারী-১ম খন্ড-পৃ: ১৫]
২। সুরা নাসর: চারবার পড়লে, এক খতম পবিত্র কুরআন এর সওয়াব পাওয়া যায়।                   [তিরমিজি-২য় খন্ড-পৃ: ১১৭]
৩। সুরা কাফিরুন: চারবার পড়লে, এক খতম পবিত্র কুরআন এর সওয়াব পাওয়া যায়।                  [তিরমিজি-২য় খন্ড-পৃ: ১৭]
৪। সুরা ক্বদর: চারবার পড়লে, এক খতম পবিত্র কুরআন এর সওয়াব পাওয়া যায়।               
 [দুররে মানছুর-৬ষ্ঠ খন্ড-পৃ: ৬৮০]
৫। সুরা যিলযাল: দুইবার পড়লে, এক খতম পবিত্র কুরআন এর সওয়ার পাওয়া যায়।                [তিরমিজি-২য় খন্ড-পৃ:১১৭]
৬। সুরা আদিয়া: দুইবার পড়লে, এক খতম পবিত্র কুরআন এর সওয়াব পাওয়া যায়।           
 [দুররে মানছুর-৬ষ্ঠ খন্ড-পৃ:৬৯৫]
৭। আয়াতুল কুরছি: চারবার পড়লে, এক খতম পবিত্র কুরআন এর সওয়াব পাওয়া যায়।               [তাফসিরে মাজহারী-২য় খন্ড-পৃ: ৩১]
৮। সুরা ইখলাস: তিনবার পড়লে, এক খতম পবিত্র কুরআন এর সওয়াব পাওয়া যায়।                   [বুখারী-২য় খন্ড-পৃ:৬৫০]
৯। সুরা ইয়াছিন: একবার পড়লে, দশ খতম পবিত্র কুরআর এর সওয়াব পাওয়া যায়।                [তিরমিজি-২য় খন্ড-পৃ:১১৫]
********
পুরুষ অপেক্ষা নারীদের মর্যাদাপূর্ণ স্থানসমূহ
১। একজন নেককার মহিল, ৭০ জন আউলিয়ার চেয়ে উত্তম।
২। একজন বদকার মহিলা, ১ হাজার বদকার পুরুষের চেয়ে “বদকার” বা খারাপ।
৩। একজন গর্ভবর্তী মহিলার দু’রাকাত নামাজ, গর্ভহীন মহিলার আশি [৮০] রাকাত নামাজের চেয়ে উত্তম।
৪। গর্ভবর্তী মহিলা যত রাকাত নামাজ পড়বে প্রত্যেক রাকাত একটি করে রোজা হিসেবে গণ্য হবে [রমজানের রোজার মত]
৫। কোন মহিলা একটি সন্তান জন্ম দিলে সত্তর[৭০] বছরের নামাজ ও রোজার নেকি তার আমল নামায় দান করা হয়।
৬। সন্তান জন্ম নেওয়ার সময় যে কষ্ট হয় বা ব্যাথা হয় প্রতি বারের ব্যাথার জন্য আল্লাহ তার আমলনামায় একটা কবুল হজ্জের সওয়াব দান করেন।
৭। সন্তান ভুমিষ্ট হওয়ার [৪০] চল্লিশ দিনের মধ্যে মারা গেলে আল্লাহ তাকে শহীদ এর মর্যাদা দান করেন।
৮। যদি বাচ্চা কাঁদে আর মা, কোন প্রকার বদ দোয়া না দিয়ে তাকে দুধ পান করান, আল্লাহ তাকে এক বছরের নফল নামাজের নেকি দান করেন।
৯। যখন বাচ্চা দুধ পান করানো হয় তখন আসমান থেকে একজন ফেরেশতা অবতীর্ন হয়ে সে ঐ মাকে সুসংবাদ দিয়ে বলেন, ও মা আল্লাহ তোমার জন্য জান্নাত ওয়াজিব করে দিয়েছেন এবং জাহান্নাম হারাম করেছেন।

১০। যে মহিলা বাচ্চার কান্নার জন্য যদি একরাত্র ঘুমাতে না পারেন, ঐ রাত্রের বিনিময়ে আল্লাহ তার আমলনামায় [২০] বিশ জন গোলাম আজাদ করার সওয়াব দান করবেন। [একজন গোলাম আজাদ সমান ১০০ শহীদের মর্যাদা]
১১। যে মহিলা তার সন্তান এর অসুখের কারণে কষ্ট ভোগ করেন এবং সন্তান এর সেবা করার কারণে মহান আল্লাহ তার পিছনে সব গুনাহ মাফ করেন এবং গুনাহর সমপরিমান সওয়াব তার আমলনামায় দান করেন।
১২। স্বামী বাহির থেকে ঘরে আসলে যে স্ত্রী স্বামীর খোঁজ খবর নেন এবং সান্তনা দেন, আল্লাহ ঐ স্ত্রীকে জেহাদের অর্ধেক সওয়াব দান করেন।
১৩। যখন স্বামী-স্ত্রী একে অন্যের প্রতি মহব্বত বা নেক নিয়্যতে তাকান তখন আল্লাহ পাক তাদের প্রতি মহব্বতের দৃষ্টি দেন।
১৪। যে মহিলা স্বামীকে আল্লাহর রাস্তায় পাঠান ও নিজেকে হেফাজত করেন এবং ঘরে থাকেন, তিনি ঐ পুরুষের ৫০০ [পাঁচশত] বছর আগে বেহেশতে প্রবেশ করবেন এবং [৭০] সত্তর হাজার ফেরেশতা তাকে স্বাগতম জানাবে। তিনি হুরদের নেত্রী হবেন। তাকে বেহেশতে গোসল দেওয়া হবে, ঐ মহিলা ইয়াকুত ঘোড়ায় সওয়ার হয়ে তার স্বামীর জন্য অপেক্ষা করবে।
১৫। যে স্ত্রী স্বামীর অবাধ্য হয়, তার নামাজ রোজা সহ কোন ইবাদত আল্লাহর কাছে কবুল হবে না।
১৬। স্বামী যখন বাহির থেকে ঘরে ফিরে আসেন, তখন যদি স্ত্রী তাকে খানা খাওয়ান ও স্বামীর অনুপস্থিতিতে কোন খেয়ানত না করেন, তবে আল্লাহ পাক সে স্ত্রীকে ১২ বছরের ইবাদতের সওয়াব তার আমল নামায় দান করেন।
১৭। যে স্বামী স্ত্রীকে একটি শরীয়তের মাসয়ালা শিক্ষা দিবে, আল্লাহ তার আমল নামায় আশি [৮০] বছরের সওয়াব দান করবেন।
১৮। যে মহিলা নামাজ রোযা পালন করবে ও স্বামীর খেদমত করবে, তার জন্য বেহেশতের ৮ টি দরজা খুলে দেয়া হয়।
১৯। যে মহিলা যিকিরের সাথে ঘর ঝাড়– দেয়, আল্লাহ তাকে কাবাঘর ‘ঝাড়–’ দেয়ার সওয়াব দান করেন।
২০। যে মহিলা ‘বিসমিল্লাহ’ বলে খাবার প্রস্তুত করেন, আল্লাহ পাক তার    রুজির মধ্যে বরকত দান করেন
২১। যে স্ত্রী তার স্বামীর সন্তুষ্টি অবস্থায় মারা যায়, তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব এবং জাহান্নাম হারাম হয়ে যায়।
২২। যে মহিলা পর্দা করে না এবং অন্য পুরুষকে নিজের দিকে আকৃষ্ট করে, ঐ সমস্ত মহিলা বেহেশতে যাবে না, এমনকি বেহেশতের ঘ্রাণও পাবে না।

দাড়ি রাখার উপকারিতা ।


দাড়ি রাখার উপকারিতাঃ
০১.☞দাড়ি রাখলে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল(সাঃ) খুশি হন।
০২.☞দাড়ি রাখার দ্বারা সকল নবীগণেরসাদৃশ্য গ্রহণ করা হয়।
০৩.☞দাড়ি রাখলে নবীজির শাফায়াত লাভহবে।
০৪.☞চোখের অনেক পাওয়ার bare০৫.☞দাড়িওয়ালার প্রতি মানুষের ধারণাভাল থাকে এবং সে মানুষের দোয়া পায়।
০৬.☞অপরিচিত স্থানে দাড়িওয়ালা মুসলমানমারা গেলে, মুসলমান কিনা চেনার জন্যউলঙ্গ করে খৎনা দেখতে হয় না।
০৭.☞ দাড়িতে চেহারার সৌন্দর্য্য বাড়েএবংবীরত্বের পরিচয় বহন করে।
০৮.☞ কিয়ামতের অন্ধকারে মুমিনের দাড়িনূরে পরিণত হবে।
০৯.☞ ঈমান-আমল ঠিক থাকলে দাড়িওয়ালাব্যক্তি নবী ও ওলীর সাথে সাক্ষাৎ ও হাশরহবে।
১০.☞ দাড়ি রাখলে অনেক পাপ থেকে বেঁচেথাকা যায়।
১১.☞ দাড়ি ইসলামী সভ্যতার অন্যতম প্রতীক।
১২.☞ দাড়ি রাখলে মুনকার- নাকীরের সুওয়াল-জাওয়াব সহজ হয়।
১৩.☞ লম্বা দাড়ি স্বাস্থের ক্ষতিকর জীবানুগুলোকে গলা ও সিনাতে পৌঁছতে দেয়না।
১৪.☞ দাড়ি গলাকে শীত ও গরমের বিরুপপ্রতিক্রিয়া থেকে মুক্ত রাখে।
১৫.☞ দাড়ির অস্তিত্ব যৌন শক্তিকে বৃদ্ধিকরে, যাডাক্তার দ্বারা প্রমাণিত।
১৬.☞ দাড়ি রাখলে পাইরিয়ার মত মারাত্বকরোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
১৭.☞ দাড়ি রাখলে সেভ করার অনর্থক সময় ওঅর্থ অপচয় থেকে বাঁচা যায়।
১৮.☞ দাড়ি দ্বারা গুণাহে জারিয়া থেকেরক্ষা পাওয়া যায়।
১৯.☞ দাড়ি রাখার দ্বারা শারীরিকসৌন্দর্য্য বৃদ্ধি পায়।
২০.☞ দাড়িতে ক্ষুর বা ব্লেড লাগালে,চোখেররগের উপর আঘাত লাগে। ফলে চোখেরজ্যোতি কমে যায় এবং মুখের চামড়া শক্তহয়ে যায়। তাই দাড়ি রাখলে এই ক্ষতি থেকেপরিত্রাণ পাওয়া যায়। ●

বুখারি ১৩৫৬,মুসলিম ২২৪২, নাসাঈ ৩৫৪।
আল্লাহ পাক সকলপুরুষ মুসলমান কে দাড়ি রাখার তৌফিক দান করুন। আমিন।
সংগ্রহীত ফেসবুক

Tuesday, November 06, 2018

আখেরী চাহার শোম্বা কি?


আখেরী চাহার শোম্বা হলো ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের পালিত অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ একটি স্মারক দিবস।[১] আখেরী চাহার শোম্বা একটি আরবী ও ফার্সি শব্দ-যুগল; এর আরবী অংশ আখেরী, যার অর্থ “শেষ” এবং ফার্সি অংশ চাহার শোম্বা, যার অর্থ  চতুর্থ বুধবার”।[১][২]

ঘটনা

এই দিন কিছুটা সুস্থবোধ করায় ইসলামের মহান নবী হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) গোসল করেন।
মদীনাবাসী এই খবরে আনন্দ-খুশিতে আত্মহারা হয়ে গেলেন[৩] এবং দলে দলে এসে নবীকে একনজর দেখে গেলেন।[৪] সকলে তাদের সাধ্য মতো দান-সাদকা করলেন, শুকরিয়া নামাজ আদায় ও দোয়া করলেন।[৩] নবীর রোগমুক্তিতে তাঁর অনুসারীরা এতটাই খুশি হয়েছিলেন যে ,তাদের কেউ দাস মুক্ত করে দিলেন, কেউবা অর্থ বা উট দান করলেন;[৩] যেমনঃ আবু বকর সিদ্দিক ৫ হাজার দিরহাম, উমর ৭ হাজার দিরহাম, ওসমান ১০ হাজার দিরহাম, আলী ৩ হাজার দিরহাম, আবদুর রহমান ১০০ উট, ইবনে আউফ ১০০ উট দান করেন।[৪]

পালন বিধি

কিছু নির্দিষ্ট বিধি-বিধানের আলোকে 'আখেরি চাহার শোম্বা' পালন করা হয়; যদিও ধর্ম-তত্ত্ববিদগণের মধ্যে এই দিবসটি পালন করা নিয়ে কিছুটা মতভেদ রয়েছে।[৪] দিবসটি মূলতঃ শুকরিয়া দিবস হিসাবে পালিত হয়; যাতে সাধারণতঃ গোসল করে দু’রাকাত শোকরানা-নফল নামাজ আদায় শেষে রোগ থেকে মুক্তির দোয়া ও দান-খয়রাত করা হয়।[১] বিভিন্ন মসজিদ, মাদরাসা, দরবার, খানকায় ওয়াজ-নসিহত, জিকির-আসকার, মিলাদ মাহফিল, দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয় এই দিনটি পালন উপলক্ষে। এদিন বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারিভাবে বন্ধ রাখার পাশাপাশি অফিস-আদালতে ঐচ্ছিকভাবে ছুটির দিন হিসাবে বিবেচনা করা হয়। [৪]
উইকেফেডিয়া থেকে সংগ্রহীত 

Saturday, November 03, 2018

স্ত্রীদের সাথে আচরণ (পর্ব - ১) .


স্ত্রীদের সাথে আচরণ (পর্ব - ১) .
একজন মানুষকে দূর থেকে দেখলে অসাধারণ মনে হয়। ভুলের উর্ধ্বে মনে হয়। দূরত্ব যত কমে, মানবীয় দূর্বলতা ততো প্রকাশ পায়। কখনো কখনো ভেতরের কদর্য রূপও প্রকাশ পায়, যেটা হয়তো দূর থেকে আমরা চিন্তাও করতে পারি না। এ কারণেই একজন মানুষের ভেতর ও বাহিরের আসল রূপ সবচেয়ে ভালোভাবে জানতে পারে তার জীবনসঙ্গিনী। সে কি ডা. জেকিল না মি. হাইড সেটাও তার স্ত্রীর চেয়ে ভালো কেউই বলতে পারবে না। রাসূল ﷺ তাই বলতেন –“তোমাদের মধ্যে সেই তো সবচেয়ে উত্তম, যে তার স্ত্রীর নিকট উত্তম। আমি আমার স্ত্রীদের নিকট সবচেয়ে উত্তম।”
.
রাসূল ﷺ যে তাঁর স্ত্রীদের নিকট সবচেয়ে উত্তম ছিলেন তা স্ত্রীদের সাথে তাঁর উষ্ণ ও মমতাপূর্ণ আচরণই বলে দেয়। প্রতিদিন সকালে তিনি ফজরের পর স্ত্রীদের সাথে দেখা করতেন। তাদের খোঁজ-খবর নিতেন। আসরের পর তাদের সাথে আরেকবার দেখা করতেন। সে সময়ে কখনো তাদের জড়িয়ে ধরতেন, কখনো বা চুমু খেতেন।
.
স্ত্রীর মর্যাদা দিয়েছিলেন সর্বমোট এগারোজনকে। এর মধ্যে দু’জন তাঁর জীবদ্দশাতেই মারা গিয়েছিলেন। বাকি নয় জন স্ত্রীদের সাথে তিনি পালাক্রমে থাকতেন। এ ব্যাপারে কখনো অবিচার করতেন না। একজন স্ত্রী প্রতি নয় দিন পর তাঁর সাথে থাকার সুযোগ পেতেন। যদি নয় দিন পর পর তিনি স্ত্রীদের সাথে দেখা করতেন, তবে তা তাদের জন্য অনেক কষ্টকর হতো। শূন্যতাবোধ যাতে সৃষ্টি না হয়, সেজন্য তিনি প্রতিদিনই দু’বার করে তাদের সাথে দেখা করতেন। স্ত্রীরা তাই ভাবতেন, “রাসূল ﷺ তো সবসময় আমাদের সাথেই আছেন।” এখনকার সময়ে আমরা স্ত্রীদের অনুভূতির দিকে একেবারেই মনোযোগ দেই না। সারাদিন কাজ নিয়ে পড়ে থাকি। রাতের বেলা বিছানায় শরীর এলিয়ে দেই। অথচ তথ্য-প্রযুক্তির এই যুগে আমি চাইলে কিন্তু সহজেই পারি তাকে আমার অনুভূতির কথা অফিসে বসেই জানাতে। কাজের ফাঁকে তাকে ছোট্ট করে একটা মেসেজ দিয়ে রাখতে পারি। ভালোবাসার কথা জানাতে পারি।
.
যখন তিনি নতুন কাউকে বিয়ে করতেন, তখন সব স্ত্রীদের সাথে দেখা করতেন। তিনি জানতেন, স্ত্রী হিসেবে তাদের পক্ষে এটা মেনে নেয়া কষ্টকর। তাই দেখা করে যেন তাদের জানিয়ে দিতেন, “হয়তো নতুন একজনকে বিয়ে করেছি, কিন্তু তোমাদের কিন্তু একটুও ভুলে যাইনি। কখনো ভুলে যাবও না।”
.
সবার প্রথমে তিনি বিয়ে করেন খাদিজা (রা.)-কে। তখন তিনি পঁচিশ বছরের টগবগে যুবক। খাদিজা (রা.) এর বয়স ছিল চল্লিশ বছর। খাদিজা (রা.) এর সাথে একটানা পঁচিশ বছর ঘর করেছেন। এ সময়ে তিনি আর কাউকে বিয়ে করেননি। নিজের দাম্পত্য জীবনের দুই-তৃতীয়াংশই কেটেছে তাঁর খাদিজা (রা.) এর সাথে। তাই আবেগের একটি বড় অংশ ছিল খাদিজা (রা.)- কে ঘিরেই। সে ভালোবাসা মৃত্যুর পরেও শেষ হয়ে যায়নি। যখনই তাঁর সামনে খাদিজা (রা.) এর কথা উল্লেখ করা হতো, তাঁর মুখ উজ্জ্বল হয়ে যেতো। তিনি অকপটে স্বীকার করতেন, “আল্লাহ্‌ তায়ালাই তাঁর (খাদিজার) প্রতি ভালোবাসা আমার অন্তরে ঢেলে দিয়েছেন।”
.
সবচেয়ে বেশি ভালোবাসতেন আয়েশা (রা.)-কে। এমনকি আয়েশা (রা.)-ও ঈর্ষাকাতর হয়ে যেতেন বারবার রাসূল (সা.) এর মুখে খাদিজা (রা) এর প্রশংসা শুনে। একবার তো বলেই ফেললেন, “মনে হয় খাদিজা ছাড়া দুনিয়াতে কোন নারীই নেই।”
.
আরেকবার খাদিজা (রা.) এর বোন হালাহ (রা.) রাসূল ﷺ এর সাথে দেখা করার অনুমতি চাইলেন। তাঁর কণ্ঠস্বর ছিল অনেকটা খাদিজা (রা.) এর মতোই। সে কণ্ঠস্বর শুনে রাসূল ﷺ এর খাদিজা (রা.) এর কথা মনে পড়ে গেল। তিনি বললেন, “হালাহ হবে হয়তো।” আয়েশা (রা.) ঈর্ষাকাতর হয়ে বললেন, “আপনি কুরাইশের সেই দাঁত পড়ে যাওয়া মহিলাকে এখনো স্মরণ করেন! সে তো অনেক আগেই মারা গিয়েছে। আর আল্লাহ্‌ তায়ালা আপনাকে তাঁর চেয়েও উত্তম কাউকে দান করেছেন।” রাসূল ﷺ প্রচণ্ড রাগ করে জবাব দিলেন, “আল্লাহ্‌ তায়ালা আমাকে তার চেয়ে উত্তম বদলা দেননি। যখন সবাই আমাকে মিথ্যাবাদী বলেছে, তখন সে আমাকে সত্যবাদী বলেছে। যখন সবাই আমাকে বঞ্চিত করেছে, তখন সে আমাকে অর্থ দিয়ে সাহায্য করেছে। আর তার মাধ্যমেই আল্লাহ্‌ আমাকে সন্তান দান করেছেন।”
.
বদর যুদ্ধে রাসূল ﷺ এর মেয়ে যয়নাবের (রা.) স্বামী বন্দী হয়েছিলেন। যয়নাব তখন স্বামীর মুক্তিপণ হিসেবে গলার হার পাঠিয়েছিলেন। সে হার যয়নাব (রা.) এর বিয়ের সময় খাদিজা (রা.) নিজ গলা থেকে খুলে দিয়েছিলেন। রাসূল ﷺ এ হার দেখে নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলেন না। তাঁর চোখ পানিতে ভিজে গেলো। তিনি সাহাবীদের বললেন, “তোমরা যদি রাজি থাকো, তাহলে এ হার ফিরিয়ে দাও এবং বন্দীকে পণ ব্যতীতই বন্দীকে মুক্ত করে দাও।” যখনই কোন ছাগল জবাই করতেন, তখন খাদিজা (রা.) এর স্মরণে কিছু মাংস তাঁর বান্ধবীদের উপহারস্বরূপ পাঠাতেন। যদি বান্ধবী না পেতেন, তবে মদিনার পথে পথে খাদিজা (রা.) এর বান্ধবীদের খুঁজে বেড়াতেন। এমনকি যদি জানতেন, কেউ খাদিজা (রা.)-কে পছন্দ করতো, তাকেও তিনি উপহার পাঠাতেন।
.
রাসূল ﷺ ছিলেন ভীষণ রোমান্টিক একজন স্বামী। স্ত্রীদেরকে ভালোবাসার কথা অকপটে জানাতেন। রাতের বেলা আয়েশা (রা.) কে নিয়ে ঘুরতে বের হতেন। হালকা গল্প করতেন। দু’জন একসাথে দৌড় প্রতিযোগিতা করতেন। হেরে গেলে পরেরবার আয়েশা (রা.)-কে হারিয়ে তার প্রতিশোধ নিতেন। আয়েশা (রা.) পাত্রের যে দিক থেকে পান করতেন উনিও সেখান থেকে পান করতেন। আয়েশা (রা.) হাড্ডির যে স্থান থেকে কামড় দিয়ে খেতেন, উনি সেই স্থানেই কামড় দিয়ে খেতেন। একবার হাবশিরা যুদ্ধাস্ত্র নিয়ে খেলছিল। রাসূল ﷺ, আয়েশা (রা.)- কে চাদর দিয়ে ঢেকে দিলেন। তারপর আয়েশা (রা.) সে খেলা দেখতে থাকেন রাসূল ﷺ এর কাঁধ ও কানের মধ্যে দিয়ে। আয়েশা (রা.) যে খেলা দেখা খুব উপভোগ করছিলেন তা কিন্তু না। তিনি দেখতে চাইলেন রাসূল ﷺ কতোক্ষণ তার জন্য এভাবে দাঁড়িয়ে থাকেন। একসময় আয়েশা (রা.)-ই ধৈর্য হারিয়ে চলে গেলেন।
.
আরেকবার আয়েশা (রা.) তাকে বিশাল এক গল্প বলা শুরু করলেন। উনি ধৈর্য ধরে পুরো গল্পটা শুনে গেলেন। শুধু তাই না গল্প নিয়ে সুন্দর মন্তব্যও করলেন। মৃত্যুর ঠিক আগে আয়েশা (রা.) এর ব্যবহার করা মিসওয়াক তিনি ব্যবহার করেছিলেন। দুজনের লালা এক হয়ে গিয়েছিল। আর আয়েশা (রা.) এর কোলে মাথা রেখেই তিনি আল্লাহর কাছে প্রত্যাবর্তন করেন।
.
স্ত্রীদের আদর করে ছোট ছোট নামে ডাকতেন তিনি। কখনো ভালোবেসে আলাদা একটা নামই দিয়ে দিতেন। আয়েশা (রা.)-কে আদর করে ডাকতেন ‘হুমাইয়ারা’ (লাল-সুন্দরী) নামে। আয়েশা (রা.) কখনোই মা হতে পারেননি। তাই যখন তার বোন একটি ছেলে জন্ম দিয়েছিলেন, তখন রাসূল ﷺ বললেন, “ছেলেটার নাম হবে ‘আব্দুল্লাহ’। আর আজ থেকে তুমি হচ্ছো ‘উম্মে আব্দুল্লাহ’ (আব্দুল্লাহর মা)।’ সবাই এরপর থেকে আয়েশা (রা.)-কে ‘উম্মে আব্দুল্লাহ’ নামেই ডাকত। অনেকেই তাদের স্ত্রীকে আদর করে ‘ময়না-পাখি’, ‘জানু’- এসব নামে ডেকে থাকেন। তারা হয়তো জানেন না যে, নিজের অজান্তেই রাসূল (সা.) এর একটি সুন্নাহ তারা অনুসরণ করছেন।
.
সাফিয়া (রা.) ছিলেন খাটো গড়নের। তাই যখন তিনি বাহনে আরোহণ করতেন তখন রাসূল ﷺ তাকে ঢেকে দিতেন। তারপর হাঁটু বিছিয়ে দিতেন। সাফিয়া (রা.) সে হাঁটুতে পা দিয়ে বাহনে আরোহণ করতেন। প্রত্যেক স্ত্রীই তাঁর কাছে ছিলেন রাণীর মতো। একজন রাণী রাজার কাছ থেকে যতোটা মর্যাদা পায়, তাঁর স্ত্রীরা তার চেয়েও বেশি সম্মান পেতেন।
.
প্রিয়তমাদের অনুভূতির দিকেও রাসূল ﷺ সবসময় সজাগ দৃষ্টি রাখতেন। নিজের জীবনে দুঃখ-কষ্টের কোন শেষ ছিল না, তারপরেও স্ত্রীদের কষ্ট তাঁর চোখ এড়িয়ে যেতো না। একবার আয়েশা (রা.) কে বললেন, “আয়েশা! তুমি কখন আমার উপর সন্তুষ্ট হও, আর কখন রাগ করো, আমি কিন্তু ঠিকই বুঝতে পারি।” আয়েশা (রা.) অবাক হয়ে জানতে চাইলেন, “কীভাবে আপনি তা বোঝেন?” রাসূল ﷺ বললেন, “যখন আমার উপরে সন্তুষ্ট থাকো, তখন তুমি বলো, ‘এমন নয় মুহাম্মদের রবের কসম।' আর যখন কোন কারণে রাগ করো, তখন বলো, ‘এমন হয় ইব্রাহীমের রবের কসম।’
.
একবার সব স্ত্রীদের নিয়ে রাসূল ﷺ ভ্রমণে বের হলেন। হঠাৎ করেই সাফিয়া (রা.) এর উটটি অসুস্থ হয়ে বসে পড়ল। সাফিয়া (রা.) এ অবস্থা দেখে কেঁদে ফেললেন। তখন রাসূল ﷺ এসে তার চোখের জল নিজ হাত দিয়ে মুছে দিলেন।
.
বিদায় হজ্জের সময় তিনি লক্ষ্য করলেন আয়েশা (রা.) কাঁদছেন। তিনি বুঝতে পারলেন, আয়েশা (রা.) এর মাসিকের সময় শুরু হয়েছে। তাকে সান্তনা দিয়ে বললেন, “সকল নারীদের জন্যই আল্লাহ্‌ এটা নির্ধারিত করে দিয়েছেন। হজ্জ করতে যা করা প্রয়োজন তুমি তার সবই করো, শুধু তাওয়াফটা করো না।”
.
অনেক স্বামীই স্ত্রীদের মাসিক শুরু হলে তাদের অছ্যুৎ মনে করে দূরে দূরে থাকেন। রাসূল ﷺ মোটেও এমন করতেন না। আয়েশা (রা.) এর মাসিকের সময়েই তিনি তার কোলে মাথা রেখে শুয়ে থাকতেন। সে অবস্থাতেই তিনি রাসূল ﷺ এর চুল আঁচড়ে দিতেন। একরাতে তিনি মায়মুনা (রা.) এর সাথে একই চাদরের নিচে শুয়ে ছিলেন। হঠাৎ মায়মুনা (রা.) এর মাসিক শুরু হলে, তিনি দ্রুত উঠে পড়েন যাতে রাসূল ﷺ এর পবিত্র দেহে রক্ত না লাগে। রাসূল ﷺ সব বুঝতে পেরে তাকে ডেকে কাছে নিয়ে আসেন, দুজন আবার একই চাদরের নিচে শুয়ে থাকেন। স্ত্রীরা অসুস্থ হলে তিনি নিজে তাদের রুকিয়া করে দিতেন।
.
জীবনসঙ্গিনীদের কাজের বোঝা চাপিয়ে দিয়ে কষ্ট দিতেন না। নিজের কাজ নিজেই করতেন। নিজের জুতো নিজ হাতেই ঠিক করতেন, নিজের কাপড় নিজেই সেলাই করতেন, নিজেই নিজের কাপড় ধুতেন। ছাগলের দুধ দোয়াতেন। স্ত্রীদেরকে ঘরের কাজে সাহায্য করতেন। নবাব সাহেবের মতো পা তুলে শুধু স্ত্রীকে অর্ডারের পর অর্ডার দিয়ে যেতেন না। ঘন ঘন মিসওয়াক করতেন। সুগন্ধি ব্যবহার করতেন। শরীরে যাতে কোন দুর্গন্ধ না থাকে সে ব্যাপারে সজাগ দৃষ্টি রাখতেন।
.
কখনোই কোন নারীকে তিনি প্রহার করেননি। মানুষদেরকে স্ত্রীদের প্রতি সদয় হবার নির্দেশ দিতেন। বলতেন, “নারীদের সৃষ্টি করা হয়েছে পাজরের বাঁকা হাড় থেকে। যদি একেবারে সোজা করতে চাও, তাহলে কিন্তু ভেঙ্গে ফেলবে।” বিদায় হজ্জের ভাষণে তিনি পুরুষদেরকে নারীদের প্রতি সদাচারণের নির্দেশ দিয়ে গেছেন।
.

ধৈর্য্য সাফল্যের চাবি কিভাবে, জেনে নেই।


আমাদের প্রত্যেকের জীবনেই এমন একটা সময় আসে যখন আমরা কোনো কিছু পাওয়ার জন্য মারাত্মক রকমের ডেসপারেট হয়ে যাই। মনে করি এইটা না পেলে আমার জীবনটাই বুঝি শেষ। এনিহাউ এটা আমাকে পেতেই হবে। আর তখন আমরা সেই জিনিসটার জন্য আল্লাহর কাছে দিনরাত চাইতে থাকি, দোওয়া করি, নফল নামায পড়ি। আর আমরা মনে করি আমি যেহেতু আল্লাহর উপর বিশ্বাস করেছি, তার কাছে খালেস অন্তরে চেয়েছি, নিশ্চই তিনি আমাকে দিবেন। কিন্তু এতোকিছুর পরও আমরা যদি সেই জিনিসটা ফাইনালি না পাই, তখন আমাদের এই অনুভূতি হয় যে, এতো দোওয়া, জিকির, নামাযের পরও আল্লাহ আমার এই ছোট্ট চাওয়াটুকু পূরণ করলেন না!
** ঠিক এই রকমের মুহুর্তগুলির জন্যই শয়তান অপেক্ষা করে। আমাদেরকে আস্তে আস্তে নাস্তিকতার দিকে ঠেলে দেয়। আমরা কখনো এতোটাই এক্সট্রিমে চলে যাই যে আমাদের মনে সংশয়ের সৃষ্টি হয়, স্রস্টা যদি সত্যিই থেকে থাকতেন তাহলে নিশ্চয় তিনি আমার ডাক শুনতে পেতেন, আমাকে সাহায্য করতেন। আমাকে এইরকম অসহায়ভাবে ছেড়ে দিতেন না। আমার রাতের পর রাত তাহাজ্জুদের নামাযগুলো, আমার তাসবীহগুলো, আমার প্রতিদিনের তাঁর কাছে কান্নাকাটিগুলো, কই কিছুই তো তিনি শুনলেন না! তাহলে আমি কেনোই বা শুধু শুধু তার কাছে চাইতে যাবো?
** কিংবা কখনো যদি আমাদের উপর কোনো কঠিন বিপদ নেমে আসে। যেমন ধরা যাক জন্মের সময় সন্তানের মৃত্যু হলো। কিংবা কোনো পথ-দূর্ঘটনায় কেউ মারা গেলো। কিংবা কেউ দুরারোগ্য কোনো ব্যাধিতে আক্রান্ত হলো। অথচ যার উপর এই বিপদগুলো এলো সে হয়তো অনেক নেক-পরহেজগার ছিলো। দ্বীনদার ছিলো। নিয়মিত নামায পড়তো। ইচ্ছাকৃতভাবে এমন কোনো কাজ করতো না যাতে আল্লাহ অসন্তুষ্ট হন। আর তারই উপরে কিনা আল্লাহ এতো বড় বিপদ দিলেন?
কিংবা কখনো যদি প্রাকৃতিক দুর্যোগ হয়, যেমন বন্যা, ভুমিকম্প, সুনামী; আর সেখানে হাজার হাজার নিরপরাধ নর-নারী শিশু মারা যায়, যাদের মধ্যে হয়তো আমাদেরও প্রিয়জনেরা থাকে, আমরা তখন এগুলো সহজে মেনে নিতে পারি না।
আমরা তখন আল্লাহর ইচ্ছার উপর প্রশ্ন করতে শুরু করি, অভিযোগ করতে শুরু করি। তাকদীরে বিশ্বাস হারাতে শুরু করি। আল্লাহ কেনো এই নিরপরাধ মানুষগুলোকে এভাবে যন্ত্রণা দিলেন, কষ্ট দিলেন, মৃত্যু দিলেন? আল্লাহ যদি ন্যায়বিচারকই হবেন তো কেনো তিনি এই পৃথিবীর দুর্নিতীবাজ, সন্ত্রাসী আর শয়তান মানুষগুলোর ওপর তাঁর গজব না পাঠিয়ে বরং নিরীহ মানুষগুলোকে শাস্তি দিতে দিচ্ছেন?
আমি দেখেছি, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে আজ যে জেনোসাইড চলছে, লক্ষ লক্ষ নিষ্পাপ শিশুদের খুন করা হচ্ছে, ঘরবাড়ি ধ্বংস করা হচ্ছে, মা-বোনদের ধর্ষণ করা হচ্ছে, হত্যা করা হচ্ছে; কিংবা এরকম পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে মুসলিমরা কল্পনাতীতভাবে অত্যাচারীত হচ্ছে, এগুলো দেখে আমাদের অনেকের মনেই স্রস্টার বিরুদ্ধে হাজার রকমের প্রশ্ন জাগে। আমরা অভিযোগের পর অভিযোগ তুলি। “কেনো তুমি ওদের উপর এতো জুলুম করছো? কেনো তুমি ওদেরকে সাহায্য করছো না? তারা তোমার কী বিগড়ে ছিলো যে তুমি ওদের এতো কষ্ট দিচ্ছো? তুমি কি সত্যিই আছো?” নাউজুবিল্লাহ। আর এইভাবে আমরা এক-পা দু-পা করে নাস্তিকতার দিকে এগোতে থাকি!
আর এইরকমের চিন্তাভাবনা থেকেই কোনো এক নাস্তিক ফেসবুকে একদিন আপডেট দিয়েছিলো “ধর্ম যদি উপহার দেয় শিশু মৃত্যুর শোক, প্রতিটি মায়ের গর্ভে নাস্তিকের জন্ম হোক।” আর তার সেই পোস্টটা হাজার হাজার মানুষ শেয়ার করেছিলো, যার মধ্যে অনেক বেকুব, বর্বর,লম্পট নাম ধারি মুসলিমরাও ছিলো!
আসলে এইরকমের সব চিন্তা-ভাবনার মূলে আমার মতে একটাই কারন, সেটা হলো, ইসলাম সম্পর্কে সঠিক ইলমের অভাব। ঈমান, আকীদা, তাকদীর – ইসলামের এই ফানডামেন্টাল জিনিসগুলো সম্পর্কেই আমাদের সঠিক জ্ঞান নেই। যদিও আমরা মুখে বড় বড় সব কথা বলি। নিজেদেরকে পাক্কা মুসলিম বলে পরিচয় দিই। নামায-রোজাও করি। এমনকি ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে বুজুর্গের মতো ফেসবুকে তর্কবিতর্ক করি। অথচ দ্বীনের ন্যুনতম ইলম আমরা রাখি না। এটা এযুগের নব্য ফিতনাও বলা যায়।
আমাদের জেনে রাখা উচিত যে, ঈমান, আকীদা, তওহীদ, শিরক,বিদাত ,হালাল-হারাম, – দ্বীনের এইসমস্ত মৌলিক বিষয়গুলো সম্পর্কে যতটুকু ইলম হাসিল না করলেই নয় ততটুকু হাসিল করা প্রত্যেক মুসলিমের জন্য ফরজ। আজ আমাদের ঘরে ঘরে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, প্রোফেশার, উচ্চশিক্ষিত, বুদ্ধিজীবী; কিন্তু আমরা হয়তো এটাই জানি না যে ঈমানের কয়টি আরকান, কিংবা সঠিকভাবে সূরাহ ফাতিহাটাই উচ্চারন করতে জানি না!
তো যাকগে, আমাদের এইসব হাজার রকমের অভিযোগ আর প্রশ্নের উত্তরে ফিরে আসি।
আমাদের জেনে রাখা উচিত, আল্লাহ আমাদেরকে যে বিপদগুলি দেন সেগুলি সাধারণত দুই ধরনের – এক হলো আল্লাহর দিক থেকে আমাদের জন্য পরীক্ষা , আর দ্বিতীয়টা হলো শাস্তি (যেটাকে আমরা আল্লাহর ‘আযাব’ বা ‘গজব’ বলি)। আল্লাহ মানুষকে পরীক্ষা করেন তার জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে; এই পরীক্ষা বিপদ-আপদ, দুঃখ-কষ্ট, প্রাণহানি, রোগ-ব্যাধি, কিংবা ক্ষয়-ক্ষতির আকারে আসতে পারে; আবার আসতে পারে অতিরিক্ত সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য, যশ-খ্যাতি, আধিপত্য, কিংবা ধনসম্পদের প্রাচু্র্যের আকারেও। অন্যদিকে, আল্লাহ মানুষের উপর তখনই গজব পাঠান যখন মানুষ পাপ কাজ করে, মারাত্মক গোনাহে লিপ্ত হয়।
পরীক্ষার ব্যাপারে আমাদের জেনে রাখা উচিত যে, আমাদের এই পার্থিব জীবনটাই একটা পরীক্ষা। যে পরীক্ষার জন্য আল্লাহ তা’আলা আমাদেরকে সৃষ্টি করে পৃথিবীতে পাঠিয়েছন। যেটার ফল আমরা পাবো মৃত্যুর পর, পরকালের জীবনে। হয় জান্নাত, না হয় জাহান্নাম। পৃথিবীতে আমরা মেডিক্যাল বা ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে চান্স পাওয়ার জন্য এন্ট্রান্স এক্সাম দিই। কিংবা কোনো নামীদামী স্কুল-কলেজে ভর্তি হওয়ার জন্য অ্যাডমিশান টেস্ট দিই আবার চাকরির জন্য ssc,psc,msc ইত্যাদি । আর আমরা সকলেই এটা মানবো যে, যে পদটা যত বেশী গুরুত্বপূর্ণ, যত বেশী মূল্যবান হবে, তার জন্য পরীক্ষাটাও ততো বেশী কঠিন হবে। তো আপনি কি জান্নাতের মতো মহামূল্যবান একটি সম্পদকে অনন্তকালের জন্য পেতে চাইছেন কোনো রকমের পরীক্ষা না দিয়েই?
আল্লাহ তা’আলা বলছেনঃ

*****
সূরা আল বাকারা (البقرة), আয়াত: ২১৪
أَمْ حَسِبْتُمْ أَن تَدْخُلُوا۟ ٱلْجَنَّةَ وَلَمَّا يَأْتِكُم مَّثَلُ ٱلَّذِينَ خَلَوْا۟ مِن قَبْلِكُم مَّسَّتْهُمُ ٱلْبَأْسَآءُ وَٱلضَّرَّآءُ وَزُلْزِلُوا۟ حَتَّىٰ يَقُولَ ٱلرَّسُولُ وَٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ مَعَهُۥ مَتَىٰ نَصْرُ ٱللَّهِ أَلَآ إِنَّ نَصْرَ ٱللَّهِ قَرِيبٌ
উচ্চারণঃ আম হাছিবতুম আন তাদখুলুল জান্নাতা ওয়া লাম্মা-ইয়া’তিকুম মাছালুল্লাযীনা খালাও মিন কাবলিকুম মাছছাতহুমুল বা’ছাউ ওয়াদ্দাররাউ ওয়াঝুলঝিলূ হাত্তা-ইয়াকূলার রাছূলু ওয়াল্লাযীনা আ-মানূমা‘আহূ মাতা-নাসরুল্লা-হি আলা-ইন্না নাসরাল্লা-হি কারীব।
অর্থঃ তোমাদের কি এই ধারণা যে, তোমরা জান্নাতে চলে যাবে, অথচ সে লোকদের অবস্থা অতিক্রম করনি যারা তোমাদের পূর্বে অতীত হয়েছে। তাদের উপর এসেছে বিপদ ও কষ্ট। আর এমনি ভাবে শিহরিত হতে হয়েছে যাতে নবী ও তাঁর প্রতি যারা ঈমান এনেছিল তাদেরকে পর্যন্ত একথা বলতে হয়েছে যে, কখন আসবে আল্লাহর সাহায্যে! তোমরা শোনে নাও, আল্লাহর সাহায্যে একান্তই নিকটবর্তী।
***************************


সূরা আল বাকারা (البقرة), আয়াত: ১৫৫
وَلَنَبْلُوَنَّكُم بِشَىْءٍ مِّنَ ٱلْخَوْفِ وَٱلْجُوعِ وَنَقْصٍ مِّنَ ٱلْأَمْوَٰلِ وَٱلْأَنفُسِ وَٱلثَّمَرَٰتِ وَبَشِّرِ ٱلصَّٰبِرِينَ
উচ্চারণঃ ওয়ালানাবলুওয়ান্নাকুম বিশাইয়িম মিনাল খাওফি ওয়ালজূ‘ই ওয়ানাকসিম মিনাল আমওয়া-লি ওয়াল আনফুছি ওয়াছছামারা-তি ওয়া বাশশিরিসসা-বিরীন।
অর্থঃ এবং অবশ্যই আমি তোমাদিগকে পরীক্ষা করব কিছুটা ভয়, ক্ষুধা, মাল ও জানের ক্ষতি ও ফল-ফসল বিনষ্টের মাধ্যমে। তবে সুসংবাদ দাও সবরকারীদের।
********************
সূরা আল ইমরান (آل عمران), আয়াত: ১৮৬
لَتُبْلَوُنَّ فِىٓ أَمْوَٰلِكُمْ وَأَنفُسِكُمْ وَلَتَسْمَعُنَّ مِنَ ٱلَّذِينَ أُوتُوا۟ ٱلْكِتَٰبَ مِن قَبْلِكُمْ وَمِنَ ٱلَّذِينَ أَشْرَكُوٓا۟ أَذًى كَثِيرًا وَإِن تَصْبِرُوا۟ وَتَتَّقُوا۟ فَإِنَّ ذَٰلِكَ مِنْ عَزْمِ ٱلْأُمُورِ
উচ্চারণঃ লাতুবলাউন্না ফীআমওয়া-লিকুম ওয়া আনফুছিকুম ওয়ালা তাছমা‘উন্না মিনাল্লাযীনা ঊতুল কিতা-বা মিন কাবলিকুম ওয়া মিনাল্লাযীনা আশরাকূআযান কাছীরাওঁ ওয়া ইন তাসবিরু ওয়া তাত্তাকূফাইন্না যা-লিকা মিন ‘আঝমিল উমূর
অর্থঃ অবশ্য ধন-সম্পদে এবং জনসম্পদে তোমাদের পরীক্ষা হবে এবং অবশ্য তোমরা শুনবে পূর্ববর্তী আহলে কিতাবদের কাছে এবং মুশরেকদের কাছে বহু অশোভন উক্তি। আর যদি তোমরা ধৈর্য্য ধারণ কর এবং পরহেযগারী অবলম্বন কর, তবে তা হবে একান্ত সৎসাহসের ব্যাপার।
সুতরাং একজন মু’মিন সর্বদা প্রস্তুত থাকবে আল্লাহর দিক থেকে সমস্ত রকমের পরীক্ষার জন্য। কোনো দুরারোগ্য ব্যাধি হোক, দুর্ঘটনায় সন্তানের কিংবা প্রিয়জনের অকাল-মৃত্যু হোক, অন্যায়ভাবে তার উপর কিংবা পরিবারের উপর জুলুম হোক, অক্লান্ত পরিশ্রম করার পরও সে এক্সামে ফেইল হোক, তার সবচেয়ে নিজের কেউ তার সাথে প্রতারনা করুক – এইভাবে জীবনে যত রকমের বিপদই আসুক না কেনো সে এগুলোকে আল্লাহর দিক থেকে পরীক্ষা হিসেবে মনে করবে। আল্লাহর প্রতিটি ইচ্ছার উপর সে সন্তুষ্ট থাকবে। সবর করবে। অন্যদিকে কারো জীবনে যদি কোনো ধরনের বিপদ-আপদ না আসে, তাহলে তার সন্দেহ করা উচিত যে, সে ইসলামের সঠিক পথে আছে তো? কেননা একজন মু’মিনের জীবন কখনো এতো আরামদায়ক, ক্লেশহীন হওয়ার কথা না।
এখন সিরিয়ার /প্যালেস্টাইন ওই নিষ্পাপ শিশুগুলোর কথাই ভাবুন, যাদের প্রতিদিন হত্যা করা হচ্ছে মিসাইল, ড্রোন, কিংবা রাসায়নিক অস্ত্রের দ্বারা। কিংবা তাদের পিতামাতার কথা ভাবুন, যারা প্রতিদিন নিজের সন্তানের জানাযা পড়ছে। কিংবা ভাবুন রোহিঙ্গাদের কথা, যাদেরকে শুধুমাত্র মুসলিম পরিচয়ের জন্য পাশবিকভাবে খুন করা হচ্ছে, ধর্ষণ করা হচ্ছে, জীবন্ত গায়ে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আসলে এগুলো সবই আল্লাহর দিক থেকে তাদের জন্য যেমন পরীক্ষা, ঠিক তেমনি আমাদের জন্য তথা মুসলিম উম্মাহর জন্যও পরীক্ষা। তারা যদি এতে ধৈর্য্য ধারণ করে তাহলে "ইনশা-আল্লাহ" তারা কাল আখেরাতে শহীদের মর্যাদা পাবে। তারা বিনা হিসাবেই জান্নাতে প্রবেশ করবে। আর তাদের পিতামাতারা শহীদের পিতামাতা হিসেবে সম্মানিত হবেন। জান্নাতে নিজেদের মর্যাদা, সম্মান, আর আল্লাহর নিয়ামত দেখে তারা সেদিন ইচ্ছা প্রকাশ করবে যে, হায়! পৃথিবীতে এইরকম যদি হাজারবার নিহত হতাম!
এখন আপনি ভাবতে পারেন, তাই বলে শুধুমাত্র পরীক্ষা করার জন্য আল্লাহ তার বান্দার উপর এতো কঠিন বিপদ দেবেন? এমনকি নিষ্পাপ শিশুগুলোও তার থেকে রেহাই পাবে না?
এরকমটা আপনার এজন্যই মনে হচ্ছে যেহেতু আপনি দুনিয়াকে তার প্রাপ্যের চেয়ে অনেক বেশী মূল্য দিয়ে ফেলেছেন। জী হ্যাঁ। প্রকৃতপক্ষে আখেরাতের তুলনায় এই রঙীন পৃথিবীটা নেহাতই মূল্যহীন।
গ্রন্থঃ সূনান আত তিরমিজী [তাহকীককৃত]
অধ্যায়ঃ ৩৪/ দুনিয়াবী ভোগবিলাসের প্রতি অনাসক্তি (كتاب الزهد عن رسول الله ﷺ)
হাদিস নম্বরঃ ২৩২০
১৩. আল্লাহ তা’আলার নিকট পৃথিবীর মূল্যহীনতা ও তুচ্ছতা
২৩২০। সাহল ইবনু সা'দ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ্ তা'আলার নিকট যদি এই পৃথিবীর মূল্য মশার একটি পাখার সমানো হত তাহলে তিনি কোন কাফিরকে এখানকার পানির এক ঢোকও পান করাতেন না।
সহীহ, সহীহাহ (৯৪০)।
আবূ ঈসা বলেন, আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি সহীহ এবং উপরোক্ত সূত্রে গারীব।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih) যার দাম আল্লাহর কাছে একটা মাছির ডানা বরাবরও না! তাই পৃথিবীর এই ক্ষণস্থায়ী দুঃখ-কষ্ট কিংবা সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য আখারাতের সাপেক্ষে কিছুই না। এটা আপনি হয়তো আজ অনুভব করতে পারছেন না, কিন্তু কাল আখেরাতে ঠিকই বুঝতে পারবেন।
আনাস ইবনে মালিক (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ(সা) বলেন যে, পুনরুত্থানের দিন এমন একজন ব্যক্তিকে আনা হবে যে পৃথিবীতে আরাম-আয়েশ এবং প্রাচুর্যতার মধ্যে জীবন কাটিয়েছিলো কিন্তু এখন সে জাহান্নামের বাসিন্দা হবে। এই লোকটিকে একবার মাত্র জাহান্নামের আগুনে ডুবানো হবে এবং জিজ্ঞেস করা হবেঃ হে আদমসন্তান! তুমি কি (দুনিয়াতে) কোনও শান্তি বা কোনও সম্পদ পেয়েছিলে? সে উত্তর দিবেঃ আল্লাহর কসম! না, ও আমার রব! এবং এরপর এমন একজন ব্যক্তিকে আনা হবে যে জান্নাতের বাসিন্দা কিন্তু সে পৃথিবীতে সবচেয়ে দুর্বিষহ জীবন কাটিয়েছিলো। এই লোকটিকে জান্নাতে একবার মাত্র ডুবানো হবে এবং তাকে জিজ্ঞেস করা হবেঃ হে আদমসন্তান! তুমি কি (দুনিয়াতে) কোনও কষ্টের মধ্যে ছিলে? সে বলবেঃ আল্লাহর কসম! না, ও আমার রব! আমি দুনিয়াতে কখনোই কোনো কষ্টের সম্মুখীন হইনি বা কোনো দুর্দশায় পড়িনি। (সহীহ মুসলিম)
জী হ্যাঁ, এক মুহূর্তের জান্নাতের স্বাদের কাছে দুনিয়ার পাহাড় পরিমাণ কষ্টও নগন্য। অপরদিকে এক মুহূর্তের জাহান্নামের আযাবের কাছে পৃথিবীতে রাজা-বাদশাহের মতো আরাম-আয়েশও নগন্য।
জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ‘’কিয়ামতের দিন ভোগবিলাসে জীবন-যাপনকারীরা যখন দেখবে বিপদ-মুসীবতগ্রস্ত লোকদেরকে সাওয়াব দেওয়া হচ্ছে, তখন তারা আক্ষেপ করে বলবে, হায়! যদি দুনিয়াতেই তাদের চামড়া কাঁচি দিয়ে কেটে ফেলা হতো। (তিরমিযি ২৪০২)
মনে করুন, ফেরাউনের স্ত্রী, বিবি আসিয়ার কথা। যখন তার চোখের সামনে একে একে তার সন্তানদেরকে ফুটন্ত তেলে ফেলে দেওয়া হচ্ছিলো, কই তিনি তো কোনো অভিযোগ করেন নি। কিংবা মনে করুন, সুরাহ বুরুজে বর্ণিত ওইসব মু’মিনদের কথা, যখন তারা ঈমান হারানোর চেয়ে আগুনে ঝাপ দেওয়াকেই শ্রেয় মনে করেছিলো, কই তারাও তো কোনো অভিযোগ করে নি। যখন খাব্বাবকে (রাঃ) জলন্ত অঙ্গারের উপর চিত করে রেখে দেওয়া হতো, আর আগুনে পুড়ে পিঠের চর্বিগুলো গলে জলন্ত অঙ্গারগুলোকে নিভিয়ে দিতো, যার জন্য তার পিঠে বড় বড় গর্ত তৈরে হয়েছিলো; কই তিনি তো বলেন নি, হে আল্লাহ! কেনো এতো শাস্তি দিচ্ছো আমাকে? কিংবা যখন বিলালকে (রাঃ) তপ্ত মরুভূমিতে শুইয়ে বুকের উপর পাথর চাপিয়ে দেওয়া হতো, কই তিনিও তো বলেন নি, হে আল্লাহ! কেনো এতো শাস্তি দিচ্ছো আমাকে?
সা’দ ইবন আবি ওয়াক্কাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (সাঃ)-কে একবার জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর নবী! কোন ধরনের লোককে বিপদ-আপদ দিয়ে সবচেয়ে বেশী পরীক্ষা করা হয়? রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ ‘’নবীদেরকে। তারপর তাদের পরে যারা উত্তম তাদেরকে। মানুষকে আপন আপন দ্বীন দারীর অনুপাতে পরীক্ষা করা হয়। দ্বীন দারীতে যে যত বেশী মজবুত হয় তার উপর বিপদ মুসিবত তত বেশী কঠিন হয়। দ্বীনের ব্যপারে যদি মানুষের দুর্বলতা থাকে, তার বিপদও ছোটো ও সহজ হয়। এভাবে তার উপর বিপদ আসতে থাকে। আর এ নিয়েই সে মাটিতে চলাফেরা করতে থাকে। পরিশেষে এমন একটা সময় আসে যখন তার কোনো গুনাহই অবশিষ্ট থাকে না।’’ (তিরমিযি ২৩৯৮, ইবন মাযাহ ৪০২৩)
সুতরাং জীবনে যত বড়ই দুঃখ-কষ্ট-বিপদ আসুক না কেনো, হতাশ হবেন না, ভেঙ্গে পড়বেন না, অভিযোগ করবেন না; বরং সন্তুষ্টচিত্তে আল্লাহর সিদ্ধান্তকে মেনে নেন, সবর করুন। বরং সন্তুষ্ট হন, কেননা “আল্লাহ যখন কাউকে ভালবাসেন, তখন তাকে পরীক্ষা করেন।” (আহমাদ)
রাসূলুল্লাহ (সা) বলেনঃ কোনো ঈমানদারের উপর যখন কোনো ক্লান্তি, অসুখ, দুঃখ, বেদনা, আঘাত, যন্ত্রণা আসে, এমনকি তার যদি একটা কাঁটার খোঁচাও লাগে – এর জন্যও আল্লাহ তার কিছু গুনাহ মাফ করে দেন। (সহীহ বুখারী)
রাসূলুল্লাহ (সা) আরো বলেনঃ মু’মিনের ব্যাপারটা আশ্চর্যজনক, তার সাথে যা ঘটে তা-ই তার জন্য কল্যাণকর। যখন আনন্দদায়ক কিছু ঘটে তখন সে আল্লাহকে শুকরিয়া জানায় এবং এটা তার জন্য আরো ভালো হয়। এবং যখন তার কোনো বিপদ হয় তখন সে ধৈর্য ধরে এবং এটা তার জন্য আরো ভালো হয়। আর এরকম হয় শুধুমাত্র মু’মিনের ক্ষেত্রে। (সহীহ মুসলিম)
অন্যদিকে কোনো বিপদ-আপদ যখন আল্লাহর গজব বা শাস্তি হিসেবে আমাদের উপর আপতিত হয় তাহলে মনে রাখতে হবে, এটা আমাদেরই গোনাহের ফল। আল্লাহ তা’আলা কোরআনে বলেন, “
সূরা আশ্‌-শূরা (الشّورى), আয়াত: ৩০
وَمَآ أَصَٰبَكُم مِّن مُّصِيبَةٍ فَبِمَا كَسَبَتْ أَيْدِيكُمْ وَيَعْفُوا۟ عَن كَثِيرٍ
উচ্চারণঃ ওয়ামাআসা-বাকুম মিম মুসীবাতিন ফাবিমা-কাছাবাত আইদীকুম ওয়া ইয়া‘ফূ‘আন কাছীর।
অর্থঃ তোমাদের উপর যেসব বিপদ-আপদ পতিত হয়, তা তোমাদের কর্মেরই ফল এবং তিনি তোমাদের অনেক গোনাহ ক্ষমা করে দেন।
এখন আমাদের উপর কোনো বিপদ আল্লাহর পক্ষ থেকে পরীক্ষা হিসেবে আসুক কিংবা শাস্তি হিসেবেই আসুক – দুটোই মু’মিনদের জন্য রহমত স্বরূপ। কেননা এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে পরীক্ষাস্বরূপ হলে আমরা যদি তাতে ধৈর্য ধারণ করি তাহলে এর বিনিময়ে আমাদের জন্য রয়েছে মহা পুরষ্কার। অন্যদিকে এটা যদি আল্লাহর পক্ষ থেকে শাস্তিস্বরূপ হয় তাহলে যে গোনাহের জন্য এই শাস্তি দেওয়া হয়েছে এই শাস্তির বিনিময়ে সেই গোনাহকে দুনিয়াতেই মাফ করে দেওয়া হয়। সেইসাথে আশা করা যায় যে, এতে আমরা নিজেদের গোনাহের ব্যাপারে সতর্ক হবো, আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইবো, আর ভবিষ্যতে এই গোনাহ থেকে বিরত থাকবো।
আমি এমন অনেক কাউকেই দেখেছি, যে হয়তো একসময় আরাম আয়েশে ডুবে দ্বীন থেকে পুরোপুরি গাফেল হয়ে জীবন কাটাতো। অতঃপর কোনো এক কঠিন বিপদ আসার পর তার জীবনটা আমূল বদলে গেলো। সে নিজের ভুল বুঝতে পারলো এবং আল্লাহর দিকে অভিমুখী হলো।
এখন কারো মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, আল্লাহ তাহলে ওই সব অবিশ্বাসী, জালিম, রক্তপিপাসু, বর্বর, অত্যাচারীদের শাস্তি দিচ্ছেন না কেনো, যারা মানুষের উপর জুলুম করছে, অন্যায়-অবিচার করছে, হত্যা করছে, ধর্ষন করছে, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে, ফিতনা ছড়াচ্ছে। তারা তো বরং আয়েশ ফুর্তি করে জীবন কাটাচ্ছে। সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য, গাড়ি-বাড়ি, ধনসম্পদ, মান-যশ, প্রভাব-প্রতিপত্তি, আধিপত্য সবই আছে তাদের। তারা বরং মানুষের নেতৃত্ব দিচ্ছে, সবাই বরং তাদেরই তোষামোদ করছে! কই, তাদের তো আল্লাহ পাকড়াও করছেন না? একজন সাধারণ মানুষ যখন তার চোখের সামনে এই রকম চিত্র দেখতে পাই যে, নিরপরাধ, সৎ, স্রস্টাতে বিশ্বাসী, ভালো মানুষগুলোকে তাদের সততার মাশুল দিতে হচ্ছে, অত্যাচারিত হতে হচ্ছে; অন্যদিকে ওই নরপাশন্ডরা, স্রস্টাতে অবিশ্বাসীরা, আরাম-আয়েশে জীবন কাটাচ্ছে; তাহলে এইরকম পরিস্থিতিতে একজন মানুষ কি করে স্রস্টাতে বিশ্বাস করবে? কি করে সে মনে করবে যে, আল্লাহ হলেন ন্যায়পরায়ণকারী, তিনি কারো উপর জুলুম করেন না?
ঠিকআছে, আমি আপনাকে এক মুহূর্তের জন্য কল্পনা করতে বলবো এমন এক পৃথিবীর কথা যেখানে কেউ পাপ করলেই, কোনো অন্যায়-অপরাধ করলেই আল্লাহ তাকে সাথে সাথে শাস্তি দেন। মনে করুন, যে স্রস্টাকে অবিশ্বাস করবে তার জমিতে আল্লাহ বৃষ্টি দেবেন না। কিংবা ধরুন, যে প্রতিমা পূজা করবে সে বাতাস থেকে অক্সিজেন টেনে নিতে পারবে না। কিংবা যেকেউ একটা মিথ্যা কথা বললো, সঙ্গে সঙ্গে সে বোবা হয়ে গেলো। কেউ কোনো দুর্বলের উপর হাত উঠালো, সাথে সাথে তার হাত প্যারালাইজড হয়ে গেলো। কেউ কাউকে অন্যায়ভাবে খুন করলো, সাথে সাথে সে মারাত্মক যন্ত্রনায় কাতরাতে কাতরাতে মাটিতে লুটিয়ে পড়লো, আর মারা গেলো। এইরকমভাবে মনে করুন, প্রত্যেক অপরাধের জন্য স্রস্টা যদি অপরাধীকে ইন্সট্যান্ট শাস্তি দেন, আর এটাই যদি প্রকৃতির নিয়মের মতো একটা নিয়ম হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে ভাবুন তো আমাদেরকে যে পরীক্ষার জন্য পৃথিবীতে পাঠানো হয়েছে সেটা কি তখন আদৌ কার্যকরী হবে? কারন চোখের সামনে এই অলৌকিক ঘটনাগুলো দেখলে তখন ‘ঈমান বিল গাইব’, অর্থাৎ ‘না দেখে বিশ্বাস’ জিনিসটাই থাকবে না। মনে করুন আমাদের চোখের সামনে যদি আজ জান্নাত-জাহান্নামকে এনে দেওয়া হয় তাহলে আমরা কি তখন আর ঈমানের ভিত্তিতে কোনো কাজ করবো? বরং আমরা যা করবো পুরোটাই আমাদের চর্মচক্ষুতে দেখার উপর ভিত্তি করে। তখন তো ঈমান জিনিসটাই মূল্যহীন হয়ে যাবে। তাহলে আমাদের ‘না দেখে বিশ্বাস’-এর পরীক্ষাটাই আর থাকলো কোথায়? সেইসাথে তখন তো আমরা আমাদের free will অনুযায়ী আর কাজ করবো না, বরং আমরা তখন অনেকটা বাধ্য হয়েই সবকিছু করবো ঠিক যেমনটা স্রস্টা চান, আমাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে, অনেকটা রোবটের মতো। তাহলে আমাদের free will এর পরীক্ষাটাই আর থাকলো কোথায়?
তাই এইরকম একটা কাল্পনিক পৃথিবীতে আল্লাহ তা’আলা আমাদেরকে পাঠান নি। বরং তিনি আমাদেরকে স্বাধীনতা দিয়েছেন, ক্ষমতা দিয়েছেন, free will দিয়েছেন। আমরা নিজের ইচ্ছামতো যা কিছু করার ক্ষমতা রাখি। আপনি স্রস্টাতে অবিশ্বাসী হতে পারেন, আপনি প্রতিমা পূজারী হতে পারেন, আপনি মুনাফিক হতে পারেন, আল্লাহ আপনাকে ছূট দিয়েছেন, আপনাকে স্বাধিনতা দিয়েছেন। ন্যায়, অন্যায়; ঠিক, বেঠিক; ভালো, মন্দ – দু’টো রাস্তায় আমাদের সামনে খোলা। এখন আমাদের জন্য পরীক্ষা এটাই যে, আমরা নিজেদের মন মোতাবেক, স্রেফ নিজেদের খাহেশ মেটাতে আমাদের যা ভালো লাগে সেটা করছি, না আমাদের স্রস্টা যেটাকে ঠিক বলেছেন, যেটাকে ন্যায় বলেছেন আমরা সেটা করছি, যদিও সেটা আমাদের ইচ্ছাবিরুদ্ধ হয়। এটাই আমাদের free will এর পরীক্ষা। স্রস্টাকে না দেখেই তাঁর প্রতি আমাদের বিশ্বাস এর পরীক্ষা।
আর এই পরীক্ষাটাকে আরেকটু নিখুঁত করার জন্য তিনি পৃথিবীকে এমনভাবে সাজিয়েছেন, যেখানে ন্যায়ের পথে, হকের পথে, সততার পথে মানুষকে কষ্ট পোহাতে হয়; অন্যদিকে অসৎ পথে, বাতিলের পথে, অন্যায়ের পথে বড়ই আনন্দ আর মজা পাওয়া যায়। আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “জান্নাত দুঃখ-কষ্ট ও শ্রমসাধ্য বিষয় দ্বারা ঘেরা এবং জাহান্নাম কু-প্রবৃত্তি ও লোভ-লালসা দ্বারা ঘেরা।” (সূনান আত-তিরমিজী, অধ্যায়ঃ ৩৬, হাদীসঃ ২৫৫৯)
নাহলে আল্লাহ চাইলেই পারতেন এমন একটা পৃথিবী তৈরি করতে যেখানে কেউ কোনো গোনাহ করতে পারতো না। কোনো অন্যায়-অপরাধ করতে পারতো না। যেখানে কোনো দুঃখ থাকতো না, কষ্ট থাকতো না, কারো উপর কোনো জুলুম হতো না। যেখানে সবাই সুখী হতো। যেখানে কোনো গরীবী থাকতো না, অনাহার থাকতো না। যেখানে কোনো অসুখ থাকতো না। বার্ধক্য থাকতো না। পঙ্গুত্ব থাকতো না। মৃত্যু থাকতো না। কিন্তু এরকম একটা পৃথিবী হলে তখন আর পরীক্ষার কোনো মূল্যও থাকতো না। বিচারদিবস, পরকাল, জান্নাত-জাহান্নাম – এগুলো তৈরি করাও অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়তো!
তাই আল্লাহকে যখন না দেখে বিশ্বাস করেছেন, তখন তাঁর প্রতিটি সিদ্ধান্তে আত্মসমর্পণ করুন। তাকদীরের প্রতিটি জিনিসের উপর সন্তুষ্ট থাকুন। আপনার বিশ্বাসের ভিতটাকে দুর্বল হতে দেবেন না। আল্লাহ আপনাকে সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য দান করলে, তাঁর নিয়ামত আস্বাদন করালে অহংকারী হবেন না, উদ্ধত হবেন না; তাঁর সুখরিয়া আদায় করুন, কৃতজ্ঞ হন। আর আপনাকে বিপদ-আপদ দিলে অভিযোগ করবেন না, হতাশ হবেন না; ধৈর্য ধরুন, সবর করুন।
আল্লাহ আমাদের সকলকে বোঝার তৌফীক দিন। 'আমিন'
ফেসবুক থেকে সংগৃহীত